সন্ধান ২৪.কম:২০২০ সালের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের সংগীত ক্যাটাগরি থেকে সংগীত পরিচালক বেলাল খানের নাম কেটে মোহাম্মদ আশিকুর রহমান ওরফে এম এ রহমানের নাম সংযুক্ত করে প্রকাশের আহ্বানে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিবকে এ নোটিশে পাঠানো হয়েছে। আজ রোববার মোহাম্মদ আশিকুর রহমানের পক্ষে তাঁর আইনজীবী মেজবা উদ্দীন শরীফ নোটিশ পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
নোটিশে বলা হয়, মোহাম্মদ আশিকুর রহমান ওরফে এম এ রহমান প্রায় ১০ বছর ধরে সফলতার সঙ্গে বাংলাদেশের মিউজিক ইন্ডাস্ট্রিতে সংগীত পরিচালক হিসেবে কাজ করছেন। এ পর্যন্ত তাঁর পরিচালনায় দুই শতাধিক গান প্রকাশিত হয়েছে।
মোহাম্মদ আশিকুর রহমানের সংগীত পরিচালনায় বেলাল খান প্রায় ৩০টি গানের কাজ করেন। এভাবেই তাঁদের ঘনিষ্ঠতা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় আশিকুর রহমান ২০১৯ সালের নভেম্বরে বেলাল খানের গাওয়া ‘হৃদয়জুড়ে’ চলচ্চিত্রের ‘বিশ্বাস যদি যায় রে ভেঙে’ গানটির সংগীত পরিচালনা করেন। কিন্তু দুঃখজনক বিষয়, ২০২২ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ২০২০ প্রজ্ঞাপনের ১৩ নম্বর ক্রমিকে বর্ণিত সংগীত পরিচালক হিসেবে আশিকুর রহমানের পরিবর্তে বেলাল খানের নাম প্রকাশ করা হয়। অথচ গানটি সম্পূর্ণ মোহাম্মদ আশিকুর রহমানের সংগীত পরিচালনায় সৃষ্টি হয়েছে, যা সংশোধন হওয়া একান্ত প্রয়োজন।
নোটিশে আরও উল্লেখ করা হয়, ওই গান ইউটিউবে প্রকাশিত হওয়ার পর আশিকুর রহমান প্রতিবাদ করলে বেলাল খান আশিককে অ্যারেঞ্জার অবিহিত করে বলেন, ‘সংগীত পরিচালকের আধুনিক অর্থ অ্যারেঞ্জার, অর্থাৎ তুমিই তো এই গানের সংগীত পরিচালক।’
এ ছাড়া ‘পাষাণ’ চলচ্চিত্রে ‘যদি কখনো’ শিরোনামের গানে সংগীত পরিচালক হিসেবে আশিকুর রহমানের নামের পরিবর্তে বেলাল খান তাঁর নাম ব্যবহার করেন বলেও অভিযোগ করা হয়। নোটিশে বলা হয়, সেখানেও আশিকুর রহমান প্রতিবাদ করলে বেলাল খান গানটি তাঁর নিজস্ব ইউটিউব চ্যানেলে প্রকৃত সংগীত পরিচালক অর্থাৎ আশিকুর রহমানের নামটি প্রকাশ করেন।
এ অবস্থায় উপরিউক্ত বিষয়টি বিবেচনা করে সংগীত পরিচালক হিসেবে বেলাল খানের নাম কর্তন করে ওই গানের প্রকৃত সংগীত পরিচালক অর্থাৎ মোহাম্মদ আশিকুর রহমান ওরফে এম এ রহমানের নাম প্রকাশ করতে অনুরোধ করা হয়েছে নোটিশে। অন্যথায় এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। অন্যদিকে আইনি নোটিশ হাতে পাওয়ার পর হাতিরঝিল থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন শিল্পী বেলাল খান, জিডি নম্বর ১১৩৫।
মোহাম্মদ আশিকুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘বেলাল খানের সঙ্গে আমি তিন বছর কাজ করেছি। সব গানেই মিউজিক এম এ রহমান, সুর করেছেন বেলাল খান। কিন্তু ২০১৮ সালে “পাষাণ” ছবির গানের ক্ষেত্রে এ ছবির মতো ঘটনা ঘটেছিল। ওই ছবির একটি গানের মিউজিক করেছিলাম। সেখানে সব ক্রেডিট তাঁর নামে ছিল। একদম শেষে প্রোগ্রামিংয়ে আমার নাম ছিল। সে সময় আমি বলেছিলাম, আমার নাম প্রোগ্রামিংয়ে কেন? তখন তিনি বলেছিলেন, এটি ফিল্মের টার্ম। এর মানেই সংগীত পরিচালক। তুমি রাগ করো না, আমার চ্যানেল থেকে যখন বের করব, তখন সংগীত পরিচালক হিসেবে তোমার নাম দিয়ে দেব। পরে সংশোধন করে দিয়ে দিয়েছিলেন। একই ঘটনা ঘটেছে “হৃদয়জুড়ে” সিনেমার গানে। আমার নাম মিউজিক অ্যারেঞ্জমেন্টে লেখা হয়েছে। গানটি একটি ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশের পর বললাম, “ভাই মিউজিক আমি করলাম, আমার নাম অ্যারেঞ্জমেন্টে কেন? তিনি বললেন, “যাঁরা গানটি ইউটিউবে তুলেছেন তাঁরা হয়তো ভুল করেছেন। পরে আমি ফোনে তাঁদের বলে ঠিক করে দেব। এখন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের প্রজ্ঞাপন জারি না হলে আমি জানতামই না, মুভি রিলেটেড গানে আমাকে কেন তিনি ইগনোর করেন, আমার ক্রেডিট দিতে চান না। তাঁর সঙ্গে এত গান করলাম, সব জায়গায় সংগীত পরিচালক আমি। কিন্তু দুটি সিনেমায় আমার সঙ্গে তিনি বিট্রে করেছেন।’
এমন অভিযোগ প্রসঙ্গে বেলাল খান বলেন, ‘অন্য হাতে আইনি নোটিশ আমার হাতে এসেছে। একটা সম্মানকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য সে যা যা করার দরকার, তা-ই করছেন। আমি পরিষ্কার করে বলি, গানটি আমার গাওয়া, সুর করা ও সংগীত পরিচালনা করা। সংগীত পরিচালনার স্বার্থে আমি তাঁর সংগীত অ্যারেঞ্জমেন্টের একটা পার্ট এখানে রেখেছি। সে ছাড়াও আরও মিউজিশিয়ান কাজ করেছেন এখানে। আমি গানে সেই ক্রেডিট তাঁকে দিয়েছি। গানটি আজ থেকে আড়াই বছর আগে প্রকাশিত হয়েছে। এই আড়াই বছরে একবারও বলেননি যে তিনি সংগীত এই গানের সংগীত পরিচালক। যখন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের জুরিবোর্ড আমাকে এই সম্মান দিলেন, তখন কেন তিনি বিষয়টি নিয়ে কথা বলছেন? ব্যক্তিগতভাবে আমাকে ছোট করার উদ্দেশ্যে।’


