সন্ধান ডেস্ক : পশ্চিমবঙ্গে বসে রাজধানী দিল্লি, মুম্বই, কলকাতা সহ দেশের বিভিন্ন বড় শহরে হামলার ছক করেছিল । জঙ্গি সংগঠন আল-কায়েদার এই ষড়যন্ত্র বানচাল করে দিল এনআইএ। শনিবার সকালে তাদের হাতে ধরা পড়ল পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা ৯ জন সন্দেহভাজন জঙ্গি ।
গোয়েন্দা সূত্রে জানা গিয়েছে, এই জঙ্গি নেটওয়ার্ক তৈরি হয়েছিল অনলাইনে। সদস্য সংগ্রহের জন্য প্রত্যেক সন্দেহভাজন জঙ্গিই সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে আট-দশটি ফেক প্রোফাইল ব্যবহার করত। এরকম একটি প্রোফাইল ট্র্যাক করে মুর্শিদের কাছে পৌঁছয় এনআইএ।
ধৃতদের মধ্যে তিনজনকে কেরলের এর্নাকুলাম থেকে গ্রেপ্তার করেছেন গোয়েন্দারা। নাম—মুর্শিদ হাসান, ইয়াকুব বিশ্বাস, মোশারফ হোসেন। মুর্শিদাবাদের ডোমকল থেকে গ্রেপ্তার করা হয় বাকি ছ’জনকে। নাম—নাজমুস শাকিব, আবু সুফিয়ান, মইনুল মণ্ডল, লিউ ইয়ান আহমেদ, আল-মামুন কামাল ও আতিউর রেহমান। গঙ্গারামপুরের বাসিন্দা নাজমুস কম্পিউটার সায়েন্সের দ্বিতীয় সেমেস্টারের পড়ুয়া। জলঙ্গির ঘোষপাড়ার আতিউরও বিএ পড়ুয়া। নওদাপাড়ার আল-মামুন এবং জলঙ্গির মইনুল পেশায় রাজমিস্ত্রি। লকডাউনে তারা কেরল থেকে ফিরেছিল। রানিনগরের কালীনগর থেকে গ্রেপ্তার হওয়া আবু সুফিয়ান গ্রামে দর্জির কাজ করত। লিউ ইয়ান একটি বেসরকারি কলেজে ইলেক্ট্রিশিয়ান পদে কর্মরত। কেরল থেকে ধৃত রানিনগরের বাসিন্দা, পেশায় রাজমিস্ত্রি মুর্শিদই আল-কায়েদার এই আন্তঃরাজ্য মডিউলের মূল পাণ্ডা বলে দাবি এনআইএয়ের। ধৃতদের বাড়ি থেকে দেশি আগ্নেয়াস্ত্র, বিস্ফোরক তৈরির সামগ্রী, ডিটোনেটর, ল্যাপটপ সহ ডিজিটাল ডিভাইস, ধারালো অস্ত্র, দেশীয় কায়দায় তৈরি বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট, আইইডি তৈরির ফর্মুলা এবং বিভিন্ন জেহাদি নথি উদ্ধার হয়েছে। এই ৯ জন জঙ্গির নামে রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগে দিল্লিতে মামলা দায়ের করেছে এনআইএ।
গোয়েন্দা সূত্রে জানা গিয়েছে, তাঁদের মডিউলের নিজস্ব গ্রুপে ঢোকায় মুর্শিদ। ধীরে ধীরে গ্রুপের বাকি সদস্যদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ চলে। নিশ্চিত হয়েই অভিযানে নামে এনআইএ। প্রথমে কেরল থেকে গ্রেপ্তার করা হয় মুর্শিদকে। পরে বাকিদের। সূত্রের খবর, ১৫ দিন আগে থেকেই মুর্শিদাবাদে রেইকি শুরু করে এনআইএ। শুক্রবার রাতে গোয়েন্দাদের ৮টি টিম ঘিরে ফেলে ছ’জনের বাড়ি। আলো ফুটতেই গ্রেপ্তার করা হয় তাদের।
কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের দাবি, এই আন্তঃরাজ্য মডিউলের মূল কার্যকলাপ চলে কেরল, পশ্চিমবঙ্গ, তামিলনাড়ু, অন্ধ্রপ্রদেশ, বেঙ্গালুরু এবং অসমে। পাকিস্তানের অঙ্গুলিহেলনেই কাজ করে এই গ্রুপ। ধৃত ৯ জনের সঙ্গেই পাকিস্তানের শীর্ষ নেতৃত্বের নিয়মিত কথোপকথন চলত। মাধ্যম ছিল মূলত ভিওআইপি (ভয়েস ওভার ইন্টারনেট প্রোটোকল) কল। ব্যবহার করা হতো টর বা ওনিয়ন রাউটার। অর্থাৎ, ডার্ক ওয়েব। জানা গিয়েছে, বাংলাদেশে সেনা অভ্যুত্থানের ছক কষে অপসারিত ‘মেজর জিয়া’ এখন ‘আল-কায়েদা ইন সাব কন্টিনেন্ট’-এর প্রধান। বাংলাদেশ থেকে মুর্শিদাবাদ, মালদা সীমান্তে চলছে সদস্য সংগ্রহ অভিযান। নতুন সদস্যদের প্রায় প্রত্যেকেই রাজমিস্ত্রির কাজ করে। কেরলে এই কাজ করতে যাওয়া ছেলেদের দলে টানত মুর্শিদ। কাশ্মীরে কাজ করতে যাওয়া রাজমিস্ত্রিদেরও সদস্য হিসেবে নেওয়া হয়েছে। সুত্র : বর্তমান


