সন্ধান২৪.কমঃ বাংলাদেশের বাহিরে প্রবাসী বাঙালিদের সবচেয়ে বড় সংগঠন বাংলাদেশ সোসাইটির মতবিনিময় সভায় তাদের বন্ধ্যাত্ব কাটিয়ে আবার নতুন রূপে,নতুন আঙ্গীকে সংগঠনকে গতিশীল করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে। গত ১৩ ফেব্রুয়ারি দুপুরে জ্যাকসন হাইটসের নবান্ন পার্টি হলে সোসাইটি এই সভার আয়োজন করে।
সোসাইটির সভাপতি মোহাম্মদ রব মিয়ার সভাপতিত্বে স্বাগত ও লিখিত বক্তব্য দেন সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন সিদ্দিকী। আগামী দিনের দিকনিদের্শনামূলক বক্তব্য দেন ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান এম আজিজ । অনষ্ঠানের সূচনা বক্তব্য ও পুরো অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক রিজু মোহাম্মদ।

সভায় মঞ্চে ছিলেন বাংলাদেশ সোসাইটির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান এম আজিজ, ট্রাস্টি আজিমুর রহমান বুরহান, ওয়াসি চৌধুরী ও কামাল পাশা বাবুল,সভাপতি মোহাম্মদ রব মিয়া,জেষ্ঠ্য সহ-সভাপতি মহিউদ্দিন দেওয়ান,সহ-সভাপতি ফারুক চৌধুরী,সাধারণ সম্পাদক মো.রুহুল আমিন সিদ্দিকী, কোষাধ্যক্ষ মোহাম্মদ নওশেদ হোসেন। এছাড়াও সোসাইটির অন্য নেতাদের মধ্যে ছিলেন আবুল কালাম ভূইয়া, মাইনুল উদ্দিন মাহবুব,শাহনাজ আলম লিপি,আবুল বাসার ভুইয়া, মোহাম্মদ আখতার বাবুল,শাহ মিজানুর রহমান,রিজু মোহাম্মদ, আলমগীর খান আলম প্রমুখ।
মতবিনিময় সভায় নবনির্বাচিত কমিটি আগামী দুই বছরের একটি কর্মপরিকল্পনা উপস্থাপন করা হয়। সেটি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে তারা কাজ করে যাচ্ছে বলে জানানো হয়। এই কর্মসূচি সফল করার জন্য সভা থেকে তারা সাংবাদিকদের সহায়তা কামনা করেছেন।
সেখানে সম্পাদক ও সাংবাদিকরাও বাংলাদেশ সোসাইটির কর্মপরিকল্পনায় নতুন নতুন বিষয় সম্পৃক্ত করার জন্য মতামত ও পরামর্শ দেন।
সভাপতি তার বক্তব্যে বলেন, আমরা আশা করছি, বাংলাদেশ সোসাইটির কর্মপরিকল্পনায় বিভিন্ন দিকে সম্পৃক্ত করতে আপনারা সহযোগিতা করবেন। এ জন্য আপনাদের পরামর্শ ও মতামত গুরুত্বপূর্ণ। সেই সঙ্গে এটিও গুরুত্বপূর্ণ যে বাংলাদেশ সোসাইটির ইমেজ নিয়ে যে সংকট তৈরি হয়েছে, সেই সংকট দূর করে সোসাইটির হারানো ইমেজ যাতে পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হয়, সে জন্য সাংবাদিকদের সহায়তা কামনা করছি।

সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন সিদ্দিকী লিখিত বক্তব্য দেন। তিনি তার বক্তব্যে সংগঠনের কর্মপরিকল্পনার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, বাংলাদেশ সোসাইটির বর্তমান কার্যকরী পরিষদ দায়িত্ব¡ গ্রহণের পর থেকে আমরা নানা পদক্ষেপ হাতে নিয়েছি সংগঠনের অতীত গৌরবময় সময়ে ফিরিয়ে নিতে। এ ব্যাপারেও আপনাদের পরামর্শ এবং সহযোগিতা কামনা করছি।
তিনি বলেন,বাংলাদেশ সোসাইটির জন্মলগ্ন থেকে এখন পর্যন্ত সোসাইটির সুখে-দুঃখে সব সময় যেভাবে আমাদের পাশে থেকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন, তার জন্য আপনাদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা। বিশেষ করে, গত চার বছর ধরে নির্বাচন-সংক্রান্ত জটিলতার সময় আপনাদের সহযোগিতা বাংলাদেশ সোসাইটি চিরকাল মনে রাখবে। নিঃসন্দেহে বিগত দিনগুলোতে নানা কারণে বাংলাদেশ সোসাইটি অনেকটা ইমেজ সংকটে পড়েছে, সেই ইমেজ সংকট কাটাতে আমরা আপনাদের সহযোগিতা কামনা করছি।
রুহুল আমিন সিদ্দিকী বলেন, আমাদের মেয়াদকাল পর্যন্ত কমপক্ষে এক হাজার আজীবন সদস্য বানানোর সর্বাত্মক চেষ্টা করব। এখনো যারা সোসাইটির আজীবন সদস্যপদ গ্রহণ করেননি, তাদের তা গ্রহণ করে সোসাইটিকে সহযোগিতা করার জন্য তিনি উপস্থিত সবার প্রতি অনুরোধ জানান।
তিনি জানান, বাংলাদেশ সোসাইটির আয়োজনে আগামী ২০ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করা হবে। এতে সবার সহযোগিতা ও উপস্থিতি কামনা করেন তিনি।
সংগঠনের সভাপতি সভাপতি মোহাম্মদ রব মিয়া বিভিন্ন কর্মপরিকল্পনা সফল করার জন্য সবার সহযোগিতা কামনা করে বলেন, আমরা অনেক পরিকল্পনা গ্রহন করছি। কমিউনিটির সহযোগিতায় সেসব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করব। তিনি বলেন,সিটি মেয়রের অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা আদায় করার জন্য। তিনি বলেন, আমরা চেষ্টা করছি কবর, ইমিগ্রেশন ও কনস্যুলেট সংক্রান্ত বিভিন্ন ধরনের সমস্যার বিষয়ে বাঙালি কমিউনিটিকে সহযোগিতা করতে। তিনি কবর কেনার প্রকল্প সফল করার জন্য সবার প্রতি অনুরোধ জানান। তিনি বলেন, আমরা আপাতত এক হাজার লাইফ মেম্বার করতে চাই। লাইফ মেম্বার হওয়ার অর্থ দিয়ে কবর কেনার প্রকল্প সফল হতে পারে।
ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান এম আজিজ গত নির্বাচনের আগে মামলার বিষয়টি তুলে ধরেন এবং মামলার রায় সোসাইটির পক্ষে আনার পেছনে তার ভূমিকার কথা জানান। পাশাপাশি তিনি সোসাইটির সভাপতি থাকাকালে যেসব সফল উদ্যোগ নেন, তা-ও তুলে ধরেন। এম আজিজ,সোসাইটির সিনিয়র সেন্টার, ডে কেয়ার সেন্টার এবং বাংলাদেশ সেন্টার করার ব্যাপারে নিউইয়র্ক সিটির মেয়রের সহযোগিতা নেওয়া যেতে পারে বলে, আশা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, আমরা সিটির কাছ থেকে বাংলাদেশ সেন্টারের জন্য কম মূল্যে কিংবা ফ্রি-তে একটি জায়গা নিতে পারি।
সবশেষে সম্পাদক ও সাংবাদিকেরা তাদের মতামত তুলে ধরেন। সোসাইটির কর্মপরিকল্পনায় কী কী বিষয় সম্পৃক্ত করা প্রয়োজন, তা তুলে ধরেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, ভালো কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ নিউইয়র্কের সামাজিক-আঞ্চলিক সংগঠনগুলো বছরে একবার পুরস্কৃত করা, নিউইয়র্কে বাংগালির ইতিহাস-ঐতিহ্য নিয়ে একটি তথ্য ভিত্তিক বই প্রকাশ করা, মূলধারার সঙ্গে কাজ করার জন্য সমন্বিত প্রকল্প প্রণয়ন, কল্যাণকর কাজ করার পরিকল্পনা নেওয়া, সব ধর্ম-বর্ণের মানুষ যাতে সহায়তা পান তা নিশ্চিত করা, সোসাইটির ভোটারদের স্থায়ী সদস্যপদ দেওয়া, গঠনতন্ত্র সংশোধন, জেলা-উপজেলাসহ অঞ্চলভিত্তিক সংগঠনগুলোকে সোসাইটির ছাতার নিচে নিয়ে আসা প্রভৃতি।
অনুষ্ঠানে শাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শাহ জে চৌধুরী বাংলাদেশ সোসাইটির ফিউনারেল প্রকল্পের জন্য পাঁচ হাজার ডলারের চেক প্রদান করেন। সেই সঙ্গে সোসাইটির বিভিন্ন প্রকাশনা শাহ জে. চৌধুরীর প্রকাশনী সংস্থা থেকে বিনা মূল্যে প্রকাশ করার ঘোষণা দেন।
অনুষ্ঠানের শেষে সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন সিদ্দিকীর জন্মদিন উপলক্ষে কেক কাটা হয়।


