সন্ধান২৪.কম :জীবন কাটছে বন্দিদশায়। মুক্ত সংশোধনগার হলেই বা কী! আসলে তো বন্দি। তবে কল্পনা, সৃজনশীল ক্ষমতাকে তো আর বেঁধে রাখা যায় না। আর তেমনই হয়েছে।
জীবনের একটা বড়সড় সময়ে হারিয়ে গিয়েছে। পরিবার থেকে দূরে থাকা আর তেমন দাগ কাটে না মনে। কথার ফাঁকে বলে ফেললেন, ‘ব্যথার ঘর বন্ধ।’

শনিবার সেই ঘটনার সাক্ষী রইল দুর্গাপুর। সেখানকার মহম্মদ নাসির আলি দেখিয়ে দিলেন শিল্পীর মুক্তি সৃষ্টিতে। কলকাতার মেটিয়াবুরুজের এই মানুষটির ঠিকানা এখন দুর্গাপুর মুক্ত উপসংশোধনাগার। কিন্তু জীবনে চলার পথে কখনও থেমে থাকেননি নাসির। হাতের কাজে খুব নাম ছিল মেটিয়াবুরুজের নাসির আলির।
যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত মুহাম্মদ নাসির ভারতের দুর্গাপুর মুক্ত উপ-সংশোধনাগারের আছেন । তাকে দিয়ে গতকাল শনিবার কালীপূজার দিন মন্দির চত্বরে আলপনা দেওয়ালেন দুর্গাপুরের কোকআভেন থানার নডিহা রোডের একটি কালী মন্দির কর্তৃপক্ষ।
কলকাতার মেটিয়াবুরুজের বাসিন্দা মুহাম্মদ নাসির একজনকে হত্যা মামলায় ২০০৬ সালে যাবজ্জীবন সাজা পান। লকডাউনের আগে তাকে স্থানান্তরিত করা হয় দুর্গাপুরের ওই সংশোধনাগারে। মন্দির কর্তৃপক্ষ বলছে, একদিকে সমাজের সব স্তরের মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং অন্যদিকে সম্প্রীতির বার্তা দিতেই তাদের এই উদ্যোগ।
সম্প্রতি প্রায় ছয় মাসের জন্য বাড়িও গিয়েছিলেন তিনি। গত ১ নভেম্বর দুর্গাপুরে ফিরেছেন। আলপনা দিতে দিতেই তিনি সাংবাদিকদের জানান, ছোট থেকেই গ্যারেজে কাজ করতেন। সেখানে গাড়ি রং করার কাজ শেখেন। এক সময় শুধু গাড়ি নয়, যে কোনো রঙের কাজেই তিনি সিদ্ধহস্ত হয়ে ওঠেন।


