সন্ধান২৪.কমঃ পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ভোট গণনার পর থেকে বাংলাদেশের গণমাধ্যম উচ্ছ্বাসে ভেসে যাচ্ছে মমতার জয়গানে । বাংলাদেশের একটি প্রথম সারির দৈনিকের পোর্টালের পাতায় ভেসে উঠল— ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের ‘অব কি বার, দোশো পার’ স্লোগান বুমেরাং হয়ে গেল। অন্য একটি জনপ্রিয় ওয়েবসাইট তখন তথ্য-পরিসংখ্যান দিয়ে জানাচ্ছে, ‘রাজধানী কলকাতা-সহ পশ্চিমবঙ্গের ৬টি জেলায় খাতা খুলতে পারেনি বিশ্বের বৃহত্তম দল বিজেপি’।
বিজেপি-র পরাজয় এবং তৃণমূলের জয়ের পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় বাম এবং কংগ্রেসের নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়ার খবরও সোমবার বাংলাদেশের নানা সংবাদপত্রে এসেছে। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় বিজেপির পরাজয় মোদি,অমিত শাহ, যোগি আদিত্যনাথদের কারণে হয়েছে সে সংবাদও কিছু সংবাদপত্রে এসেছে। দু্ই/ সংবাদপত্র বলেছে, এর জন্য মোদি ও অমিতের পদত্যাগ করা উচিত।
বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম সবসময় ভারতের খবরকে একটু আলাদা গুরুত্ব দেয়। ২০১৮ সালে ত্রিপুরার বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি-র বিপুল জয়ের পর উদ্বেগের সুর ধরা পড়েছিল বাংলাদেশের নানা টিভি চ্যানেল, সংবাদপত্র, ওয়েব পোর্টালে। সঙ্গত কারণেই এ বারের বিধানসভা ভোটের আগে সেই ‘উদ্বেগ’ ছিল অনেকটাই বেশি। পশ্চিমবঙ্গে ভোট-পর্বের মাঝে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বাংলাদেশ সফর নিয়েও সে দেশের সংবাদমাধ্যমের ‘তৎপরতা’ ছিল চোখে পড়ার মতো। এই পরিস্থিতিতে ২০০ আসন পার করে দিদির জয়ের পরে ‘চাপমুক্তি’র ছাপ পড়েছে প্রকাশিত নানা খবরে।
প্রথম দল গড়েই পিরজাদা আব্বাস সিদ্দিকির একটি বিধানসভা আসনে জেতার কথা গুরুত্ব দিয়ে লিখেছে সে দেশের প্রধান বিরোধী দল বিএনপি ঘনিষ্ঠ একটি সংবাদপত্র। তবে এরই মধ্যে বাংলাদেশের ‘বাম মনস্ক’ একটি সংবাদপত্রে সোমবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে লেখা হয়েছে, তৃণমূলের ক্ষমতায় প্রত্যাবর্তনের ফলে ভারতে ধর্মনিরপেক্ষতা রক্ষা পেলেও ১০ বছর ধরে ঝুলে থাকা তিস্তা জলবণ্টন চুক্তি ফের হিমঘরে যাওয়ার আশঙ্কা রয়ে গেল।


