ডলারের রিজার্ভ নিরাপদ রাখতে ডিজেলভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যে কারণে ১০৮০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ঘাটতিতে পড়তে যাচ্ছে বাংলাদেশ।
আর সেই ঘাটতি পোষাতে মসজিদগুলোর এসি বন্ধ রাখার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী।
বর্তমান পরিস্থিতিকে যুদ্ধাবস্থার সঙ্গে তুলনা করে জ্বালানি উপদেষ্টা বলেন, ৮টার পর দোকানপাট বন্ধ থাকবে। কেউ খোলা রাখলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মসজিদে এসি ব্যবহার বন্ধ থাকবে। সরকারি অফিসের সময় কমানো ও সভা অনলাইনে করা হবে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সোমবার বিদ্যুৎ বিভাগের বিভিন্ন কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন জ্বালানি উপদেষ্টা ড. তৌফিক ই ইলাহী চৌধুরী।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউসের সভাপতিত্বে বৈঠকে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ বিভাগের সিনিয়র সচিব, বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় সিনিয়র সচিব, বিদ্যুৎ বিভাগের সচিবসহ শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারা।
বৈঠক শেষে ড. তৌফিক ই ইলাহী বলেন, ডিজেলে বিদ্যুৎ উৎপাদন স্থগিত রাখা হলো। ফলে এক থেকে দেড় হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুতের ঘাটতি হবে। দিনে এক থেকে দেড় ঘণ্টা কোথাও কোথাও দুই ঘণ্টা লোডশেডিং হবে।
বৈঠকে অফিস আওয়ার এগিয়ে আনা, যানবাহনে জ্বালানি সাশ্রয় করতে কর্মকর্তাদের গাড়ি ব্যবহার কমানোর বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে। একাধিক কর্মকর্তার জন্য পৃথক গাড়ি ব্যবহার না করে কয়েকজন মিলে একটি গাড়ি ব্যবহার করা যায় কিনা তার সম্ভব্যতা যাচাই করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। একান্ত অপরিহার্য না হলে সব বৈঠক ভার্চুয়াল করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিপিসিকে মোট আমদানির ২০ শতাংশ কমানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধের জন্য এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এটি দীর্ঘমেয়াদি নয়। কালকে (মঙ্গলবার) থেকে এসব সিদ্ধান্ত কার্যকর করব।
প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, লোডশেডিংয়ের সময় আগে থেকে গ্রাহকদের জানিয়ে দেওয়া হবে। গাড়িতে তেল কম ব্যবহার করতে পদক্ষেপ নেওয়া হবে। আমাদের সাশ্রয়ী হতে হবে।
