সন্ধান২৪.কম : মাকে হত্যা ও প্রমাণ লোপাটের দায়ে ছেলে আকাশ পান্ডেকে (১৬) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গোপালগঞ্জের পুলিশ বৃহস্পতিবার কোটালীপাড়া উপজেলার রাধাগঞ্জ, কালিকাবাড়ি ও ভাঙ্গারহাটে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে। সে ভাঙ্গারহাট তালিমপুর তেলিহাটি উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র।
শুক্রবার বিকাল ৫ টায় গোপালগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হুমায়ুন কবিরের আদলতে আকাশ পান্ডে স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি দিয়ে মাকে হত্যার কথা স্বীকার করেছ। আকাশ পান্ডে কোটালীপাড়া উপজেলার রাধাগঞ্জ ইউনিয়নের কালিকাবাড়ি গ্রামের মনোরঞ্জন পান্ডের ছেলে।
আকাশপান্ডে মাকে হত্যার পর প্রমাণ লোপাটের জন্য মায়ের লাশ পুড়িয়ে দিয়েছে জানিয়ে আদালতকে বলে, গত ২৬ জুন রাত সাড়ে ১০ টায় বাড়িতে ফিরে আমি ভাত খেতে চাই। এ সময় ছোট বোন ঘরে ঘুমিয়ে ছিলো। বাবা ভাঙ্গারহাট বাজারের নৈশ প্রহরীর ডিউটিতে ছিলেন। মা হাসি রানী পান্ডে আমাকে ভাত দিতে গিয়ে ক্ষিপ্ত হয়ে হঠাৎ প্লেট ছুড়ে মারে। ভাতের পাতিল লাথি মেরে ফেলে দেয়। এক পর্যায়ে আমি চিৎকার চেচামেচি করলে মা বটি দিয়ে আমাকে কোপাতে আসে। আমি জ্বালানি কাঠ দিয়ে মায়ের মাথায় পেছনে আঘাত করি। এতে মায়ের মৃত্যু হয়। আমি ভয় পেয়ে যাই। এর আগে প্রবল বর্ষণ হয়। তাই আশপাশে কোনো মানুষ জন ছিলো না। লাশ কোলে করে নৌকায় তুলি। বাড়ি থেকে অর্ধ কিলোমিটার দুরে নিয়ে একটি উচু জায়গা লাশ নৌকা থেকে নামিয়ে রাখি। পরে পাশের বাড়ি থেকে লুকিয়ে পাটখড়ি ও জ্বালানি কাঠ এবং নিজেদের ঘর থেকে কেরসিন নিয়ে গভীর রাতে মায়ের লাশ পুড়িয়ে দেই। পরে মাকে পোড়ানো কয়লা, ছাই, নৌকা পরিষ্কার ও গোসল করে বাড়ি ফিরে এসে ঘুমিয়ে পড়ি।
গোপালগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোহাম্মদ ছানোয়ার হোসেন জানান, আকাশ পান্ডের বাবা মনোরঞ্জন পান্ডে (৩৭) ভাঙ্গারহাট বাজারে নিরাপত্তা প্রহরীর কাজ করেন। ২৬ জুন রাতে নৈশ প্রহরীর ডিউটি শেষে ২৭ জুন সকালে মনোরঞ্জন বাড়িতে ফিরে স্ত্রীকে ঘরে দেখতে না পেয়ে ছেলে-মেয়ের কাছে জানতে চায় তাদের মা কোথায় গেছে? উত্তরে ছেলে-মেয়ে বলে মা মামা বাড়িতে গেছে। মনোরঞ্জন তার শ্বশুর বাড়িসহ আত্মীয়-স্বজনদের বাড়িতে খোঁজ নিয়ে স্ত্রীর সন্ধান পাননি।


