সন্ধান২৪.কম : মামলার গ্যাঁড়াকলে থমকে গেল বহু আলোচিত বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন । গত ২৩ অক্টোবর অপরাহ্নে নিউ ইয়র্কের কুইন্স সুপ্রিম কোর্ট এক রায়ে নির্বাচনের ওপর স্থগিতাদেশ দিয়েছে।
নির্বাচনের বিরুদ্ধে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করার পরবর্তী শুনানী হবে তারিখে আগামী ৫ নভেম্বর। সোসাইটির নির্বাচন স্থগিত চেয়ে এই মামলা করেছিলেন সোসাইটির সাবেক কর্মকর্তা ওসমান এ চৌধুরী। আর মামলার বিবাদী হলেন,সভাপতি আতাউর রহমান সেলিম, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী, প্রধান নির্বাচন কমিশন আবু নাসের ও কোষাধক্ষ্য মফিজুল ইসলাম ভুঁইয়া।

গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যা ৮টায় বাংলাদেশ সোসাইটির নিজস্ব অফিসে প্রধান নির্বাচন কমিশন আবু নাসের সংবাদ সম্মেলন করে এই তথ্য জানান।
সংবাদ সম্মেলন সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন আবু নাসের ছাড়াও সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী ও নির্বাচন কমিশন মো: রুহুল আমিন সরকার।
এসময় নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনার বদরুল হক খান ,মো: শামসুদ্দিন আজাদ, আহবাব চৌধুরী ও মোহাম্মদ দুলাল মিয়া উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনের শুরুতেই প্রধান নির্বাচন কমিশন আবু নাসের বলেন, আজকেই এই দিনটি বাংলাদেশ সোসাইটির ইতিহাসে এক কালো দিন, কারণ মামলা করার মধ্য দিয়ে সোসাইটির কাঙ্খিত নির্বাচন আপাতত বন্ধ হয়ে গেল।
তিনি তার বক্তব্যের শেষে বলেন, বাংলাদেশ সোসাইটির বিরুদ্ধে মামলা করার অপসংস্কৃতি থেকে আমাদের বের হয়ে আসতে হবে। এর জন্য বাংলাদেশ সোসাইটিসহ নিউইয়র্কের সবাই এগিয়ে আসতে হবে।
এক প্রশ্নের উত্তরে আবু নাসের বলেন, এই মামলায় নির্বাচনের তারিখ পরিবতর্নের ফলে ২৫ অক্টোবরের জন্য যে আইভিএম মেশিন ভাড়া করা হয়েছিল তার কোন অতিরিক্ত ভাড়া দিতে হবে না। তবে যে মিলনায়তনগুলো ভাড়া করা হয়েছে , তার ভাড়ার ব্যাপারে মিলায়তনের মালিকদের সাথে কথা বলতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে আবু নাসের ও মোহাম্মদ আলী বলেন,মামলা বাদী সোসাইটির সাবেক কর্মকর্তা ওসমান চৌধুরী বিনা পয়সায় আজীবন সদস্য হওয়াসহ বেশ কয়েকটি অযৌক্তিক দাবী জানান, যা সোসাইটির গঠনতন্ত্র মেনে পুরণ করা সম্ভব নয়।
ওসমান আলীর এই অন্যায় আবদার পুরণ না করার জন্যই তিনি মামলা করেন বলে ধারনা করা হচ্ছে।
একটি সুত্র থেকে জানা যায়, এই মামলার বাদী ওসমান চৌধুরী ভোটার হবার আবেদন করেছিলেন কিন্তু তা নাকচ করা হয়েছে। এছাড়া, সদস্য তালিকাভুক্তি এবং একই ঠিকানায় শতশত প্রবাসীর ভোটার হবার অভিযোগ ছাড়াও ২৭৫ জন ভোটার ব্যবহার করেছেন একটি ফোন নম্বর-৬৪৬-৬৩৩-৭১৬৮। একইভাবে ২৩১ জনে ৬৪৬-৬৪৪-৩৫১৭, ২৩০ জনে ৩৪৭-৬৩৬-৫১৫৩, ২২৩ জনে ৭১৮-৪৩৭-৮০০০, ২০৭ জনে ৯১৭-৪৪২-৯০০২ টেলিফোন নম্বর ব্যবহার করেছেন।
প্রসঙ্গত: উল্লেখ্য, ৩৫ হাজার ২৬৯ ভোটারের এই নির্বাচন নিউইয়র্ক সিটির বাংলাদেশী অধ্যুষিত কুইন্স, ব্রুকলীন, ব্রঙ্কসে ৫টি কেন্দ্রে ২৫ অক্টোবর হবার কথা ছিল। কিন্তু মামলার কারনে ভোট স্থগিত হলো।
সেলিম-আলী এবং কুনু-ফিরোজ প্যানেল সরাসরি লড়ছে ২১টি পদের জন্য লড়ছেন। প্যানেলের বাইরে সাধারণ সম্পাদক পদে লড়ছেন একজন-রাব্বি সেয়দ।
আরো উল্লেখ্য, ৫০ বছরের পুরনো নিউইয়র্ক তথা উত্ত্বর আমেরিকায় সর্ববৃহৎ এই সংগঠনে এবারই সবচেয়ে বেশী প্রবাসী ভোটার হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়েছেন।