কারণ
১. মাড়ি দিয়ে রক্ত পড়ার প্রধান ও অন্যতম কারণই হচ্ছে নিয়মিত দাঁত ব্রাশ না করা। এ কারণেই দাঁতের ওপর লেগে থাকা খাদ্যকণাগুলোর সাদা প্রলেপ পড়ে, একে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় ডেন্টাল প্লাগ। ২৪ ঘণ্টা পর এ ডেন্টাল প্লাগ শক্ত হয়ে ক্যালকুলাস হয়। এ ক্যালকুলাসই মাড়ি দিয়ে রক্ত পড়ার অন্যতম কারণ।
২. ক্যালকুলাস দাঁত ও মাড়ির মাঝখানে অবস্থান করে এবং প্রতিনিয়ত নরম মাড়ির সঙ্গে ক্যালকুলাসের ঘর্ষণের কারণে খুব সহজেই মাড়ি দিয়ে রক্ত পড়ে। মাড়ির ফোলা এবং প্রদাহের কারণও এ ক্যালকুলাস। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় জিনজিভাইটিস।
৩. ক্রমশই জিনজিভাইটিস বেড়ে গিয়ে যখন প্রকট আকার ধারণ করে, তখন একে বলা হয় পেরিওডন্টাইটিস। এ অবস্থায় দাঁতটা ধীরে ধীরে মাড়ি থেকে সরে যায় এবং নড়তে থাকে।
তা ছাড়া জোরে জোরে দাঁত ব্রাশ করা, গর্ভাবস্থায় হরমোনের প্রভাব, ঠিকমতো কৃত্রিম দাঁত না বসা, লিউকেমিয়া, ভিটামিন সি ও কে-র ঘাটতি ইত্যাদি কারণেও মাড়ি দিয়ে রক্ত পড়তে পারে।
মাড়ি দিয়ে রক্ত পড়ার প্রতিকার
এই সমস্যা প্রাথমিক যত্নের মাধ্যমে সারিয়ে তোলা সম্ভব। তবে অনেক সময় যদি ভালো না হয় তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করতে হবে।
১. প্রতিদিন সঠিক নিয়মে সকালে নাশতা করার পর ও রাতে ঘুমোতে যাওয়ার আগে দুইবার দাঁত ব্রাশ করতে হবে।
২. ভালো মানের পেস্ট ও ব্রাশ ব্যবহার করতে হবে। দীর্ঘদিন এক টুথপেস্ট ব্যবহার করা উচিত নয়।
৩. ডেন্টাল ফ্লাশ ব্যবহারের মাধ্যমে দুই দাঁতের মাঝখানে লেগে থাকা খাদ্যকণা দূরীভূত করতে হবে।
৪. নিয়মিত ভিটামিন সি-সমৃদ্ধ খাবার খেতে হবে। যেমন- আমলকী, কমলালেবু, বাতাবিলেবু, আমড়া ইত্যাদি।
৫. লবণ-গরম পানিতে কুলকুচি করতে হবে।
৬. ছয় মাস পরপর সরকার স্বীকৃত একজন ডেন্টিস্টের পরামর্শ নিন এবং সঠিক নিয়ম মেনে চলুন। খুব সহজেই এ সমস্যা থেকে পরিত্রাণ পেতে পারেন।
৭. প্রতিবছর অন্তত একবার সরকারিভাবে স্বীকৃত ডেন্টিস্টের কাছ থেকে ডেন্টাল স্কেলিং ও পলিশিংয়ের মাধ্যমে মাড়ি থেকে ক্যালকুলাস সরিয়ে ফেলুন। ⛘


