সন্ধান২৪.কমঃ রাজধানী ঢাকার গুলশানে কলেজ ছাত্রী মোসারাত জাহান মুনিয়ার রহস্যজনক মৃত্যুর পর চরিত্র হননের ষড়যন্ত্র বন্ধসহ নিরপেক্ষ ও প্রভাবমুক্ত তদন্ত এবং সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে ৫ মে বুধবারগাইবান্ধা জেলা সামাজিক প্রতিরোধ কমিটির উদ্যোগে এক মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। জেলা শহরের ডিবি রোডে আয়োজিত এই সমাবেশ থেকে অবিলম্বে আসামী সায়েম সোবহান আনভিরকে গ্রেফতারের দাবি জানান।

মানববন্ধন চলাকালে বক্তব্য রাখেন, ওয়াকার্স পার্টি পলিট ব্যুরোর সদস্য আমিনুল ইসলাম গোলাপ, সিপিবির প্রেসিডিয়াম সদস্য মিহির ঘোষ, পরিবেশ আন্দোলন সভাপতি ওয়াজিউর রহমান রাফেল, উদীচী সভাপতি জহুরুল কাইয়ুম, জেলা জাসদের সাধারণ সম্পাদক জিয়াউল হক জনি, সাংস্কৃতিক কর্মী দেবাশীষ দাশ দেবু, সামাজিক সংগ্রাম পরিষদের সদস্য সচিব জাহাঙ্গীর কবীর তনু, জেলা বারের সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম বাবু, জেলা মহিলা পরিষদের সভাপতি মাহফুজা খান মিতা ও সাধারণ সম্পাদক রিকতু প্রসাদ, নারী মুক্তি কেন্দ্রের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নিলুফার ইয়াসমিন শিল্পী, মাছরাঙ্গা টিভির জেলা প্রতিনিধি সিদ্দিক আলম দয়াল, বাংলাদেশ নারী মুক্তি কেন্দ্রের জেলা সভাপতি রোকেয়া খাতুন, উন্নয়ন কর্মী জয়া প্রসাদ, সাংস্কৃতিক কর্মী শিরিন আক্তার, ৭১ টিভির জেলা প্রতিনিধি শামীম আল শাম্য, বৈশাখী টিভির জেলা প্রতিনিধি এসএম বিপ্লব, সময় টিভির ষ্টাফ রিপোর্টার হেদায়েতুল ইসলাম বাবু, কর্মজীবি নারীর সহ-সভাপতি আফরোজা বেগম লুপু, জেলা ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি ওয়ারেস সরকার প্রমূখ।
বক্তারা বলেন, মুনিয়ার লিখে যাওয়া ডায়েরী, কল রেকর্ড, ছবি, ভিডিও সহ নানা ধরণের প্রমাণ থাকার পরও মামলার আসামী বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সায়েম সোবহান আনভির কেন এখনও গ্রেফতার হচ্ছে না তা সকলকে ভাবিয়ে তুলছে। বক্তারা অবিলম্বে আসামী সায়েম সোবহান আনভিরকে গ্রেফতার ও মুনিয়ার রহস্যজনক মৃত্যুর সুষ্ঠু ও প্রভাব মুক্ত তদন্ত এবং সুষ্ঠু বিচারের দাবি জানান।
বক্তারা বলেন, মুনিয়া নামের মেয়েটিকে আত্মহত্যা করতে বাধ্য করা হয়েছে, মেয়েটির চরিত্র হনন করা হচ্ছে। আমরা দুঃখের সঙ্গে লক্ষ্য করছি যখনি কোন নারী নির্যাতনের শিকার হয়, ধর্ষিত হয় তখন হত্যাকারীকে দোষারোপ না করে নারীকে বেশ্যা বানানোর চেষ্টা করা হয়। দিনাজপুরের ইয়াসমিনের ব্যাপারেও তা করা হয়েছিল।
বক্তারা আরও বলেন, এ ঘটনায় একটি জিনিস সবচেয়ে বেশি সামনে এসেছে। দেশের গণমাধ্যম ও সাংবাদিক সমাজ। আমরা যখন বিপদে পড়ি, অসহায় হয়ে যাই- আমরা সাংবাদিক সমাজের কাছে অনুরোধ করি। তখন সাংবাদিকদের কাছে ছুটে আসি। কারণ শেষ ভরসারস্থল হলো এই সাংবাদিক সমাজ। সাংবাদিক সমাজেই সত্যকে উদঘাটন করে এবং বিচারের জন্য বাধ্য করে। কিন্তু মুনিয়া ইস্যুতে সাংবাদিকদের আচরণ সারা জাতিকে হতবাক করেছে। কারণ সাংবাদিকরা মুনিয়ার পক্ষে তো লেখেননি বরং মুনিয়ার চরিত্র হনন করার চেষ্টা করেছেন। সাংবাদিকদের উপর আমরা আস্থা বিশ্বাস রাখি, আমরা বিশ্বাস করি যে কোন অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে সাংবাদিক সমাজ বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশ করে অন্যায়কারীর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবে।


