সন্ধান ২৪.কম:একটি মৃত নক্ষত্রের চারদিকে আবর্তিত হওয়া একটি গ্রহকে প্রাণ ধারণের উপযোগী বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা। এ ধরনের নক্ষত্রকে বলা হয় ‘হোয়াইট ডর্ফ’। সম্ভাবনাটি সত্যি হলে এই প্রথম কোনো মৃত নক্ষত্রে প্রাণের উপযোগী গ্রহ পাওয়া যাবে। বিষয়টি নিশ্চিতে গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা। এ খবর দিয়েছে বিবিসি।
খবরে জানানো হয়েছে, ওই গ্রহটি নক্ষত্রের হ্যাবিটেবল জোন বা বাসযোগ্য দূরত্বে অবস্থিত। মূলত গ্রহের অবস্থান যেখানে থাকলে তাতে প্রাণ টিকে থাকার উপযোগী তাপমাত্রা নিশ্চিত হয় তাকেই হ্যাবিটেবল জোন বলেন। এই গবেষণাটি প্রকাশ করা হয়েছে রয়্যাল অ্যাস্ট্রোনোমিকাল সোসাইটির এক মাসিক নোটিসে। গবেষণাটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের প্রফেসর জয় ফারিহি।
তিনি বলেন, এ ধরনের পর্যবেক্ষণ মহাকাশ গবেষকদের জন্য একেবারেই প্রথম। এর আগে কখনো কোনো হোয়াইট ডর্ফের হ্যাবিটেবল জোনে বাসযোগ্য গ্রহের সন্ধান পাওয়া যায়নি। সম্ভাবনা রয়েছে যে, ওই গ্রহটি প্রাণ ধারণের উপযোগী।
মহাকাশে থাকা বড় নক্ষত্রগুলোর জীবন ফুরিয়ে এলে তা এক সময় ব্লাক হোলে পরিণত হয়। তবে ক্ষুদ্র নক্ষত্রগুলো পরিণত হয় হোয়াইট ডর্ফে। আমাদের সূর্যও এ ধরনের নক্ষত্র। এগুলো এক পর্যায়ে নিজেদের সকল জ্বালানী খরচ করে সংকুচিত হতে শুরু করে এবং একটি গ্রহের সমান আকৃতি ধারণ করে। প্রাথমিক পর্যায়ে হোয়াইট ডর্ফ থেকে নীলাভ সাদা আলো বিচ্ছুরিত হয়।
যেই গ্রহটিকে প্রাণ ধারণের উপযোগী মনে করছেন বিজ্ঞানীরা তা পৃথিবী থেকে ১১৭ আলোকবর্ষ দূরে। ওই গ্রহটি যে হোয়াইট ডর্ফটির একদম কাছ থেকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হচ্ছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই দূরত্ব সূর্য থেকে পৃথিবীর দূরত্বের ৬০ ভাগের একভাগ। এই আবিষ্কারের কারণে এখন থেকে মহাকাশ গবেষকরা হোয়াইট ডর্ফের চারদিকে বাসযোগ্য গ্রহের সন্ধানে নামবেন তাতে সন্দেহ নেই। এ নিয়ে প্রফেসর ফারিহি বলেন, মহাকাশ গবেষণার সাধারণ হিসেব হচ্ছে- আমরা যদি একটি প্রমাণ পাই তার অর্থ হচ্ছে এটি মহাকাশের একটি সাধারণ বৈশিষ্ট্য।


