যশোরে যুবলীগের মিছিল থেকে বিএনপির কার্যালয়ে ব্যাপক হামলা

     

সন্ধান২৪.কম ঃ যশোর বিএনপির কার্যালয়ে ভাঙচুরসহ ব্যাপক তান্ডব চালানো হয়েছে। এ সময় হামলাকারীদের মাথায় হেলমেট পরা অবস্থায় দেখা যায়। গত রোববার বিকেল পৌনে পাঁচটার দিকে জেলা যুবলীগের ব্যানারে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। জেলা বিএনপির কার্যালয়ের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় মিছিল থেকে হামলা চালানো হয় বলে জানা গেছে।

যশোর জেলা যুবলীগের একাংশের মিছিল থেকে জেলা বিএনপির কার্যালয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করা হয়েছে বলে অভিযোগ এসেছে ।

এ সময় বিএনপি কার্যালয়ের ভেতরের চেয়ার টেবিল, ব্যানার  ফেস্টুন ব্যাপক ভাঙচুর করা হয়। এর আগে শহরের দড়াটানায় সাবেক মন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য প্রয়াত তরিকুল ইসলামের ছেলে ও বিএনপির খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। পরে তার বাড়িতেও হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

যুবলীগের নেতাকর্মীদের মহড়া ও মোড়ে মোড়ে পুলিশ মোতায়েন করায় বিকেল থেকে শহরজুড়ে থমথমে অবস্থার সৃষ্টি হয়। জেলা যুবলীগের সহসভাপতি সৈয়দ মেহেদী হাসান ও সদর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন বিপুলের নেতৃত্বে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতারা শহরের গাড়িখানাস্থ আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয় প্রাঙ্গণে জড়ো হয়। পরে শহরের বিভিন্ন সড়কে নেতাকর্মীদের মহড়া দিতে দেখা গেছে।

যশোর জেলা যুবলীগের একাংশের মিছিল।

জেলা বিএনপির সদস্য সচিব সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু বলেন, আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা তাণ্ডব চালিয়েছে। রাজনৈতিক দলের পবিত্রস্থান দলীয় কার্যালয়। সেটিও তাণ্ডব থেকে রক্ষা পায়নি। বিএনপির খুলনা বিভাগীয় ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিতকে হত্যা চেষ্টা করা হয়েছে।

জানা যায়, সদর উপজেলার রূপদিয়া বাজারে সহিংসতার ঘটনায় গ্রেপ্তার ২৮ নেতাকর্মীকে রোববার বিকেলে আদালতে হাজির করা হয়। বিকেল ৩টার দিকে আদালতে নেতাকর্মীদের দেখতে যান বিএনপির খুলনা বিভাগীয় ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। এ সময় পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে তিনি বাগবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন।

বিক্ষোভ মিছিলের সামনে পড়ে অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের বহনকারী প্রাইভেট কার।

একপর্যায়ে পুলিশ কর্মকর্তা শহরের অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন জোরদার করেন। এরমধ্যে আদালত থেকে বেরিয়ে শহরের ঘোপের বাসায় যাওয়ার পথে যুবলীগের বিক্ষোভ মিছিলের সামনে পড়ে অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের বহনকারী প্রাইভেট কার। এ সময় তার গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। এরপর বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে থেকে জেলা যুবলীগের ব্যানারে মিছিল বের হয়। মিছিলটি শহরের লালদিঘির পাড়ে বিএনপি কার্যালয় অতিক্রম করার সময় বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা হামলা চালায়।

জেলা যুবলীগের সহসভাপতি সৈয়দ মেহেদী হাসানের সভাপতিত্বে সামবেশে বক্তব্য দেন সদর উপজেলা পরিষদের ভাইস  চেয়ারম্যান, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক যুবলীগ নেতা আনোয়ার হোসেন বিপুল, জেলা যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম রফিক, প্রচার সম্পাদক পৌর কাউন্সিলর শেখ জাহিদ হোসেন মিলন প্রমুখ।

Exit mobile version