সন্ধান২৪.কমঃ যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় নিলুফার ইয়াসমিন পারভীন (৪৮) নামে এক প্রবাসী বাংলাদেশি নারীকে হাতুড়িপেটা করে হত্যা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সকালে নিজ কর্মস্থল একটি গ্যাস স্টেশনে দায়িত্ব পালনকালে এ ঘটনা ঘটে।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সকাল ৭টা ১৪ মিনিটে ফোর্ট মায়ার্স শহরে ড. মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র বুলেভার্ডের একটি গ্যাস স্টেশন ও কনভেনিয়েন্ট স্টোরে ঘটে এই নৃশংস হামলা। জরুরি সেবাকর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও গুরুতর আহত ইয়াসমিনকে সকাল ৭টা ২৭ মিনিটে মৃত ঘোষণা করা হয়। মাত্র ১৩ মিনিটের ব্যবধানে নিভে যায় একটি জীবনের আলো—ভেঙে যায় একটি পরিবারের স্বপ্ন।

ঘটনার সূত্রপাত আগের রাতে। সকাল আনুমানিক ৭টা ১৪ মিনিটে এক যুবক স্টোরে প্রবেশের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। পরে সে বাইরে থাকা ইয়াসমিনের ব্যক্তিগত গাড়িতে হাতুড়ি দিয়ে ভাঙচুর শুরু করে। শব্দ পেয়ে ইয়াসমিন বাইরে এসে এর কারণ জানতে চাইলে হামলাকারী তাঁর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। পরে তিনি ইয়াসমিনের কাছে অর্থ দাবি করেন। ইয়াসমিন শান্তভাবে জানান, এটিএমটি ভেন্ডরের নিয়ন্ত্রণে এবং ভুল পিনের কারণে সমস্যা হতে পারে—তিনি কাস্টমার সার্ভিসে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন। কিন্তু ওই ব্যক্তি বারবার টাকা দাবি করতে থাকেন। রাতের সেই উত্তেজনা সেখানেই শেষ হলেও, ইয়াসমিন বুঝতে পারেননি—এই ক্ষোভই পরদিন তার জীবনের শেষ মুহূর্ত হয়ে উঠবে।
পরদিন সকালে সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, অভিযুক্ত ব্যক্তি আগে ইয়াসমিনের গাড়ি ভাঙচুর করে। এরপর ইয়াসমিন বাইরে বের হতেই কোনো কথা না বলে সরাসরি তাঁর মাথায় হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করে। একের পর এক আঘাতে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। হলুদ টি-শার্ট, কালো শর্টস ও একটি ব্যাকপ্যাক পরা সেই মানুষটি যেন কয়েক সেকেন্ডেই কেড়ে নেয় একটি জীবন।
নিহত ইয়াসমিনের বাড়ি লক্ষ্মীপুর জেলার চন্দ্রগঞ্জ উপজেলায়। পরিবার সূত্রে জানা যায়, তিনি দুই কিশোরী মেয়েকে নিয়ে স্বপ্ন গড়তে বিদেশে এসেছিলেন। তাদের জন্যই লড়াই করছিলেন প্রতিদিন। কিন্তু সেই স্বপ্নই আজ শোকের ভারে নুয়ে পড়েছে। খবরটি ছড়িয়ে পড়তেই স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটিসহ পুরো এলাকায় নেমে আসে গভীর শোক।
হামলার পর অভিযুক্ত ব্যক্তি পালিয়ে যায়। পুলিশ তাকে সশস্ত্র ও বিপজ্জনক ঘোষণা করে এলাকাবাসীকে সতর্ক করে দেয়—“তার কাছাকাছি যাবেন না, দরজা খুলবেন না।” পরিস্থিতির কারণে আশপাশের কয়েকটি স্কুল সাময়িকভাবে লকডাউনেও রাখা হয়।
দীর্ঘ তল্লাশির পর পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে প্রায় এক মাইল দূরে ডানবার পার্ক সংলগ্ন এলাকায় অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃতের নাম রলবার্ট জোয়াকিন (৪০)। তাকে লি কাউন্টি জেলে পাঠানো হয়েছে এবং হত্যা ও সম্পত্তি ধ্বংসের অভিযোগ আনা হয়েছে। আদালত তাকে জামিন ছাড়াই আটক রাখার নির্দেশ দিয়েছে।
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, হামলাকারী তাঁর হাতে থাকা বড় হাতুড়ি দিয়ে ইয়াসমিনকে লক্ষ্য করে উপর্যুপরি আঘাত করে। মাথায় একাধিক আঘাতে তিনি ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন। পরে হামলাকারী ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
নিহত ইয়াসমিন পারভীন দুই মেয়েকে নিয়ে ফ্লোরিডায় বসবাস করতেন। তাঁর স্বামী বর্তমানে বাংলাদেশে রয়েছেন। তাঁর গ্রামের বাড়ি লক্ষ্মীপুর জেলার চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার কুশাখালী ইউনিয়নে। তিনি স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সালাহ উদ্দিন মানিকের ছোট বোন।