সন্ধান২৪.কম : যুক্তরাষ্ট্রে ‘শেখ হাসিনা সংগ্রাম পরিষদ’ নামে নতুন সংগঠনের আত্মপ্রকাশ করলো। ‘৭১’র স্বাধীনতার চেতনায় বাংলাদেশ’ এই শ্লোগানকে সামনে রেখে ৭১ সদস্য বিশিষ্ট এই কমিটি গঠন করা হয়।
আজ ২৪ সেপ্টেম্বর সন্ধায় নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসের নবান্ন রেষ্টুরেন্টে সংবাদ সম্মেলন করে এই কমিটি ঘোষনা করা হয়। সাংবাদিকের এক প্রশ্নের জবাবে ফরিদ আলম বলেন, আপাতত ৭১ সদস্যের কমিটি করা হয়েছে। এর সদস্য সংখ্যা আরও বৃৃদ্ধি করা হবে। এ ছাড়া নিউইয়র্কের বিভিন্ন ষ্টেটেও এর শাখা সংগঠন গঠন করা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনাকে মুক্তি দিয়ে তাকে নিয়ে বাংলাদেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিতসহ ১১ দফা দাবী জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন নতুন গড়া সংগঠনটির অন্যতম সদস্য ফরিদ আলম। সংবাদ সম্মেলনের মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন মিসবাহ আহমেদ, জামাল হোসেন, সাখাওয়াত হোসেন চঞ্চল, জামাল হোসেন, হুমায়ুন আহমেদ চৌঃ, সেবুল মিয়া, আমিনুল ইসলাম, নুরুল ইসলাম, সাদেকুর রহমান, হেলিম উদ্দিন, আব্দুল ওয়াহিদ, জামাল আহামেদ, রিন্টু লাল দাস প্রমুখ।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, বাংলাদেশে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দেশী ও বিদেশী ষড়যন্ত্রকারীদের সরাসরি মদতপুষ্টে কোটা সংস্কার আন্দোলনকে ভিন্ন দিকে প্রবাহিত করবার জন্য মৌলবাদী জঙ্গীগোষ্ঠি জামায়াত ও বিএনপির প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় সুপরিকল্পিতভাবে ছাত্র-ছাত্রী ও পুলিশের উপর গুলি চালানো হয়েছে এবং নিরবিচ্ছিন্নভাবে হত্যাকাÐ ও অগ্নিসন্ত্রাস চালিয়ে বাংলাদেশকে একটি অস্থিতিশীল ও নৈরাজ্যকর রাষ্ট্রে পরিনত করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশ ত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে। অতঃপর আপনারা দেখেছেন কিভাবে গণভবনে লুটপাট, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য অবমাননা ও ভাংচুর, বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাস ও ঐতিহ্য ৩২ নম্বর বাড়িতে অগ্নিসংযোগ, শত শত কোটি টাকার রাষ্ট্রীয় সম্পদ ধ্বংস করা হয়েছে। বর্তমানে এই অসাংবিধানিক, অগণতান্ত্রিক অবৈধ অন্তর্বতীকালীন সরকারের নেতৃত্বে বাংলাদেশে একটি নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। সংস্কারের নামে বাংলাদেশে এখন গনহত্যা ও দখলদারিত্ব চলছে। প্রকাশ্যে দিবালোকে ভিডিও ধারন করে নিরপরাধ মানুষকে পৈশাচিক নির্যাতন মাধ্যমে হত্যা করা হচ্ছে। শেখ হাসিনাসহ আওয়ামীলীগ ও সহযোগী সংগঠনের সকল নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানিসহ চাঁদাবাজি, বাড়িঘর ও ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করা হচ্ছে। সংখ্যালঘুদের উপর ব্যাপক ভাবে নির্যাতন করা হচ্ছে। ছাত্র ছাত্রীদের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে শিক্ষকদের লাঞ্ছিত ও জোরপ‚র্বক শিক্ষক ও বিভিন্ন কর্মকর্তাদের পদত্যাগ করানো হচ্ছে। বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে পুঙ্গ করে দেয়া হচ্ছে। সারা বাংলাদেশের মানুষ আজ ভীত শঙ্কিত। সাধারণ জনগণের জান ও মালের কোনও নিরাপত্তা নেই। আইন শৃঙ্খলার চরম অবনতি। জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে একটি উন্নয়নশীল রাষ্ট্র এখন ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। এমতাবস্থায়, বাংলাদেশের সমসাময়িক পরিস্থিতি বিবেচনা করে আমরা সুনির্দিষ্ট ১১ দফা দাবী নিয়ে “৭১’র স্বাধীনতার চেতনায় বাংলাদেশ” শ্লোগানে শেখ হাসিনা সংগ্রাম পরিষদ নামে একটি নতুন পাটফর্ম গঠন করেছি। এই সংঠন রোডম্যাপ তৈরী করে ১১ দফা বাস্তবায়নের জন্য নিরলসভাবে আন্দোলন সংগ্রাম চালিয়ে যাবে।
১১ দফা দাবীগুলো-১. শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রম‚লক সকল মিথ্যা মামলা অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে ২. আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা কর্মীদের বিরুদ্ধে সকল রাজনৈতিক মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং সকল প্রকার হয়রানি বন্ধ করতে হবে ৩. জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য ভাঙচুর ও অবমাননাকারীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তম‚লক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে ৪. মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও ঐতিহ্যবাহী ৩২ নম্বর বাড়িতে ভাংচুর, লুটপাট ও অগ্নী সংযোগকারীদের দেশদ্রোহী মামলার অধীনে বিচার ও শাস্তির দিতে হবে ৫. সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর নির্যাতন, ভাঙচুর ও উৎপাত কারীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার ও শাস্তি দিতে হবে এবং সকল নাগরিকের জান মালের নিরাপত্তা বিধানে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে আরো জোরদার পদক্ষেপ গ্রহন করতে হবে ৬. বাংলাদেশের মৌলবাদী সন্ত্রাস ও জঙ্গি তৎপরতা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদ বিনষ্টকারীদের অবিলম্বে গ্রেফতার করতে হবে ৭. ছাত্র-ছাত্রীদের দ্বারা শিক্ষকদের অবমাননা ও জোরপ‚র্বক শিক্ষক ও বিভিন্ন কর্মকর্তাদের পদত্যাগ করানো বন্ধ করতে হবে এবং অবিলম্বে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে হবে ৮. ছাত্র আন্দোলনের নামে সারাদেশে যত হত্যাকাÐ হয়েছে তার সুষ্ঠু তদন্ত এবং প্রত্যক্ষভাবে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনতে হবে ৯. বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে রাজনৈতিক কর্মকান্ড নিষিদ্ধ করার ষড়যন্ত্র অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে এবং দলীয় কর্মস‚চি পালনের নিরাপত্তা দিতে হবে ১০. বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনঃ প্রতিষ্ঠার জন্য এই অসাংবিধানিক অবৈধ অন্তর্বতীকালীন সরকারকে অবিলম্বে পদত্যাগ করতে হবে এবং ১১. শেখ হাসিনাকে বাদ দিয়ে বাংলাদেশে কোন নির্বাচন হবে না।
৭১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটির সদস্যরা হলেন- মিসবাহ আহমেদ, মোঃ ফরিদ আলম, জামাল হোসেন, সাখাওয়াত হোসেন চঞ্চল, জামাল হোসেন, হুমায়ুন আহমেদ চৌঃ, সেবুল মিয়া, আমিনুল ইসলাম, নুরুল ইসলাম, সাদেকুর রহমান, হেলিম উদ্দিন, আব্দুল ওয়াহিদ, জামাল আহামেদ, রিন্টু লাল দাস, রহিমুজ্জামান সুমন, গণেশ কীর্তনীয়া, মোশাহিদ চৌধুরী, রবিউল ইসলাম, শেখ সেলিম, সোয়েব আহমেদ, নুর হোসেন ফরহাদ, মনির উদ্দিন, শাহিন কামালী, রেজা আব্দুলাহ, আজাদুল কবির, মাহমুদুর রহমান, মিজানুর রহমান চৌধুরী, শিপু চৌধুরী, রিয়াজুল কাদির লস্কর, অপু চৌধুরী, সারোয়ার হোসেন, আবু তাহের, কারিমুল মৌলা, আব্দুল মুহিত, শফিকুল ইসলাম, মিনহাজ শরিফ রাসেল, বাহার উদ্দিন, ইকবাল হোসেন, জিয়াউল হক, আজমল আলী, ইসমাইল হোসেন স্বপন, আল মামুন সরকার, ইমরুল কায়েস, আব্দুল ফাতহা, আমিনুল হোসেন চুনু, আলতাফ হোসেন, আবু তাহের আসাদ, আব্দুল নুর হারুন , আব্দুল বাসিত, ফয়সল আহমেদ, মাহবুব হোসেন মামুন, আমিন উদ্দিন, ফজলে রাব্বি সেবুল, জাবেদ আহমেদ, রিটন সরকার, যেবুল আহমেদ, মাজেদ আহমেদ, মোঃ শাহিনুর ইসলাম, মোঃ শাহিন, নিতাই পাল, রূপ চান মিয়া, মইনুল হোসেন, সাব্বির চৌধুরী, জয়নাল উদ্দিন লায়েক, সালেহ সফিক গেন্দা, নাজমুল হক, সাইদুর রহমান শেলি, জহুরুল ইসলাম, ও সৈয়দ লোকমান।


