যুক্তরাষ্ট্র আর লকডাউনে যাবে না : ডা.ফওসি

image

সন্ধান ২৪. কম ঃ প্রাণঘাতী কোভিড-১৯ সংক্রমণ প্রতিরোধে কার্যকর ভ্যাকসিন শিগগিরই আসবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. অ্যান্থনি ফওসি।

এ কারণে দেশটিতে আর লকডাউনের প্রয়োজন হবে না বলেও জানিয়েছেন তিনি। বৃহস্পতিবার বার্তা সংস্থাকে ফওসি জানান, করোনা ভ্যাকসিনের প্রাথমিক পরীক্ষার ফলাফল আশাব্যাঞ্জক। শিগগিরই বিশ্ব একটি কার্যকর ভ্যাকসিন পাবে, যার মাধ্যমে এ মহামারীর অবসান ঘটবে বলে আশাবাদী তিনি।

কিছু এলাকায় সংক্রমণ বাড়তে থাকায় আবারও লকডাউনের প্রয়োজন রয়েছে কিনা জানতে চাইলে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব অ্যালার্জি অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিসের (এনআইএআইডি) পরিচালক ফউসি বলেন, আমি মনে করি না, আমরা আর লকডাউনে ফিরে যাব। স্কুল কখন চালু হবে- এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যেখানে ভাইরাস সংক্রমণ নেই, সেখানে স্কুল খুলে দেয়া যেতে পারে। তবে যেসব অঞ্চলে এখনও সংক্রমণ চলছে, সেখানে আরও কিছুদিন অপেক্ষা করার পরামর্শ দিয়েছেন এ বিশেষজ্ঞ। গত কয়েক দিন থেকেই বিশ্বজুড়ে ডেক্সামেথাসন নিয়ে চলছে ব্যাপক আলোচনা। করোনার চিকিৎসায় এটিকে জীবন রক্ষাকারী প্রথম কার্যকর ওষুধ বলে দাবি করেছেন যুক্তরাজ্যের গবেষকরা। এ বিষয়ে ডা. ফওসি জানান, ডেক্সামেথাসনের পরীক্ষার ফলাফলে তিনি মুগ্ধ। ওষুধটি পরীক্ষায় ভেন্টিলেশনে থাকা কোভিড-১৯ রোগীদের মৃত্যুঝুঁকি এক-তৃতীয়াংশ কমাতে সক্ষম হয়েছে। তবে সংক্রমণের পরপরই রোগীকে এই ওষুধ না দেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন এ মার্কিন কর্মকর্তা। এর আগে, গত বুধবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও জানিয়েছিলেন, করোনা সংক্রমণ বাড়লেও আর লকডাউনে যাবে না তার দেশ। করোনাভাইরাস মহামারি প্রতিরোধে গত মার্চে লকডাউন ঘোষণা করে যুক্তরাষ্ট্র। এতে বন্ধ হয়ে যায় বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠান। বেকার হয়ে পড়েন লাখ লাখ মানুষ। তবে সংক্রমণের গতি কমানো সম্ভব হয়নি। এ নিয়ে বেশ বেকায়দায় পড়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। মহামারি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা, অর্থনৈতিক সংকট, সবশেষ জর্জ ফ্লয়েড হত্যাকা-ের জেরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় রীতিমতো ধস নেমেছে। বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইপসস পরিচালিত জরিপে দেখা গেছে, মার্কিনিদের কাছে গ্রহণযোগ্যতার মাপকাঠিতে ট্রাম্পের চেয়ে ১৩ পয়েন্টে এগিয়ে গেছেন বাইডেন, যা চলতি বছরে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ। ফলে লকডাউনের ঝুঁকি আর নিতে চান না প্রেসিডেন্ট।

বিশ্বে করোনা সংক্রমিত দেশের তালিকায় সবার শীর্ষে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটিতে এ পর্যন্ত প্রায় ২২ লাখ করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছেন। মারা গেছেন ১ লাখ ১৮ হাজার ৩৮১ জন। সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত নিউইয়র্কে সংক্রমণের গতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে। তবে ক্যালিফোর্নিয়া, টেক্সাস ও ফ্লোরিডাসহ কিছু অঙ্গরাজ্যে সংক্রমণের হার এখনও বাড়ছে।

Exit mobile version