রঙ্গ-তামাশার চার ফোবানাকে ৯৯% মানুষ ভালো চোখে দেখছে না -পর্ব ১ 

সন্ধান প্রতিবেদন : লেবার ডে উইকেন্ডে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার চার শহরে একই সময়ে চারটি পৃথক  পৃথক ফোবানা ( ফেডারেশন অব বাংলাদেশি অ্যাসোসিয়েশনস ইন নর্থ আমেরিকা ) সম্মেলন গতকাল থেকে শুরু হয়েছে ।

বিভেদ-বিভক্তির এই ফোবানাকে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার বাঙলি কমিউনিটির শতকরা ৯৯ ভাগ মানুষ ভালোভাবে গ্রহন করছে না। তারা এটাকে স্থূল  বিনোদন,কিছু ব্যক্তির নেতা হওয়ার আকড়া হিসেবে মনে করছেন।

তারা মনে করছেন, প্রায় ৪০ বছর আগে যে উদ্দেশ্য নিয়ে ফোবানার সৃষ্টি হয়েছিল,রাজনৈতিক বিভাজন,ক্ষমতার দ্বন্দ্ব,পদ-পদবী ধরে রাখার প্রতিযোগিতা, ব্যক্তিগত ইগো ইত্যাদি ইত্যাদি কারণে আজ তা পুরোপুরি ধংস হয়েছে।

নিউইয়র্কের এস্টোরিয়ায় ইভাঞ্চল ক্রিস্টিয়ান চার্চ মিলনায়তন

প্রতিবার ফোবানা সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার আগে,সংবাদ সম্মেলনে চারটি ফোবানা থেকেই এক হওয়ার ঘোষনা দেয়া হয়। কিন্ত দেখা যায় ফোবানার দিনক্ষণ যতই এগিয়ে আসে ততই একে অপরের বিরুদ্ধে কাঁদা ছোড়াছুড়ি, কুৎসিত আক্রমণের মাত্রা বেড়েই চলে। দিন শেষে দেখা যায় খন্ড-বিখন্ডিত ফোবানা-ই থেকে যায়। ফলে দেখা যায়,যে ঐক্যের দর্শন ফোনার সৃষ্টি  হয়েছিল, সেই ঐক্যই ধরা ছোয়ার বাইরে থেকে যায়। যার জন্য বার বার যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার বাঙালি কমিউনিটির কাছে প্রশ্নের মুখে পড়েছে এই ফোবানা।

নিউইয়র্ক, লস অ্যাঞ্জেলেস, অরল্যান্ডো ও টরন্টোয় আয়োজিত এসব সম্মেলনের প্রায় প্রত্যেক পক্ষই নিজেদের আয়োজনকে ‘৪০তম ফোবানা সম্মেলন’ হিসেবে প্রচার করছে।

একই সংগঠনের নামে একই সময়ে চারটি সম্মেলন প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে যেমন তীব্র ক্ষোভ ও ঘৃণার জন্ম নিয়েছে তেমনি হতাশাও দেখা দিয়েছে।শতকরা  ৯৯ ভাগ মানুষের প্রশ্ন , চারটির মধ্যে কোনটি আসল ফোবানা ? যদিও প্রত্যেকটি ফোবানার কর্মকর্তারা দাবী করেন,তারাই আদী ও আসল।

কানাডার টরেন্টোর ডন ভ্যালি হোটেল

একজন  সমাজসেবক মনে করেন,এখন চার ফোবানায় রাজনীতির ‘পলিটিক্স’ ঢুকে গেছে। যার ফলে একটি ফোবানাকে নিয়ন্ত্রণ করছে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা। আর একটি বিএনপি সমর্থিত ফোবানা। বাকি দুটির কোন নীতি-আদর্শ নেই বলে জানাই এই সমাজসেবক।

আয়োজকরা ফোবানার সংবাদ সম্মেলনে শুদ্ধ সংস্কৃতির চর্চা,হাজার বছরের বাংগালির সংস্কৃতিকে ধরে রাখাসহ ভালো ভালো কথা বলেন। অনুষ্ঠানে দর্শক-শ্রোতা টানার জন্য আকর্ষণীয় প্রচার-বিজ্ঞাপন দেয়া হয়। কিন্ত বাস্তবে দেখা যায়, প্রচারের সাথে অনুষ্ঠানের কোন মিল নেই। শিল্পী-কলাকুশলীর পারশ্রমিক বাকি রাখা হয়। ধুম ধারাক্কা ও  লারেলাপ্পা অনুষ্ঠান ভরপুর থাকে। নিজেদেরকে জাহির করা ও প্রাসঙ্গিক করে তোলার জন্য চলে ঘন্টার পর ঘন্টা চলে অযৌক্তিক এবং বিরক্তিকর বক্তৃতাবাজী। যার ফলে ফোবানার অনুষ্ঠানে দর্শক-শ্রোতারা গিয়ে নিজেরা প্রতারিত হচ্ছেন বলে মনে করছেন।

লস এঞ্জেলসে ৪০তম ফোবানা হোস্ট কমিটি

সচেতন প্রবাসীদের কেউ কেউ মনে করেন, ফোবানা এখন অনেকের কাছ নেতা হওয়ার কারখানায় পরিনত হয়েছে। কার আয়োজন বড়, কার মঞ্চে বেশি তারকা, কার অনুষ্ঠানে কত মানুষ হলো—এমন অসম প্রতিযোগিতা একটি আখড়া হচ্ছে ফোবানা।

৪ থেকে ৬ সেপ্টেম্বর কানাডার টরেন্টো, নিউইয়র্কের এস্টোরিয়া, ক্যালিফোর্নিয়া এবং ফ্লোরিডার কিসিমিতে ফোবানা সম্মেলন চলছে। শেষ হবে আগামী কাল।

Exit mobile version