নিউইর্য়ক : গত ৮ জুলাই রাঙ্গুনিয়ার ফলহারিয়া জ্ঞান শরণ বৌদ্ধ বিহারে সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশে হিন্দু, বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ, ইউ, এস. এ.।
সংগঠনের সভাপতি: নবেন্দু দত্ত; টমাস দুলু রায়; ও রনবীর বড়ুয়ার স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, গত ৮ই জুলাই ক্ষমতসীন দলের জনৈক প্রভাবশালী নেতার প্রত্যক্ষ মদদে, পুলিশের সহযোগীতায় এলাকার চিহ্ণিত অপরাধীদের দিয়ে জনৈক এরশাদ মাহমুদ রাঙ্গুনিয়ার ফলাহারিয়ায় অবস্থিত জ্ঞান শরণ বৌদ্ধ বিহারের ভান্তে ও ভিক্ষুদের সন্ত্রাসের মাধ্যমে উচ্ছেদ করে বিহারটি দখল করার অপপ্রয়াস করে।
সামপ্রদায়িক সন্ত্রাসীরা জ্ঞানশরণ বৌদ্ধবিহার ও বুদ্ধের মুর্তি ভাঙচুর করে, ভান্তে শরণংকর থেরোকে অবিলম্বে দেশ ত্যাগ করার নির্দেশ প্রদান করে, অন্যথায় প্রাণনাশের হুমকি দেয়। শুধু তাই নয়, এরশাদ মাহমুদের ওই দল রামুর মত বিশাল স্কেলে আরেকটি নৃশংস সংখ্যfলঘু নির্যাতনের ঘটনা ঘটানোর উদ্দেশ্য রুমন হিমু নামে ভূয়া একটি ফেইসবুক আই. ডি. সৃষ্টি করে তাতে আল্লাহ্ ও তাঁর নবী সম্পর্কে অপত্তিকর স্ট্যাটাস দিয়ে ভান্তে শরণংকর থেরো ও শ্রমণদের জীবন বিপন্ন করার চেষ্টা করে। সন্ত্রাসীরা তাঁদের এটাও বলে যায় যে, বিষয়টি নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে বিহারের সবাইকে খুন করা হবে। তারপর, রাতের আঁধারে তারা ওই বৌদ্ধ বিহারের বিদ্যুৎ সংযোগও বিচ্ছিন্ন করে দেয়, যার ফলে সেখানকার ৩০ জন শ্রমণ প্রানের ঝুঁকি নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার ফলে বাংলাদেশের বৌদ্ধ সম্প্রদায় ও শান্তি প্রিয় সংসার ত্যাগী বৌদ্ধ ভিক্ষুরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিনাতিপাত করছেন। শুধু তাঁরাই নন, সারা দেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায় এতে বিপন্ন বোধ করছেন। কারণ, বাংলাদেশে এ’ ধরণের ঘটনা অহরহ ঘটছে, আর এ’ ব্যাপারে সরকার নির্বিকার।
উল্লেখ্য, ফেইসবুক আই. ডি. হ্যাক করে বা ভূয়া আই. ডি. সৃষ্টি করে আল্লাহ্ ও তাঁর নবী সম্পর্কে অপত্তিকর স্ট্যাটাস দিয়ে সংখ্যালঘুদের ওপর সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসী আক্রমণ একের পর এক ঘটানো হচ্ছে। অথচ রহস্যজনক কারণে ওই হ্যাকারদের আইনের আওতায় এনে বিচারের ব্যবস্থা না করে সরকার নিরপরাধ ওইসকল সংখ্যালঘু ব্যক্তিদের অনির্দিষ্টকাল ধরে জেলে পুরে রাখছে। বিবৃতিতে বাংলাদেশ হিন্দু, বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ, ইউ, এস. এ. সরকারের এই দু:খজনক ভুমিকায় বিষ্ময় ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, সংখ্যালঘু নির্যাতনের ব্যাপারে সরকারের এই নির্লিপ্ততার মানে একটাই দাঁড়ায় যে, সংখ্যালঘুরা যেহেতু মুসলমান নয়, ওদের অত্যাচার করে নিশ্চিহ্ণ করে দিলে কোন ক্ষতি নেই। সরকারের এই নেতিবাচক মনোভাবের অকাট্য প্রমান দৃশ্যমান রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম ঘোষণায়, পাঠ্যপুস্তক থেকে অমুসলমান লেখকদের পর্যায়ক্রমে সরানোর প্রক্রিয়ায়, পঞ্চম শ্রেণীর ইসলামিয়াতের মাধ্যমে শিশুদের এই শিক্ষা দানে যে হিন্দু, বৌদ্ধ, বা খ্রিস্টানরা পশুর চেয়েও অধম, অন্য কোন ধর্মের জন্য ফাউন্ডেশন না করে শুধু ইসলামের জন্য করায়, এবং, সর্বোপরি সংখ্যালঘু নির্যাতকদের কোন বিচার না করায়। বিশেষ করে, অন্তত: জজ সাহাবুদ্দীন কমিশন বা প্রোব কমিশন, প্রদত্ত ২০০১ সালের নির্বাচনোত্তর কালে সংঘটিত সংখালঘু নির্যাতকদের তালিকা সরকারের হাতে থাকার পরও তাদের বিচার না করা আমাদের উক্ত ধারণাকে সন্দেহাতীতভাবে সত্য বলে প্রমান করে। কিন্ত, মাননীয়া প্রধানমন্ত্রী এবং তাঁর মন্ত্রীগণ অব্যাহতভাবে দাবী করে এসেছেন এসেছেন যে, তাঁরা ধর্ম নিরপেক্ষতায় আস্থাশীল – সকল নাগরিকের সমান অধিকারে বিশ্বাসী। যেহেতু সরকারের এই দাবী, তাই বিবৃতিতে উক্ত বিষয়ে মাননীয়া প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপের দাবী করা হয় ।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আমরা লক্ষ্য করেছি যে, কোন কোন মহল ও দু’একটি সংবাদ মাধ্যম দাবী করছে, ভান্তে শরণংকর থেরো সরকারী বনভূমিতে বেআইনিভাবে তাঁর বিহার গড়েছেন। সেটা সত্য হলে, দেশে সরকার আছে, আইন আছে, আইনের মাধ্যমে ওনাকে সরানো যেত। কিন্তু সেখানে এক প্রভাবশালী ক্ষমতাসীন দলের নেতার অত্মীয়কে গুন্ডাপান্ডা ও পুলিশ নিয়ে গিয়ে তাঁদের ওপর সন্ত্রাসী হামলা করতে হবে কেন! যুক্তরাষ্ট্র হিন্দু, বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ এই সন্ত্রাসী হামলার তীব্র নিন্দা করছে এবং সন্ত্রাসীদের অবিলম্বে বিচারের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদানের জন্য সরকারের কাছে দাবী জানানো হয় ।


