রানি এলিজাবেথের উইল গোপন থাকবে অন্তত ৯০ বছর

১৯১০ সালে সর্বপ্রথম প্রিন্স ফ্রান্সিসের উইল ব্রিটিশ রাজপরিবারে গোপন রাখা হয়।

সন্ধান২৪.কম ডেস্ক ঃ কী আছে প্রয়াত ব্রিটিশ রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের উইলে ? যদি আপনি তা জানতে চান তবে আপনাকে অপেক্ষা করতে হবে অন্তত ৯০ বছর।

রানিএমন ইচ্ছাই জানিয়ে গেছেন । ফলে তিনি কত সম্পদের মালিক ছিলেন, সেগুলোর উত্তরাধিকারী কে কে হচ্ছেন তার কিছুই এখন জানা সম্ভব না।

রানির উইল লন্ডনে একটি অজ্ঞাতস্থানে একজন বিচারকের তত্ত্বাবধানে রাখা আছে। শুধু রানির নয় বরং রাজপরিবারের আরও ৩০টির বেশি উইল গোপন কোনও কুঠুরিতে সিলগালা করে রাখা আছে।

ব্রিটিশ রাজপরিবারে ১৯১০ সালে সর্বপ্রথম প্রিন্স ফ্রান্সিসের উইল গোপন রাখা হয় বলে জানায় বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

প্রিন্স ফ্রান্সিস ছিলেন রাজা পঞ্চম জর্জের স্ত্রী রানি মেরির ছোট ভাই। রানি মেরি প্রয়াত রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের দাদি ছিলেন।

প্রিন্স ফ্রান্সিস যখন মারা যান, তখন তার বয়স ছিল ৪০ বছর। তার উইলের সঙ্গে ৩০টি খামও গোপন রাখা হয়।

প্রথা অনুসারে, রাজপরিবারের কোনো জ্যেষ্ঠ সদস্যের মৃত্যু হলে তাদের উইলের নির্বাহক লন্ডন হাই কোর্টের ফ্যামিলি ডিভিশনের প্রধানের কাছে উইল সিলগালা করার আবেদন করেন। ওই পদে যখন যে বিচারপতি থাকেন তিনি সব সময় ওই আবেদনে সায় দেন।

গত বছর এপ্রিলে মারা যান রানি এলিজাবেথে স্বামী প্রিন্স ফিলিপ। তার মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তার উইলের বিবরণগুলো বাকি বিশ্বের কাছে অজানা ছিল। প্রিন্স ফিলিপের মৃত্যুর পর তার উইলের নির্বাহক ফিলিপের ইচ্ছার কথা জানিয়ে তার উইল সিলগালা করার জন্য বিচারপতি অ্যান্ড্রু ম্যাকফারলেনের কাছে আবেদন করেন।

বিচারক ম্যাকফারলেন প্রয়াত প্রিন্স ফিলিপের উইল ‍তার ইচ্ছানুযায়ী সিলগালা করে রাখার আদেশ দেন। কিন্তু তিনি কেন এ রায় দিচ্ছেন তা প্রকাশ করার সিদ্ধান্ত নেন। যেন জনগণ কী হচ্ছে এবং কেন হচ্ছে সে বিষয়ে আংশিক হলেও অবগত হতে পারে।

ফ্যামিলি ডিভিশনের ইনচার্জ হিসেবে তিনিই এখন রাজপরিবারের গোপন উইলগুলোর তত্ত্বাবধানকারী। যদিও সিল করা ওই উইলগুলোতে কী আছে তা তিনি নিজেও জানেন না।

রানির স্বামী ছাড়াও রানির মা এলিজাবেথ এবং বোন প্রিন্সেস মার্গারেটের উইলও সিলগালা করে গোপন জায়গায় রাখা আছে। তারা উভয়ই ২০০২ সালে মারা যান। এখন রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের উইলও সেখানে যুক্ত হয়েছে।

রয়টার্স জানায়, ২০০৭ সালে রবার্ট ব্রাউন নামে একজন প্রিন্সেস মার্গারেটের উইল গোপন রাখার সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। তার দাবি ছিল, তিনি প্রিন্সেসের অবৈধ সন্তান এবং সম্পদে নিজের অংশ দাবি করার জন্য তিনি উইলটি দেখতে চান।

Exit mobile version