সন্ধান২৪.কম: মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অসাম্প্রদায়িক চেতনার যে বাংলাদেশ আমরা অর্জন করেছি সেখানে সম্প্রীতির স্বপ্নটি সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। কিন্ত দিন দিন সেই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ধংস হয়ে যাচ্ছে। রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা ও কিছু উগ্র ধর্মীয় দল আমাদের এ অর্জনকে ধ্বংস করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশের মানুষের অন্তরে অন্তরে ও ঘরে ঘরে রয়েছে অসাম্প্রদায়িকতার চেতনা। সেই চেতনা সামাজিক, পারিবারিক এবং রাষ্ট্রীয় সব ক্ষেত্রে সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার ভ‚মিকা পালন করতে হবে। তাহলে অপশক্তি মাথাচাড়া দিতে পারবে না। ‘অসাম্প্রদায়িক এবং সম্প্রীতির
বাংলাদেশ বিনির্মাণের লক্ষ্যে সম্প্রীতি সমাবেশ’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠানে বক্তরা এমন কথা বলেন।


নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসের নবান্ন রেষ্টুরেন্টে গত ১৩ অক্টোবর সন্ধায় ‘ওপেন আইস, নিউ ইয়র্ক’ এই গোল টেবিল বৈঠকের আয়োজন করে।
সংগঠনের সদস্য মুজাহিদ আনসারীর সভাপতিত্বে আলোচনায় অংশ গ্রহন করেন বর্র্ষীয়ান সাংবাদিক সৈয়দ মোহাম্মদ উল্লাহ্, প্রবীণ সাংবাদিক মনজুর আহমেদ, কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক দ্বীজেন ভট্টাচার্য্য,উদীচী যুক্তরাষ্ট্র শাখার সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা সুব্রত বিশ্বাস,মুক্তিযোদ্ধা শরাফ সরকার, লেখক কুলদা রায়, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট উত্তর আমেরিকার প্রতিনিধি মিথুন আহমেদ,ওপেন আইস‘র ড. ওবায়দুল্লাহ মামুন, জাকির হোসেন বাচ্চু,তানভির কায়সার ও কাবির হোসেন, প্রজন্ম-৭১‘র শিবলী সাদিক শিবলী,নতুন প্রজন্মের রানিয়া রেজওয়ানা প্রমূখ। শুরুতেই স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনের সদস্য জাকির আহমেদ রনি। অনুষ্ঠান সঞ্চলনা করেন সনজীবন কুমার ও তোফাজ্জল লিটন। অনুষ্ঠান সমন্বয়ে ছিলেন সংগঠনের সদস্য দীলিপ মোদক ও হিরো চৌধুরী।
সৈয়দ মোহাম্মদউল্লাহ বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের অত্যাচার-নির্যাতনে চিত্র তুলে ধরে বলেন,সংখ্যালঘুদের তাদের নিজভ‚মিতে থাকার জন্য প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। আর তাদের পাশে শুভ বুদ্ধি সম্পন্ন,মুক্তচিন্তা, অসাম্প্রদায়িক ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার মানুষ ও সংগঠনগুলোকে পাশে থাকতে হবে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি অটুট রাখার জন্য দেশে-বিদেশে সবাইকে সোচ্চার থাকতে হবে বলে মোহাম্মদ উল্লাহ মত প্রকাশ করেন।


মনজুর আহমেদ বলেন, মুক্তিযুদ্ধের মধ্যদিয়ে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার যে স্বপ্ন তৈরী হয়েছিল, তা ক্রমে ক্রমে ধংস হচ্ছে। এর মূল কারণ হলো, জন্মের পর থেকে একজন শিশুকে ধর্মের ব্যবধান করে দেয়া হচেছ-কে হিন্দু কে মুসলমান তা শিখিয়ে দেয়া হচ্ছে।
বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের জন্য বিশেষ নিরাপত্তা আইন প্রণয়ন, আনুপাতিক হারে সংখ্যালঘুদের জন্য জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত আসন নির্দ্ধারণ, সংখ্যালঘু সেল গঠন এমন কিছু আইনের মধ্য দিয়ে ধর্র্মীয় সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব বলে, মত প্রকাশ করেন দ্বীজেন ভট্টাচার্য্য।


সুব্রত বিশ্বাস বলেন,বাংলাদেশে ক্ষমতায় থাকার সময় সরকার তাদের স্বার্থ রক্ষার জন্য ধর্মকে রাষ্ট্রীয় কাজে ব্যবহার করছে। যার জন্য বার বার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট হচ্ছে কিন্ত কোন বিচার হচেছ না।
ভারতীয় উপমহাদেশে শত শত বছর আগে থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত ধর্মীয় সম্পীতি কি ভাবে আস্তে আস্তে ফিকে হয়ে গেল,তার তত্ত¡ তুলে ধরে কুলদা রায় বলেন,সম্প্রীতি বজায় রাখতে হলে আমাদের মানষিকতার পরিবর্তন ঘটাতে হবে।
মিথুন আহমেদ বলেন, আমাদের মধ্যে যে উগ্র ধর্র্মীয় মানুষিকার জন্ম নিচ্ছে, তার পরিবর্তন ঘটাতে হবে। যারা প্রগতীর,মুক্তিযুদ্ধের ও অসাম্প্রদায়িকতার মুখোশ পড়ে, সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প বুকে লালন করে সমাজকে দ্বিধা বিভক্ত করা চেষ্টা করছেন, তাদেরকে চিহ্নিত করতে হবে।
অন্যান্য বক্তরা বলেন,বাংলাদেশে সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি অক্ষুন্ন রাখতে হলে,গণমূখী সার্বজনীন বিজ্ঞান ভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থা চালু এবং সাংস্কৃতিক বিপ্লব শুরু করতে হবে। রাষ্ট্রকে এ ব্যাপারে গুরত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে।


