লকডাউনের পরেও সেই ক্ষিপ্রতা, বিশ্ব মুগ্ধ পঁয়ত্রিশের রোনাল্ডোয়

অতিমানবীয়: বয়স বাড়লেও ফিটনেস একই রকম। লেচ্চার বিরুদ্ধে অসাধারণ বাইসাইকেল কিক রোনাল্ডোর। রয়টার্স (বাঁ দিকে) মগ্ন: জিমে নিয়মিত চলে রোনাল্ডোর শারীরচর্চা। টুইটার(ডান দিকে)

সন্ধান২৪.কম ঃ  হোক না বয়স ৩৫। করোনাভাইরাসের জেরে লকডাউনে ফুটবল থেকে দীর্ঘ বিচ্ছেদেও তিনি যেন কিছুই হারাননি। জুভেন্টাসের হয়ে ইটালীয় লিগের ম্যাচে শুক্রবার আবার তা প্রমাণ করে দিলেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো।  

এই বয়সেও তাঁর শারীরিক সক্ষমতা ক্রীড়াবিজ্ঞানীদের গবেষণার বিষয়। শুক্রবার সেরি আ-তে দশ জনের লেচ্চার বিরুদ্ধে গতি আর শক্তির মিশেল ঘটিয়ে পর্তুগিজ মহাতারকার দুরন্ত ফুটবল দেখে ফুটবলবিশ্ব ফের মুগ্ধ। ৫৩ মিনিটে তিনি গোলের বল সাজিয়ে দিলেন পাওলো দিবালাকে। নিজে প্রচণ্ড জোরে মারা নিখুঁত পেনাল্টিতে গোল করলেন। গঞ্জালো ইগুয়াইনও ৩-০ করলেন রোনাল্ডোরই দুরন্ত ব্যাকপাস থেকে। জুভেন্টাস জিতল ৪-০। চতুর্থ গোল মাতাইস দি লিখ্‌টের। লেচ্চাকে হারিয়ে টানা ন’বার সেরি-আ জয়ের দিকে অনেকটা এগিয়ে গেল জুভেন্টাস। টেবলে দু’নম্বর লাজিয়ো তাদের থেকে সাত পয়েন্ট পিছিয়ে। তুরিনের ক্লাবের পয়েন্ট ২৮ ম্যাচে ৬৯। তবে জুভেন্টাসের টানা নবম খেতাব জয়ের সম্ভাবনা নয়, লেচ্চা ম্যাচের পরে যাবতীয় আলোচনা জুড়ে থাকলেন সি আর সেভেন! শুধু ফের নায়ক হয়ে ওঠাই নয়, শূন্যে ভেসে উঠে যে বাইসাইকেল কিক তিনি নিয়েছেন, গোল না-হলেও তা দেখে ফুটবল দুনিয়ার চোখ বিস্ফারিত!   

রিয়াল মাদ্রিদ থেকে জুভেন্টাসে যোগ দেওয়ার সময়ই রোনাল্ডোর শারীরিক সক্ষমতা দেখে চমকে যান চিকিৎসকেরা। বলে দেন, তাঁর শারীরিক সক্ষমতা ২০ বছরের অ্যাথলিটের মতো। করোনার জন্য প্রায় তিন মাস নিভৃতবাসে থাকলেও পাঁচ বারের ব্যালন ডি’ওর জয়ীর পেশি আরও শক্তিশালী হয়েছে। গতিতেও কোনও ভাঁটার লক্ষণ নেই। শরীরের কোথাও অতিরিক্ত চর্বির দেখা নেই। এ’সবই জানিয়েছেন জুভেন্টাসের চিকিৎসকেরা। আর তাঁর ঘনিষ্ঠরা বলছেন, রোনাল্ডো নিজেকে এই জায়গায় রাখতে পেরেছেন অক্লান্ত ট্রেনিং চালিয়ে। এমনকি তাঁর সুইমিং পুলেও বসিয়েছেন ট্রেডমিল। জলের মধ্যে দৌড়ের বিশেষ অনুশীলন করার প্রক্রিয়া আরও শক্তি বাড়িয়েছে তাঁর পায়ের। পঁয়ত্রিশেও তাঁর সেরা অস্ত্র বিদ্যুৎ গতি ধরে রাখতে সাহায্য করছে এই অভিনব ট্রেনিং পদ্ধতি।   
Exit mobile version