লাদেন হত্যার খবর শুনেও শান্ত ছিলেন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট এবং সেনাপ্রধান-বারাক ওবামা

ওয়াশিংটন : ওসামা বিন লাদেনকে খতমের খবরটি শুনে পাকিস্তানের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি বলেছিলেন, ‘খুব ভালো খবর’।

মঙ্গলবার প্রকাশিত হয়েছে প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আত্মজীবনী, ‘আ প্রমিস ল্যান্ড’। সেখানেই লাদেন হত্যা নিয়ে মার্কিন সরকারের প্রস্তুতি ও পাকিস্তানের প্রতিক্রিয়া তুলে ধরেছেন প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ওবামা জানিয়েছেন, ওসামাকে খতম করার পর তৎকালীন পাক সেনাপ্রধান আসফাক পারভেজ কিয়ানিকে ফোন করেছিলেন প্রাক্তন মার্কিন সেনাপ্রধান মাইক মুলেন।

ওসামা বিন লাদেনকে খতমের জন্য অভিনন্দন এবং প্রশংসাই জুটেছিল আমেরিকার। খবরটি শুনে পাকিস্তানের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি বলেছিলেন, ‘খুব ভালো খবর’। এমনকী ওসামার খতমের খবর শুনে কীভাবে জঙ্গিদের হাতে তাঁর স্ত্রী বেনজির ভুট্টো খুন হয়েছিলেন, তা ওবামাকে জানিয়েছিলেন আবেগাপ্লুত জারদারি। ওবামা স্বীকার করেছেন, জারদারির এই প্রতিক্রিয়ায় তিনি কিছুটা অবাকই হয়েছিলেন।  সে খবর শোনার পর বেশ শান্ত ছিলেন কিয়ানি। ওবামার কথায়, ‘লাদেনকে খতমের কথা বিস্তারিতভাবে মুলেনকে প্রকাশ্যে আনতে অনুরোধ করেছিলেন কিয়ানি। এতে পাকিস্তানি জনসাধারণের বিরূপ প্রতিক্রিয়া প্রশমন করতে সুবিধা হবে বলে তিনি জানিয়েছিলেন।’

বেনজির ভুট্টো
আসিফ আলি জারদারি

২০১১ সালের ২ মে পাকিস্তানের অ্যাবটাবাদে মার্কিন নেভি সিলের প্রশিক্ষিত সেনার হাতে খুন হন তৎকালীন আল কায়েদা প্রধান ওসামা বিন লাদেন। ওবামা জানিয়েছেন, লাদেনের অবস্থানের খুঁটিনাটি জানার পরে তাঁর মনে হয়েছিল, পাকিস্তানের প্রশাসন এবং সেনার কাছে এটি ‘ওপেন সিক্রেট’। কূটনৈতিক কারণেই ভারতকে ঠেকাতে আল-কায়েদা এবং তালিবানকে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ব্যবহার করে থাকে পাকিস্তান। ওবামার মতে, লাদেনের অ্যাবটাবাদে থাকার কথাও পাকিস্তান জানত। তাই অতি গোপনে লাদেন হত্যার ছক কষা হয়। অভিযানের আগের দিন প্রাক্তন মার্কিন বিদেশ সচিব হিলারি ক্লিন্টন জানিয়েছিলেন, এই অভিযানের সাফল্যের সম্ভাবনা ৪৯ শতাংশ। ব্যর্থতার কথা ভেবে অভিযানের বিরোধিতা করেছিলেন তৎকালীন ভাইস প্রেসিডেন্ট তথা হবু প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনও।  

 

Exit mobile version