সন্ধান২৪.কম : কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতি বিজড়িত শান্তিনিকেতনের মেলার মাঠে পাঁচিল তোলা ঘিরে আপাতত উত্তপ্ত বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় । সোমবার সকালে পাঁচিল ভেঙে দিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছে স্থানীয়দের একাংশ। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী। এরপর বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ প্রেস বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানায়, যতক্ষণ পরিস্থিতির উন্নতি না হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ রাখা হচ্ছে। তবে ভরতি,পরীক্ষা এবং আপৎকালীন পরিষেবা চালু থাকবে। আর এই বিজ্ঞপ্তি ঘিরেই উঠেছে প্রশ্ন।

যাবতীয় বিতর্কের কেন্দ্রে বর্তমান পৌষ মেলা প্রাঙ্গণ যা দেওয়াল দিয়ে ঘিরতে চান বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ। এই পৌষ মেলা প্রাঙ্গণে প্রতিবছর ডিসেম্বর মাসে পৌষ মেলা অনুষ্ঠিত হয় এবং লাখ লাখ মানুষ ভিড় জমান পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার বোলপুর শহরের উপকণ্ঠে কবিগুরুর শান্তিনিকেতনে। এই শান্তিনিকেতনেই ২০১৮ সালে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশ ভবন উদ্বোধন করেন।

সূত্ররা জানান, দেওয়াল তোলা নিয়ে মতভেদ কয়েক দিন ধরে চলছিল কিন্তু সোমবার চরমে উঠে পরিস্থিতি। বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, ঠিকাদার সংস্থার কর্মীদের রবিবার মারধরও করেছেন কিছু লোকজন। তাও গতকাল উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তীর উপস্থিতিতে পাঁচিল তোলার কাজ শুরু হয়েছিল। কিন্তু পরিস্থিতি আর নিয়ন্ত্রণে থাকেনি।
বিক্ষোভ কার্যত তাণ্ডবে পরিণত হয় সোমবার। স্থানীয় লোকজনই পাঁচিল তোলার কাজ আটকে দেন বলে অভিযোগ উঠেছে। একটি গেটও ভাঙচুর করা হয়েছে। তাছাড়া পাঁচিলের জন্য মাটি কেটে গর্ত করা হয়েছিল তাতেও মাটি ফেলে বুজিয়ে দেন বিক্ষোভকারীরা।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে বিশ্বভারতীর আর কোনো ফারাক থাকছে না। রবীন্দ্র ভাবাদর্শ, ইতিহাস, ঐতিহ্য, ভাবাবেগ সব কিছু ধ্বংস করে নরেন্দ্র মোদি সরকার এখন বিশ্বভারতীকে কংক্রিটের জঙ্গল বানানোর চেষ্টা করছে। বিশ্বভারতীর বর্তমান উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তীকে কাজে লাগিয়ে এই কাজ করছে মোদি সরকার।
বিশ্বভারতীতে এই তাণ্ডবের কিছু সময় পরে মমতা ব্যানার্জি সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপ করার সময় বলেন, সেও এই দেওয়াল তোলার বিরুদ্ধে। তিনি আরো বলেন, বিশ্বকবির উদ্দেশ্যই ছিল, ফাঁকা জায়গায়, প্রকৃতির পরিবেশে, খোলা আলোয়, পাখির কিচিরমিচির ডাকে, গাছতলায় শিক্ষার মুক্ত পরিবেশ তৈরি করা আর সেই পরিবেশ বজায় রেখেই শান্তিনিকেতন তিনি তৈরি করেছিলেন।
মুখ্যমন্ত্রী আরো বলেন, ‘আমি খোঁজ নিয়ে জানতে পেয়েছি, তাতে আমি শুনেছি ওখানে কোনো একটা নির্মাণ কাজ চলছিল। পৌষমেলা যেখানে হয় তার আশেপাশে। ছাত্ররা এবং বোলপুরের মানুষ এটা পছন্দ করেননি। তাঁরা প্রতিবাদ জানান।’
মমতার এই বক্তব্যর কিছু পরে বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ মিটিংয়ে বসেন এবং অনির্দিষ্টকালের জন্য প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেন। তবে তারা এও জানান, পৌষ মেলা প্রাঙ্গণে দেয়াল তুলে দিতে তারা বদ্ধপরিকর।


