নিউইর্য়ক ঃ বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ, যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী শুভলগ্নে সুনামগন্জের শাল্লার নোয়াগাঁও গ্রামে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে হিন্দু বসতিতে আক্রমণ, বাড়ীঘর এবং মন্দির ভাংচুর, লুটপাট ও মহিলাদের শ্লীলতাহানির তীব্র নিন্দা জানায়।
২২ মার্চ সোমবার এক জুম কন্ফারেন্স বলা হয়, সবকিছু জানার পরও প্রশাসন চরম অবহেলা দেখিয়েছে এবং সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা দিতে চরম ভাবে ব্যর্থ হয়েছে। ঐক্য পরিষদ এই আক্রমণের মূল হোতাদের সহ সকল আক্রমণকারীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার জোর দাবী জানায়। এতে ক্ষতিগ্রস্থদের বাড়ীঘর মেরামতসহ ক্ষতিপূরণ প্রদানের ব্যবস্থা গ্রহণের জন্যে সরকারের প্রতি আহবান জানানো হয়। বিভিন্ন বক্তা অত্যন্ত ক্ষোভের সঙ্গে বলেন যে, দেশের বিভিন্ন স্থানে সংখ্যালঘু বসতিতে
সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর এরূপ আক্রমণ একের পর এক ঘটে চল্ছে কিন্তু এই সাম্প্রদায়িক শক্তির বিরুদ্ধে সরকার রহস্যজনক ভাবে নীরব ও নির্লিপ্ত যা অত্যন্ত দু:খজনক ও নিন্দনীয়। কোন কোন বক্তা বলেন যে, বাংলাদেশেকে ধর্মীয় সংখ্যালঘুশূন্য করার ব্যাপারে মৌলবাদী ও সন্ত্রাসী শক্তির সঙ্গে সরকারের নিশ্চয়ই একটা অলিখিত অশুভ চুক্তি হয়েছে; আর যদি না হয়ে থাকে তবে সরকার সেটা রাষ্ট্রধর্ম আইন বাতিল করে, ১৯৭২-এর সংবিধান পুনর্বহাল করে, পার্বত্য শান্তি চুক্তি বাস্তবায়ন করে, এবং বিশেষ ট্রইব্যুনালে সংখ্যালঘু নির্যাতকেদের বিচার প্রক্রিয়া শুরু করে সেটা প্রমান করুক – কাজটা শুরু করুক জজ সাহাবুদ্দীন কমিশনের তালিকাভুক্তদের দিয়ে। ‘হেফাজত-ই-ইসলাম’-কে একটি ‘সন্ত্রাসী’ সংগঠন বলে ঘোষণা করার জন্য ঐক্য পরিষদ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি এক প্রেস বিবৃতিতে সংগঠনের সভাপতি নবেন্দু দত্ত,,টমাস দুলু রায় ও রনবীর বড়ুয়া এবং সাধারণ সম্পাদক দ্বিজেন ভট্টাচার্য্য আহবান জানায়।
কর্মসূচী:ঐক্য পরিষদ শাল্লার ঘটনার প্রতিবাদে রোববার ২৮ মার্চ শুভ দোলপূর্ণিমার দিনে সকল মন্দির ও উপাসনালয়ে ভক্ত ও পূজারিবৃন্দ কালো ব্যাজ ধারন করে শাল্লাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের উপর সাম্প্রদায়িক হামলার প্রতিবাদ ও নিন্দা জানানোর আহবান জানায়। একই সাথে ঐক্য পরিষদ সবার সাথে আলোচনা সাপেক্ষে শিগগিরই নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে একটি বড় ধরণের সমাবেশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
