সন্ধান২৪.কম : শুক্রবার দুপুরে কলাবাগান থানা পুলিশ দিহানকে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মামুনুর রশিদের আদালতে হাজির করে। সেখানে ‘ও’ লেভেলের শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের দায় স্বীকার করেছেন ফারদিন ইফতেখার দিহান (২০)। আদালতে দিহানকে জবানবন্দি দেওয়ার জন্য ১ ঘণ্টার বেশি সময় দেয়। পরে দিহান আদালতে রাজধানীর কলাবাগানে ধর্ষণের কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দেয়।

ধর্ষণের সঙ্গে দিহান একাই জড়িত ছিল বলে জানায় দিহান। বাসায় একা থাকতে পেরে দিহান ওই শিক্ষার্থীকে ফোন করে ডেকে নেয়। বৃহস্পতিবার বেলা ১২টার দিকে ওই শিক্ষার্থী কলাবাগানের লেক সার্কাসের ৬৩/৪, পান্থনিবাস-২ অ্যাপার্টমেন্টের দোতালার ডি-২ ফ্ল্যাটে আসে । করোনার মধ্যে দিহানের বাবা আব্দুর রউফ সরকার রাজশাহীর দুর্গাপুরে তার বড় ছেলের বাড়িতে চলে যান।
বাসায় কেউ ছিল না বলে দিহান নিজেই ওই শিক্ষার্থীকে ফোন করে গ্রুপ স্টাডির কথা বলে বাসায় আসতে বলে। বেলা ১২টার দিকে ওই শিক্ষার্থী তাদের বাসায় এলে তাদের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ কথোপকথন হয়। এক পর্যায়ে দুহান ওই শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ করে। এরপরে ওই শিক্ষার্থীর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হলে, দিহান ভয় পেয়ে যায়। প্রায় ২০/২৫ মিনিট ধরে তারা রক্তক্ষরণ বন্ধ করার চেষ্টা করে। এক পর্যায়ে ওই শিক্ষার্থী জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। তখন দিহান বাসার নিচে গিয়ে গাড়ি পার্কিং থেকে নিজের গাড়িটি বের করে। দোতালা থেকে ওই শিক্ষার্থীকে ধরাধরি করে নামিয়ে এনে গাড়িতে তুলে নিয়ে যায় মডার্ন আনোয়ার খান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। দুপুর ১টা ২৫ মিনিটে হাসপাতালে নেওয়ার পর সেখানে চিকিৎসকরা জানান ওই শিক্ষার্থী আগেই মারা গেছে। তখন সে তার বন্ধু হুমায়িদ মিল্কি, আলভী মাহবুবসহ তিনজনকে ফোন করে হাসপাতালে আসতে বলে। এরপরই পুলিশ তাকে আটক করে কলাবাগান থানায় নিয়ে যায়।
স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে দিহান আরো জানিয়েছে, সে ব্রিটিশ কাউন্সিল থেকে ইডেক্সেল-এ লেভেল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে। যে গাড়িটিতে করে ওই শিক্ষার্থীকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে- সেটি তার বাবা ২০১৯ সালে তার বাবা তাকে কিনে দিয়েছে। নিহত ওই শিক্ষার্থী ছাড়াও তার সঙ্গে আরো এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে অবৈধ সম্পর্ক রয়েছে।
এ ঘটনায় ওই শিক্ষার্থী যে মারা যাবে-সেটি সে কল্পনা করতে পারেনি। তবে তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করার পরিকল্পনা থেকে বৃহস্পতিবার ওই শিক্ষার্থীর কাছে সে ফোন দেয় বাসায় আসার জন্য। আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ার পর আদালত দিহানকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
ধর্ষণের কারণে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ
শুক্রবার দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগে নিহতের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। ধর্ষণের কারণে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণেই তার মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ডা. সোহেল মাহমুদ। তিনি বলেন, ‘ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া শরীরের অন্য কোথাও আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি।
এলাকারবাসির অভিযোগ গ্যাং গ্রুপের নেতা দিহান
কলাবাগান লেক সার্কাস এলাকার বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন, ছোট বেলা থেকেই দিহান বখাটে ছিল। ১৩/১৪ বছর বয়স থেকেই সে এলাকায় মোটরবাইকার হিসেবে পরিচিতি পায়। এলাকায় জোরে হর্ন বাজিয়ে সে মোটরসাইকেল চালাত। লেক সার্কাস এলাকায় দিহান একটি গ্যাং গ্রুপ পরিচালনা করে।
মামলা দায়ের
বৃহস্পতিবার রাতেই নিহত শিক্ষার্থীর বাবা বাদী হয়ে কলাবাগান থানায় দিহানকে একমাত্র আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। পুলিশ এ ঘটনায় দিহানের গাড়িটি জব্দ করেছে। পরে সিআইডির ক্রাইমসিন বিভাগ লেকসার্কাসে আব্দুর রউফ সরকারের ফ্ল্যাট থেকে ধর্ষণের বেশ কয়েকটি আলামত জব্দ করে।
এ ব্যাপারে রমনা বিভাগের উপ-কমিশনার সাজ্জাদুর রহমান বলেন, ঘটনাটি আমরা কঠোরভাবে তদন্ত করছি। এ ঘটনায় যারাই জড়িত থাকুক, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। ধর্ষণ ও হত্যার বিষয়টি ময়নাতদন্ত রিপোর্ট অনুযায়ী নিশ্চিত হওয়া যাবে। তবে এ ঘটনায় দিহানকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার দুপুরে কলাবাগানের লেকসাকার্সের ফ্লাট থেকে অচেতন অবস্থায় মাস্টারমাইন্ড স্কুলের ও লেভেলের শিক্ষার্থীকে মডার্ন আনোয়ার খান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় নিহত শিক্ষার্থীর বন্ধু ইফতেখার ফারদিন দিহানকে পুলিশ গ্রেফতার করে।


