সন্ধান২৪.কম প্রতিবেদন : পবিত্র ঈদুল ফিতরের শেষ মুহুর্তে জমে উঠেছে নিউইয়র্কের বাজারগুলো। শেষ মুহূর্তের কেনাকাটায় মার্কেটগুলোতে এবং ফুটপাতে বাড়ছে ক্রেতাদের ভিড়। রং-বেরঙের পোশাক কিনতেই বেশি ব্যস্ত নারী-পুরুষ ও তরুণ-তরুণীরা।
জানা গেছে, জ্যাকসন হাইটস,জ্যামাইকা,ব্রঙ্কস,এস্টোরিয়া,ব্রুকলিন,ওজনপার্কের বাজারগুলো এখন ক্রেতাদের পদচারণায় মুখর। রমজানের শুরুতে বাজারে ক্রেতাদের উপস্থিতি কম থাকলেও, ১৫ রোজার পর থেকেই জমে উঠেছে কেনাবেচা। তবে ঈদ শেষ মূহুর্তে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত মার্কেটগুলোতে ভিড় করছেন ক্রেতারা। ঈদ উপলক্ষে, জুতা, প্রসাধনী থেকে শুরু করে শিশুদের ঈদের নতুন জামা সবকিছু কিনতেই ভিড় করছেন ক্রেতারা।


বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রায় সর্বত্রই বাংলাদেশ,ভারত,নেপাল ও পাকিস্তানের ডিজাইনের থ্রিপিস ও শাড়ির সংগ্রহ লক্ষ্য করা গেছে। কাশ্মিরী ডিজাইন, সিকোয়েন্সের কাজ, জরি-সুতোর বাহারি নকশার শাড়ি, পাকিস্তানি ঝলমলে কাপড়ে বাহারি সুতোর কাজ, উজ্জ্বল রঙের জর্জেট, টিস্যু কাপড়ে জরি ও চুমকির কাজ, দেশীয় আল্পনা, এপিক ও স্ক্রিন-বুটিক-বাটিকের পোশাক সম্ভার দারুণ আকর্ষণ করেছে ক্রেতাদের। পুরুষদের জন্য দেশি ব্র্যান্ডের পাশাপাশি ভারতের- নানা ডিজাইনের টুপি,পাঞ্জাবি এবং চীন-থাইল্যান্ডের বিভিন্ন ডিজাইনের শার্ট-প্যান্ট ও টি-শার্টের সমাহারও উল্লেখ করার মতো।

এবার নিউইয়র্কের ফুটপাতে বেশী বেচাকেনা হচ্ছে বলে ক্রেতা ও বিক্রেতারা জানান। তার কারণ হিসেবে তারা বলেন, বিভিন্ন দোকানের চেয়ে ফুটপাতে অপেক্ষাকৃত কম দামে পণ্য কিনতে পাওয়া যাচ্ছে।

ব্যবসায়ীরা জানান পাঞ্জাবি ১৫ থেকে ৮০ ডলার এবং শার্ট ৫ থেকে ৫০ ডলারে বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া বিভিন্ন ধরনের থ্রি-পিস বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে সাড়ে ৫০ ডলারের মধ্যে। এ বছর ভারতীয় ও পাকিস্তানি থ্রি-পিসের চাহিদা বেশি বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা। প্রতিটি শাড়ি বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে ১০০ ডলারের মধ্যে। তবে কিছু কিছু পণ্যের দাম তুলনামূলক বেশি হওয়ায় মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষদের মধ্যে রয়েছে কিছুটা অসন্তোষও। অনেকে ফুটপাত থেকে কমদামে একটু মান সম্মত পোষাক কিনছেন।

ফাহমিদা চৌধুরী লুনা নামে এক ক্রেতা বলেন, গত বছরের তুলনায় এ বছর পোশাকের দাম কিছুটা বেশি। তবে ঈদের আনন্দে প্রিয়জনের মুখে হাসি ফোটাতে একটু বেশি দাম দিয়েই পোশাক কিনতে হচ্ছে।

কাশেম নামে আরেক ক্রেতা বলেন, মধ্যম আয়ের পরিবারের জন্য বর্তমান বাজার মোটামুটি ভালো মনে হচ্ছে। তবে পণ্যগুলোর আরও কিছুটা দাম কম হলে সবারই কেনাকাটা করতে সুবিধা হতো।

নাজমা আকতার নামে আরেক নারী জানান, আমার পরিবারের বাজেট অল্প। আমি আমার ছেলে ও আমার বোনের জন্য কেনাকাটা করতে এসেছি। ওদের জন্য কেনাকাটা শেষ হলে, সম্ভব হলে আমি কিছু কিনব। তবে দাম একটু বেশি।


