শ্রীলঙ্কায় নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের ঘাটতি এবং দাম বেড়েই চলছে। প্রতিবাদে বিক্ষোভও চলছে। মন্ত্রীসভার সদস্যরা একযোগে পদত্যাগ করলেও বিক্ষোভকারীরা ক্ষমতাসীন রাজাপাকসে পরিবারের পদত্যাগ দাবি করে আসছেন।
এদিকে, তীব্র বিক্ষোভের মধ্যেই শ্রীলঙ্কায় দেখা গেলো সম্পূর্ণ ভিন্ন এক চিত্র। দেশটির সেনাবাহিনী এবং পুলিশ মঙ্গলবার প্রকাশ্য সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েছিল।
তামিল গার্ডিয়ান সূত্রে জানা যায়, সারা দেশে তীব্র সরকারবিরোধী বিক্ষোভের ন্যায় মঙ্গলবার রাজধানী কলম্বোতে সংসদের কাছেও বিক্ষোভ চলছিল। ওই বিক্ষোভে শিশু, নারী এবং বয়স্ক মানুষরাও অংশ নিয়েছিলেন। আর হঠাৎ করেই বিক্ষোভকারীদের ভীড়ের মধ্য দিয়ে কয়েকজন সশস্ত্র সৈন্য চলে যান।
ওই সৈন্যরা ছিল মুখোশধারী এবং তাদের হাতে ছিল অ্যাসল্ট রাইফেল। তাদের বহনকারী মোটর বাইকগুলোতে কোনো নম্বর প্লেটও ছিল না।
সেখানে উপস্থিত পুলিশ কর্মকর্তারা তাদের থামানোর চেষ্টা করলে ব্যাপারটি সশস্ত্র সৈন্য এবং পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষে রূপ নেয়। ওদিকে, বিক্ষোভকারীরাও ততক্ষণে সৈন্যদের ঘিরে ফেলে। শুরু হয় বিস্ফোরণ।
ঘটনা এখানেই থেমে থাকে নি। ওই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে শ্রীলঙ্কার সেনাপ্রধান শাভেন্দ্র সিলভা তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি এক বিবৃতিতে পুলিশের প্রধানকে ঘটনার তদন্ত করে ‘দোষী’ পুলিশদের শাস্তি দিতে বলেছেন।
এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। অনেকে বলছেন, স্থানীয় জনগণকে ভয় দেখানো ‘পরিচয়হীন’ সশস্ত্র সামরিক ব্যক্তিদের উপস্থিতি দ্বীপরাষ্ট্রটিতে নতুন কোন ঘটনা নয়। দেশটির উত্তর-পূর্ব অঞ্চলে, শ্রীলঙ্কার সামরিক বাহিনী ক্রমাগতভাবে তামিল এবং মুসলিম জনগণের উপর নজরদারি ও হয়রানি করেছে। শ্রীলঙ্কায় সশস্ত্র সংঘাত প্রায় ১৩ বছর আগে শেষ হয়ে গেলেও উত্তর-পূর্ব অঞ্চলজুড়ে ব্যাপকভাবে সামরিকীকরণ চলছে।
ওই ঘটনার একজন প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন সাংবাদিক মারলন আরিয়াসিংহে। তিনি টুইটারে ঘটনার ভিডিও পোস্ট করে লিখেছেন, “(প্রেসিডেন্ট) গোটাবায়া (রাজাপাকসে) এবং তার ভাড়া করা গুন্ডাদের বন্দুক ব্যবহার করে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ ভাঙার চেষ্টা চালানো দেখে মাথাটা খারাপ হয়ে গেলো। ভীড়ের মধ্যে শিশু, যুবক এবং বৃদ্ধও ছিলেন! তাদের মাঝে তোমরা বন্দুক নিয়ে আসলে কেন? তোমরা কাকে গুলি করার চেষ্টা করছো?”
ওই ঘটনা নিয়ে আজ (বুধবার) শ্রীলঙ্কার সংসদও ছিল উত্তপ্ত। ডেইলি মিরর এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ফিল্ড মার্শাল শরৎ ফনসেকা এমপি সংসদে পুলিশ কর্তৃক সেনাদের ‘আক্রমণের’ নিন্দা জানান। যদিও তিনি এটাও বলেন, “নম্বর প্লেট ছাড়া মোটর বাইকে সেনা কর্মকর্তাদের আসাটা উচিত হয়নি। আমি জানি না ওই অফিসারদের কেউ পাঠিয়েছিল কি না। কিন্তু, যতো যাই হোক, ঘটনাস্থলে তাদের আগমনকে সমর্থন করা যায় না।”
