সন্ধান২৪.কম: “দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে সংখ্যালঘু নাগরিকদের নিরাপত্তা” শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচনের সময় কিংবা তৎপরবর্তীকালে ২০০১ সালের অক্টোবর মাসের মত সম্ভাব্য সংখ্যালঘু বিরোধী সন্ত্রাস ঠেকানো এবং ত্বরিৎ গতিতে মোকাবেলার জন্য অগ্রীম ব্যবস্থা গ্রহন করতে অনুরোধ জানায় যুক্তরাষ্ট্র ঐক্য পরিষদ। গত ৩১ ডিসেম্বর রবিবার, দুপুরে নিউ ইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসে নবান্ন রেস্তরাঁর নির্বাচনকে সামনে রেখে যুক্তরাষ্ট্র হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ সংবাদ সম্মেলনে সরকার ও নির্বাচন কমিশনের কাছে এমম দাবী জানান।
সংগঠনের যুগ্ম সম্পাদক বিষ্ণু গোপ লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান। সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন সংগঠেনের অন্যতম সভাপতি অধ্যাপক নবেন্দু দত্ত ,সাধারণ সম্পাদক ডক্টর দ্বিজেন ভট্টাচার্য, প্রাবন্ধিক শিতাংশু গুহ, রীণা সাহা, ও ডক্টর দিলীপ নাথ।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তার জন্য নির্বাচনের আগে ও পওে, দেশের নির্বাচন কমিশনারের উচিৎ রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ, সকল রাজনৈতিক দলের প্রধান, ও সচেতন নাগরিকদের সম্পৃক্ত করে সম্ভাব্য সংখ্যালঘূ বিরোধী সন্ত্রাসী আক্রমণ ঠেকাতে আগাম প্রস্তুতি নেওয়া। কোন দুর্ঘটনা ঘটে গেলে সেটা ত্বরিৎ গতিতে মোকাবেলার মূল দাযিত্বটা র্যাব, বি. জি. বি., ও সেনাবাহিনীর ওপর ন্যাস্ত করা।
কীভাবে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের স্থায়ী সমাধান হতে পারে ? এই সাংবাদিকদরে প্রশ্নের উত্তরে একাধিক উত্তরদাতা বলেন যে, এটা নির্ভর করছে সরকারের সদিচ্ছার ওপর সরকার যদি যুক্তরাষ্ট্রের মত হেইট ক্রাইম ও স্পীচ আইন অন্তর্ভুক্ত করে একটি কঠোর মইনোরিটি এ্যক্ট প্রনয়ণ করে এবং সংখ্যালঘু নির্যাতকদের বিচার প্রক্রিয়া শুরু করে, তা’হলে সাম্প্রদায়িক শক্তি সংখ্যালঘু নাগরিকদের নির্যাতন করার দু:সাহস করবে না। তাঁরা বলেন এটা সম্ভব হতে পারে শুধু যদি প্রগতিশীলরা সরকারের ওপর চাপ সৃষ্ঠি করেন।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ৭ জানুয়ারী বাংলাদেশে অনুষ্ঠেয় দ্বাদশ সংসদীয় নির্বাচন ও তৎপরবর্তী সময়ে দেশে আমাদের আত্মীয় স্বজনদের নিরাপত্তা নিয়ে আমারা শঙ্কিত। যুক্তরাষ্ট্র ঐক্য পরিষদ এই নির্বাচনটি ‘সুষ্ঠু ও অবাধ’ হবে বলে আশা প্রকাশ করছে। বাংলাদেশে নির্বাচন মানেই তো সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর আরেক দফা পৈশাচীক নির্যাতন। অতীতের বারবার তিক্ত অভিজ্ঞতার কারণে, এমনতর ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে আগাম ব্যবস্থা গ্রহন করার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ঐক্য পরিষদ দেশের সংশ্লিষ্ট সকল মহলের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে। কেন্দ্রীয় ঐক্য পরিষদ সংবাদ সম্মেলন করে এ’ ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং নির্বাচনের পরেও তিন সপ্তাহ সেনা-সদস্যদের মাঠে রাখার দাবি জানিয়েছে।
লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়,একটি বড় রাজনৈতিক দল ও তার সমমনা গোষ্ঠী সারা দেশে অগ্নি সন্ত্রাস করে মানুষ হত্যা করছে, তারা ৭ জানুয়ারীর নির্বাচন বয়কট ও অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দিয়েছে, এমন কি নির্বাচন প্রতিহত করারও ঘোষণা দিয়েছে। তার উপর রয়েছে আন্তর্দলীয় কোন্দল। যাঁরা নির্বাচনে অংশ গ্রহন করছেন, তাঁরা স্বাভাবিকভাবেই সবাইকে ভোট দিতে উৎসাহ দিচ্ছেন। সংখ্যালঘু নাগরিকরা অতীতের মত এবারও নিশ্চয়ই ভোট দিতে যাবেন। আর, ভোট দিতে গেলে তাঁরা যে অতীতের মতই সাম্প্রদায়িক শক্তির রোষাণলে পড়বেন সে আশঙ্কা যুক্তিসঙ্গত। তাই, আমরা আজ আপনাদের মাধ্যমে দেশের নির্বাচন কমিশন, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, সেনাবাহিনী, বিজিবি মোতায়েন করে নির্বাচনের পরিবেশ স্বাভাবিক রাখার আহ্বান জানান।
…


