সন্ধান২৪,কম : শারীরিক প্রতিবন্ধী সন্তান জন্ম দেয়ায় এক গৃহবধূকে তালাক দেয়ার অভিযোগ উঠেছে ।
এমনই এক অমানবিক ঘটনা ঘটেছে পাবনার চাটমোহর উপজেলার ডিবিগ্রাম ইউনিয়নের কাটাখালি গ্রামে। এমন আচরণে স্তম্ভিত হয়ে পড়েছেন এলাকার মানুষ। সবাই এর ন্যায়বিচার চেয়েছেন।
দুলালী খাতুনকে তালাক দিলেন তার স্বামী আলামিন হোসেন । শুধু তাই নয়, গত পাঁচ মাস আগে কাজী অফিসে এসে তালাক দেয়ার পর কাগজ নিজের কাছে গোপন করে রাখেন আলামিন। শনিবার ডাকযোগে আলামিন হোসেনের পাঠানো তালাক নোটিশ হাতে পান দুলালী।
জানা গেছে, ছোটবেলায় মারা যান দুলালীর বাবা কাটাখালি উত্তরপাড়া গ্রামের আবুল হোসেন। মা খইচন বেওয়া মানুষের বাড়ি কাজ করে অনেক কষ্টে একমাত্র মেয়েকে মানুষ করেন। বছরপাঁচেক আগে এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে এবং আত্মীয় স্বজনদের কাছ থেকে ধার দেনা করে একই এলাকার কান্দিপাড়া গ্রামের রব্বান হোসেনের ছেলে দিনমজুর আলামিন হোসেনের সাথে বিয়ে দেয়া হয় দুলালীর। বিয়েতে যৌতুক হিসেবে দেয়া হয়, নগদ ১০ হাজার টাকা, একটি বাইসাইকেলসহ নানা জিনিসপত্র।
বিয়ের দুই বছর পর দুলালীর কোল আলো করে জন্ম নেয় ছেলে সন্তান। নাম রাখেন ‘দুর্জয়’। কিন্তু দুর্জয় শারীরিক প্রতিবন্ধী হওয়ায় দুলালীর কপালে নেমে আসে দুঃখ। শুধু এই কারণে বছরদুয়েক আগে আলামিন, তার বাবা রব্বান হোসেন এবং শাশুড়ি ফরিদা খাতুন দুলালীকে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করে বাড়ি থেকে বের করে দেন। দুলালীর ঠাঁই হয় মা খইচন বেওয়ার কাছে। এরপর ন্যায়বিচার চেয়ে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান, মেম্বরসহ গ্রাম-প্রধানদের কাছে বারবার ধর্ণা দিয়েছেন দুলালী ও তার পরিবার। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে মেলেনি কোনো প্রতিকার।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে দুলালী খাতুন বলেন, ‘প্রতিবন্ধী সন্তান জন্ম দেয়া কি আমার অপরাধ? প্রতিবন্ধী সন্তান জন্ম দিয়েছি বলে স্বামী-শ্বশুর, শাশুড়ি মারধর করে আমাকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছিল। এখন স্বামী তালাক দিলো! আমি স্বামীর সংসার করতে চাই। আমি এর ন্যায়বিচার চাই।’
চাটমোহর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈকত ইসলামকে বিষয়টি জানালে তিনি বলেন, ‘স্বামী বা স্ত্রী যে কেউ তালাক দিতে পারে। তবে প্রতিবন্ধী সন্তান জন্ম দেয়ার কারণে যদি এমন ঘটনা ঘটে তবে বিষয়টি অমানবিক।’ এ ব্যাপারে ইউপি চেয়ারম্যানের সাথে কথা বলে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তিনি।


