সন্ধান২৪.কম ডেস্ক ঃ বাঙালির চিরন্তন প্রার্থনা তার সন্তানের মুখে একটু দমাছ-ভাত তুলে দেয়া। মাছ পুষ্টিদায়ক আর শিশুর জন্য মাছ পরিপূর্ণ খাবার। সব বাঙালিই ছোট বয়সে উপদেশ শুনেছে “মাছ খাও না হলে বড় হবে না” “মাছ খাও, মাথায় বুদ্ধি হবে” বা “এই মাছ খাও,পরীক্ষার ফল ভালো হবে”।

আজকাল কিন্তু প্রবাসীরা তাদের সন্তানদের আর মাছ নিয়ে এসব কথা বলেন না। অনেকের বাড়িতে বাচ্চারা দামি খাবার খায়,কিন্তু মাছ খাবে না।
অথচ প্রবাসের অসংখ্য শিশু অপুষ্টির শিকার। ইউনিসেফের নতুন পরিসংখ্যান মতে ৩০-৪০ শতাংশ শিশু অপুষ্টিতে ভুগছে। ছেলে মেয়েরা প্রয়োজনীয় পুষ্টিকর খাবার আর পরিপালনের বাইরে। প্রশ্ন জাগে চিরন্তন বিশ্বাস যে মাছ শিশুদের পুষ্টি যোগায়, তা থেকে আমরা তাদেরকে দূরে সরে রাখছি না তো? শিশু স্বাস্থ্যের সাথে জড়িত মায়েদের স্বাস্থ্য। মায়েরা নিয়মিত মাছ খাচ্ছেন তো? শিশুর খাদ্য তালিকায় সর্ব মোট মাছ, মাংস আর ডিমের অনুপাত বেড়েছে নজর কাড়ার মতো। কিন্তু মাছের অনুপাত শিশুর খাদ্যে প্রত্যাশিত সমানুপাতে বাড়েনি।
এক গবেষণায় বলছে,মায়েদের উচ্চশিক্ষার সাথে মাছ খাওয়ানোর প্রবণতা কমেছে। সব মিলিয়ে ডিম ও মাংসের তুলনায় বেশি পুষ্টিকর,উপকারী ও সস্তা হওয়া সত্ত্বেও,শিশুর খাবারে মাছের অনুপাত কমেছে।গবেষণা দেখিয়েছে যে,শিশু জন্মের আগে ও পরে মায়েরা একটু বেশি মাছ খেলে জন্মের প্রথম বছরে শিশুর মৃত্যুর আশংকা কমে যায়,আর জ্বর, কাশি,পেটের অসুখেও অপেক্ষেকৃত কম ভোগে শিশুরা।
বিশ্বব্যাংকের এক গবেষণা যেন কিছুটা ভুলে যাওয়া ঐতিহ্য মনে করিয়ে দেবার প্রচেষ্টা। শিশু স্বাস্থ্যের খাতিরে মাছের যোগান বাড়াতে হবে। বিশেষত: শিক্ষিত মায়েদের জানাতে হবে মাছ খাওয়া কত প্রয়োজন। কেবল শিশুর খাবার নয়, অন্তঃসত্ত্বা মায়েদের বছর ধরে খেতে হবে আরো একটু বেশী মাছ। গবেষণাটি আশা করে যে শিশুর অপুষ্টির অন্যতম সমাধান হবে বাঙ্গালীর চির পরিচিত মাছে ভাতে। আর ভাবতে ভালো লাগে যে সবার প্রার্থনা যেন হয়, কেবল সন্তান নয়, জননীরাও যেন সবাই থাকেন মাছে – ভাতে।


