সরকার পতনের লক্ষ্যে তারেক প্রতিনিধির সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে ব্যাংককে হেফাজতের মনির

মনির হোসেন কাশেমী

সন্ধান২৪.কমঃ শেখ হাসিনা সরকার পতনের আন্দোলন তীব্র থেকে তীব্র করতে তারেক রহমানের একজন প্রতিনিধির সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে ব্যাংকক গিয়েছিলেন হেফাজতে ইসলামের মনির হোসেন কাশেমী।

অর্থ সম্পাদক কাশেমী গত বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে বিএনপি ও হেফাজতের একজন শীর্ষ নেতার নির্দেশে  ব্যাংকক যান। সেখানে একজন ব্যক্তির সঙ্গে তার গোপন  বৈঠক হয়। ওই বৈঠকে সরকার পতনের আন্দোলন নিয়ে ব্যাপক  আলোচনা হয়। এজন্য  ব্যাংকক থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থও নিয়ে আসেন কাশেমী। গ্রেফতারের পর ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের কাছে জিজ্ঞাসাবাদে এসব তথ্য জানিয়েছেন তিনি। পাঁচ দিনের রিমান্ড শেষে কাশেমী এখন কারাগারে রয়েছেন।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) বলেন, ‘মনির হোসেন কাশেমীর কাছ থেকে অনেক চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। এসব তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। পরবর্তীতে তাকে আবারও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে আনা হবে।’

হেফাজতে ইসলামের সঙ্গে বিরোধীদলীয় নেতাদের রাজনৈতিক যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে কাজ করতেন মনির হোসেন কাশেমী। হেফাজতে ইসলামের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে যে ক’জন রাজনৈতিক উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা নিয়েছিলেন, মনির হোসেন কাশেমী তাদের মধ্যে অন্যতম। ভারতের দেওবন্দ মাদ্রাসায় পড়াশোনা শেষে সৌদি আরবে চলে যান তিনি। সৌদি আরবের রাজপরিবারের একজন প্রভাবশালী ব্যক্তির সঙ্গে তার পরিচয় হয়েছিল। সেই পরিচয় কাজে লাগিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ থেকে অর্থ সংগ্রহ করে বাংলাদেশে পাঠাতেন তিনি।

গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানান, ২০১২ সালে সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরে প্রথমে গাজীপুরের একটি মাদ্রাসায় চাকরি করেন। সেখান থেকে কয়েক কোটি টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। পরবর্তীতে তিনি বারিধারার জামিয়া মাদানীয়া আরাবিয়া মাদ্রাসায় শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। এই মাদ্রাসার শায়খুল হাদিস নূর হুসাইন কাশেমীর সংস্পর্শে থাকায় হেফাজতে ইসলামে মনির প্রভাব বিস্তার করেন। এ কাজ আরও বেশি সহজ করার জন্য হেফাজতের আমির মাওলানা জুনায়েদ বাবুনগরীর খাদেম হিসেবে ইনামুল হাসান ফারুকীকে তিনি নিযুক্ত করেন। তারা দুজনে মিলে হেফাজতের শীর্ষ নেতাদের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করে সহিংসতার দিকে ঠেলে দিয়েছিলেন।

গোয়েন্দা  জানান, মনির হোসেন কাশেমী হেফাজতে ইসলামের আন্দোলন চাঙা করতে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ থেকে অর্থ সংগ্রহ করতেন। এছাড়া গুলশান, বনানী, বারিধারা এলাকার ধনাঢ্য ও দানশীল ব্যক্তিদের কাছ থেকে মাদ্রাসার নামে বিপুল পরিমাণ অর্থ সংগ্রহ করেছেন। এছাড়া ২০১৭ সালে রোহিঙ্গাদের সহায়তার নামেও মুসলিম দেশগুলো থেকে অর্থ সহায়তা নেন। কিন্তু এসব অর্থ যথাযথভাবে খরচ না করে নিজে আত্মসাৎ করেছেন।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার  বলেন, হেফাজতের অর্থ সম্পাদক মনির হোসেন কাশেমী মধ্যপ্রাচ্য থেকে অর্থ আনার বিষয়টি সমন্বয় করতেন। আমরা তদন্তে লক্ষ করেছি, হেফাজতের যে অর্থায়ন করা হয় তা অনেকটাই বিদেশ থেকে আসে। মূলত, রোহিঙ্গা ইস্যু, মাদ্রাসা, এতিমদের জন্য টাকা আসে। তাছাড়া কিছু টাকা আসে যা শুধু হেফাজতের দলীয় কার্যক্রম পরিচালনার জন্য। কিন্তু এই টাকাগুলো তাদের হিসাবে সঠিকভাবে রাখা হয় না। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড বা হেফাজতের নিজস্ব এজেন্ডা বাস্তবায়নের উদ্দেশে ওই টাকা ব্যবহার করা হয়েছে। তদন্তে বিপুল পরিমাণ টাকা তছরুপের তথ্যও মিলেছে। আমরা আরও গভীরভাবে তদন্ত করছি।

 

 

Exit mobile version