সাংবাদিক,গোয়েন্দা, রাজনীতিবিদ, আমলা সবাই সাহেদের কাছে নিয়মিত টাকা নিতেন

সন্ধান২৪.কম : সাহেদ স্বীকার করেছেন, তিনি সাংবাদিকদের নিয়মিত টাকা দিতেন। তার কাছে ছিল ‘এ’ ও ‘বি’ ক্যাটাগরির পছন্দের সাংবাদিকদের তালিকা। প্রতি মাসেই তাদের বিভিন্ন অঙ্কের টাকা প্রদান করতেন সাহেদ। গোয়েন্দা সংস্থার কিছু কর্মকর্তাও তার কাছ থেকে নিয়মিত টাকা নিতেন । এ ছাড়াও  রাজনীতিবিদ, আমলা, সাংবাদিকসহ অনেকেই রয়েছেন, যাদের তিনি নিয়মিত টাকা দিয়ে প্রতারণার কাজ নি র্ধিধায় চালিয়ে যেতেন
জিজ্ঞাসাবাদে সাহেদ তদন্তকারী কর্তৃপক্ষের কাছে অনেকের নাম বলেছেন। । তার এই তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে, তদন্তও চলছে। তাদেরকে আইনের আওতায় আনা হবে বলে তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান। তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে সাহেদ বলেছেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তর থেকে টাকার বিনিময়ে সব কিছু করা সম্ভব। টাকার বিনিময়ে পুরুষকে মহিলা ও মহিলাকে পুরুষ বানানো যায়। সেখানকার চেয়ার-টেবিল পর্যন্ত টাকা খায়। 

রিজেন্ট গ্রুপের মালিক মোহাম্মদ সাহেদ অভিযানের আগেই প্রতারণার সব তথ্য সরিয়ে ফেলেন। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে সাহেদ এ তথ্য জানিয়ে বলেন, অভিযান হওয়ার তথ্য তিন দিন আগেই একজন গোয়েন্দা কর্মকর্তা তাকে জানিয়ে দেন। তাই তার দুটি কম্পিউটার ডেস্কটপ তিনি সরিয়ে ফেলে সংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের ছুটিতে পাঠিয়ে দেন। কম্পিউটারের হার্ডডিস্কও ভেঙে ফেলা হয়। ঐ দুই কম্পিউটারে প্রতারণার ডকুমেন্ট ও করোনাসহ বিভিন্ন ভুয়া সার্টিফিকেট ছিল। এই মহাপ্রতারক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে ভুয়া সার্টিফিকেটও বিক্রি করতেন টাকার বিনিময়ে। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি প্রতারণার সব তথ্য স্বীকার করেছেন।

উত্তরায় একটি জাপানি খাবারের দোকান ছিল। বাংলাদেশের এক নাগরিক সুস্বাদু এই খাবার বিক্রি করতেন। করোনার ভুয়া রিপোর্ট প্রদান নিয়ে আলোচনায় আসা মোহাম্মদ সাহেদ এই জাপানি খাবারের দোকানও দখল করে নেন। এ ব্যাপারে উত্তরা থানায় একটি মামলা রয়েছে। এ ছাড়া মেট্রোরেলে কর্মরত শ্রমিক ও কর্মকর্তাদের কাছে করোনার ভুয়া সার্টিফিকেটও বিক্রি করেছিলেন সাহেদ। এটিও তিনি জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন। 

সাহেদের অ্যাক্রেডিটেশন কার্ড বাতিল

তথ্য অধিদপ্তর থেকে সাহেদ যে অ্যাক্রেডিটেশন কার্ড নিয়েছিলেন, তা বাতিল করা হয়েছে। এ ব্যাপারে তথ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলেন, ‘এটা সাধারণ প্রক্রিয়া। আমাদের নীতিমালাতেই বলা আছে, যদি কেউ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হন, তাহলে তার অ্যাক্রেডিটেশন কার্ড বাতিল হয়ে যাবে’। সম্প্রতি সাহেদ দৈনিক নতুন কাগজ নামের একটি পত্রিকা প্রকাশ করেছিলেন। তিনি সেই কাগজের সম্পাদক ও প্রকাশক হিসেবে তথ্য অধিদপ্তর থেকে অ্যাক্রেডিটেশন কার্ড পেয়েছিলেন।

সাহেদ বর্তমানে র্যাবের দেওয়া মামলায় আদালতের নির্দেশে ডিবির কাছে ১০ দিনের রিমান্ডে রয়েছেন। গত ১৫ জুলাই ভোরে সাতক্ষীরার দেবহাটা সীমান্ত থেকে সাহেদকে গ্রেফতার করে র্যাব। সেদিনও তার কাছে একটি লাইসেন্সবিহীন পিস্তল ও গুলি পাওয়ার কথা জানানো হয়।

Exit mobile version