সুনামগঞ্জের শাল্লায় সাম্প্রদায়িক হামলার প্রতিবাদে নিউ ইয়র্কে সমাবেশ

সন্ধান২৪.কমঃ স্থানীয় সময় শুক্রবার (১৮ মার্চ) সন্ধ্যায়  সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার নোয়াগাঁও গ্রামে হিন্দুদের বাড়িঘরে হামলা, মন্দির ভাঙচুর ও লুটের ঘটনায় দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে নিউ ইয়র্ক প্রবাসী সুশীল সমাজ।

সেই সাথে কর্মসূচি থেকে হামলা, অগ্নী সংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঠেকাতে প্রশাসন ও পুলিশের কর্মকর্তারা ব্যর্থ দাবি করে তাঁদের অপসারণ দাবী জানানো হয়।

বাঙালীর রাজধানী হিসেবে খ্যাত জ্যাকসন হাইটসের ডাইভারসিটি প্লাজায় আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

নিউইর্য়কের  মুক্তমনা সচেতন প্রবাসীদের আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য করেন প্রবীন সাংবাদিক সৈয়দ মোহাম্মদউল্লাহ , মুক্তিযোদ্ধা শরাফ সরকার ও আব্দুল বাতেন, গণজাগরণ মঞ্চের সংগঠক সৈয়দ জাকির আহমেদ রনি, যুক্তরাষ্ট্র জাসদের সাধারণ সম্পাদক নুরে আলম জিকু, জ্যামাইকা উদীচী শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক হিরো চৌধুরী,কমিউনিটি অ্যাকটিভিস্ট গোপাল সান্যাল ও শুভ রায়, প্রজন্ম একাত্তরের আহ্ববায়ক শিবলী ছাদেক শিবলু, কমিউনিটি অ্যাকটিভিস্ট  দীনেশ চন্দ্র মজুমদার,  সাংবাদিক শামীম আল-আমিন , সনজীবন কুমার প্রমুখ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সাবেক ছাত্র নেতা মুজাহিদ আনসারী।

গত বুধবার ফেসবুকে একটি পোস্ট দেওয়াকে কেন্দ্র করে সুনামগঞ্জের শাল্লার হিন্দু অধ্যুষিত একটি গ্রামে ভয়ঙ্কর তাণ্ডব চালানো হয়। ওই ঘটনায় হেফাজতে ইসলামের সম্পৃক্ততার অভিযোগ করে বক্তারা বলেন, ‘ধর্মীয় উগ্রবাদীরা যেভাবে বাড়াবাড়ির চূড়ান্ত করছে, তাতে বাংলাদেশ তার অসাম্প্রদায়িক চেতনা হারাতে বসেছে’।’ স্বাধীনতার ৫০ বছরে এমনটি হওয়ার কথা ছিল না বলেও আক্ষেপ করেন অনেকে।

বক্তারা  বলেন, ‘এই পরিস্থিতি বদলাতে সবাইকে সত্যিকারের সদিচ্ছা  নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে। হামলা ঠেকাতে প্রশাসনের উদাসীনতার অভিযোগ তুলে বক্তারা বলেন, ‘সতর্ক হলে হয়তো হামলা ঠেকানো যেতো”। তারা আরও বলেন, ‘সঠিক বিচার হয় না বলেই এমন ঘটনা বার বার ঘটছে।’

কেবল আইনের কঠোর প্রয়োগ নয়, যেই গোষ্ঠী সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প ছড়াচ্ছে তাদেরকে সমুলে নিশ্চিহৃ করারও দাবি জানানো হয়েছে প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে। ভবিষ্যত প্রজন্মের আর কাউকে যেনো ভুল বুঝিয়ে সাম্প্রদায়িক মনস্ক করা সম্ভব না হয়, সে বিষয়েও সবাইকে সজাগ ‍দৃষ্টি দেয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি  আহবান জানানো হয়েছে।

বক্তারা বলেন, ‘এ ধরনেইর ঘটনা বার বারই ঘটছে। একবার ঘটনা ঘটে গেলে চারপাশে হইচই পড়ে যায়। কিছুদিন গেলে পরিস্থিতি আবারো একই রূপ নেয়। চাপা পড়ে যায় সবকিছু। দোষীরা ছাড়া পেয়ে যায়”। পরিস্থিতি বদলাতে দেশের সচেতন নাগরিকদের একসঙ্গে কাজ করার তাগিদ দেন সবাই। সেই সঙ্গে সরকারকেও এ ব্যাপারে আরো কঠোর ভূমিকা নিতে হবে বলে মনে করেন তাঁরা।

 

Exit mobile version