সন্ধান২৪.কম ডেস্ক : সোনালি স্মার্টফোন বিক্রির নামে মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে দেশবাসীর থেকে হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে কয়েক কোটি ডলার। দুই ছেলের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ ওঠায় বিপাকে খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ! বিষয়টি আগামী দিনে ট্রাম্পের রাজনৈতিক জীবনে বড় প্রভাব ফেলতে চলেছে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
সোনালি স্মার্টফোন ‘টি১’ বাজারে আনার কথা বলে প্রচারে ঝড় তোলে ট্রাম্পের সংস্থা। ১০০ ডলার খরচ করে অগ্রিম বরাতও দিয়ে ফেলেন বহু আমেরিকাবাসী। কিন্তু, বছর ঘুরলেও সেই ফোনের দেখা না পাওয়ায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট এবং তাঁর দুই পুত্রের বিরুদ্ধে বাড়ছে ক্ষোভ।

২০২৫ সালের জুলাইয়ে সবাইকে চমকে দিয়ে বাজারে নতুন স্মার্টফোন আনার কথা ঘোষণা করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের সংস্থা। এই সংস্থার মাথায় রয়েছেন ট্রাম্পের দুই পুত্র ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়র এবং এরিক ট্রাম্প। সম্পূর্ণ সোনালি রঙের ওই মুঠোবন্দি ডিভাইস হাতে পেতে ১০০ ডলার দিয়ে আগাম অর্ডার করতে বলেন তাঁরা। প্রেসিডেন্ট পরিবারের এই ঘোষণায় আমেরিকা জুড়ে তৈরি হয় তুমুল উন্মাদনা।
সোনালি স্মার্টফোন কিনতে ওই সময় ট্রাম্পভক্তদের অনেকেই ১০০ ডলার দিয়ে গ্রাহক হয়ে যান। প্রেসিডেন্টের পরিবার জানিয়ে দেয়, ২০২৫ সালের অগস্টে বাজারে আসবে সংশ্লিষ্ট মুঠোবন্দি ডিভাইস, যার পোশাকি নাম ‘টি১’। স্মার্টফোনটির বাজারমূল্য হবে ৪৯৯ ডলার।
এই সোনালি স্মার্টফোন নিয়ে আরও একটি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন সংস্থার কর্ণধার তথা ট্রাম্পের দুই পুত্র। সেটা হল, নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে স্মার্টফোনটি বাজারে না এলে অগ্রিম দেওয়া ১০০ ডলার ফিরিয়ে দেওয়ার কথাও বলতে শোনা গিয়েছিল তাঁদের। যদিও বাস্তবে দেখা গিয়েছে ঠিক তার উল্টো ছবি।
২০২৫ সালের অগস্ট তো দূরে থাক, সেপ্টেম্বর কেটে গেলেও সোনালি স্মার্টফোন বাজারে না আসায় ট্রাম্পভক্তদের মনে তৈরি হয় সন্দেহ। পরে এ ব্যাপারে বিবৃতি দেয় প্রেসিডেন্টের পারিবারিক সংস্থা। সেখানে বলা হয়, সরকারি নীতির টালবাহানার কারণে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ডিভাইসটিকে বাজারজাত করা যায়নি। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে সেটি হাতে পাবেন গ্রাহক। ফলে ওই সময় এ ব্যাপারে দানা বাঁধেনি কোনও ক্ষোভ।
কিন্তু, চলতি বছরের প্রথম তিন মাস পেরিয়ে যাওয়ার পরও সোনালি স্মার্টফোনের ব্যাপারে ট্রাম্পের সংস্থা কোনও উচ্চবাচ্য না করায় ধৈর্য হারান গ্রাহকেরা। এক্স হ্যান্ডল (সাবেক টুইটার) এবং টিকটকে শুরু হয় প্রেসিডেন্টের দুই পুত্রের নাম করে গালিগালাজ। পাশাপাশি, ‘কোথায় গেল আমার ট্রাম্প ফোন’ শিরোনামে প্রচার চালাতেও দেখা গিয়েছে তাঁদের। ফলে সংশ্লিষ্ট ইস্যুতে ‘পোটাস’-এর (প্রেসিডেন্ট অফ দ্য ইউনাইটেড স্টেটস) উপর যে চাপ বাড়ছে, তা বলাই বাহুল্য।
যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যমগুলির দাবি, আগামী দিনে ট্রাম্পের স্মার্টফোন আদৌ বাজারে আসবে কি না, তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। আনুমানিক প্রায় ছ’লক্ষ আমেরিকাবাসী সংশ্লিষ্ট ডিভাইসের জন্য ১০০ ডলার জমা করেছিলেন। ফলে প্রেসিডেন্টের দুই ‘সুপুত্র’ সব মিলিয়ে প্রায় ছ’কোটি ডলার বাজার থেকে তুলে নিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক