
সাহসীকা জননী সুফিয়া কামাল : শখ ছিল তাঁর পাইলট হওয়ার। পাইলট হতে পারেননি, হয়েছেন কবি৷ লিখেছেন-
“আমাদের যুগে আমরা যখন খেলেছি পুতুল খেলা
তোমরা এ যুগে সেই বয়সেই লেখাপড়া কর মেলা।
আমরা যখন আকাশের তলে ওড়ায়েছি শুধু ঘুড়ি
তোমরা এখন কলের জাহাজ চালাও গগন জুড়ি।”
পাইলট না হতে পারলেও বাঙালি মুসলিম মেয়েদের মধ্যে প্রথম প্লেনে উঠেছেন তিনি৷ তিনি সুফিয়া কামাল। তিনি আধুনিক বাংলাদেশের নারী প্রগতি আন্দোলনের অন্যতম, একজন কবি, একজন লেখিকা, ধর্মান্ধতা ও অসাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে অকুতোভয় যোদ্ধা।
১৯১১ সালের আজকের এ দিনে বরিশালের শায়েস্তাবাদে জন্মগ্রহণ করেন সুফিয়া কামাল। মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি পীড়িত নারীদের সাহায্য করেন এবং পাকিস্তানি যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের আওতায় আনতে প্রচারণা চালান।
সুফিয়া কামাল ছিলেন একাধারে কবি, নারী আন্দোলনের অগ্রণী নেত্রী এবং ধর্মান্ধতা ও অসাম্প্রদায়িকতা বিরোধী নেত্রী। সুফিয়া কামাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ছাত্রী হলকে ‘রোকেয়া হল’ নামকরণের দাবি জানান। পরে তার নামেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি হল করা হয়।
১৯৯৯ সালের ২০ নভেম্বর ৮৮ বছর বয়সে ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন কবি সুফিয়া কামাল। সাহিত্য ও অন্যান্য ক্ষেত্রে অবদানের জন্য তিনি বিভিন্ন পুরস্কার লাভ করেন। যার মধ্যে রয়েছে- বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার (১৯৬২), লেনিন পদক (১৯৭০, সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে), একুশে পদক (১৯৭৬), জাতীয় কবিতা পরিষদ পুরস্কার (১৯৯৫), রোকেয়া পদক ও দেশবন্ধু সিআর দাশ স্বর্ণপদক (১৯৯৬) এবং স্বাধীনতা পদক (১৯৯৭)।


