সন্ধান২৪.কম ঃ চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে মাদ্রাসাছাত্র ও পুলিশের সংঘর্ষে ৫জন মারা গেছে। শুক্রবার জুমার নামাজের পর এক বিক্ষোভ থেকে থানা ও সরকারি অফিসে মামলা করলে পুলিশের সঙ্গে হাটাহাজারী মাদ্রাসার ছাত্রদের সংঘর্ষ বাধে।
নিহতদের মধ্যে তিনজন মাদরাসাছাত্র এবং বাকি দুইজনের পরিচয় এখনও পাওয়া যায়নি। ৫ জনের মরদেহ চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে রয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরের নেতৃত্বে বিক্ষোভ সমাবেশে পুলিশের বাধা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বাংলাদেশ সফরের প্রতিবাদে শুক্রবার জুমার নামাজের পর বিক্ষোভ মিছিল বের করে চট্টগ্রামের হাটহাজারী মাদ্রাসার ছাত্ররা। তারা হাটহাজারী থানা, ভূমি অফিস, ডাকবাংলোতে হামলা করে।

চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই আলাউদ্দিন তালুকদার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। নিহত তিন মাদরাসাছাত্র হলেন মেরাজুল ইসলাম, রবিউল ইসলাম ও জাহাঙ্গীর আলম। তবে মৃত ২ জনের নাম পরিচয় এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
জানা গেছে, শুক্রবার (২৬ মার্চ) রাজধানীর বায়তুল মোকাররম মসজিদে মুসল্লি ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনার প্রতিবাদে চট্টগামে হাটহাজারীতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন হেফাজতের নেতাকর্মীরা। এ সময় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে বিক্ষোভকারীরা।

হাটহাজারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম বলেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরের প্রতিবাদে হেফাজত অনুসারীরা মিছিল করার চেষ্টা করে। এ সময় পুলিশ বাধা দিলে তারা হাটহাজারী থানায় প্রবেশ করে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। সংঘর্ষ চলাকালে রাস্তায় পুলিশ অবস্থান নিলে হাটহাজারী মাদরাসা থেকে অনুসারীরা অবস্থান নিয়ে ইটপাটকেল ছোড়ে।
হেফাজতে ইসলামের প্রচার সম্পাদক জাকারিয়া নোমান ফয়েজী যুগান্তরকে জানান, জুমার নামাজের পর হেফাজত নেতাকর্মীরা এ বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। বিক্ষোভ মিছিলে পুলিশ কোনো কারণ ছাড়াই হেফাজত নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে ফাঁকা গুলি ছুঁড়ে। পরে পুলিশের সঙ্গে হেফাজত নেতাকর্মীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
উল্লেখ্য, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বাংলাদেশ সফরের প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরের নেতৃত্বে ঢাকার মতিঝিলে বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করা হয়। এ বিক্ষোভ সমাবেশে পুলিশ বাধা দেয়। এ সময় কয়েকজনকে আটক করলেও পরে পুলিশ তাদের ছেড়ে দেয়।


