সন্ধান২৪.কম : হালদা নদীতে মঙ্গলবার রাত ৮টার সময় ড্রেজার ও বাসা জালে আটকা পড়ে এবার মারা গেল বিপন্ন প্রজাতির আরেকটি ডলফিন।
রাউজানের পশ্চিম গুজরা ইউনিয়নের আজিমের ঘাট এলাকায় হালদা নদীর পাশ থেকে রাত ৯টার সময় এ মৃত ডলফিনটি উদ্ধার করে এলাকাবাসী। ডলফিনটি লম্বায় সাড়ে চার ফুট। ওজন ৪০ কেজি। লম্বা ৪৮ ইঞ্চি। এটিকে অর্ধ গলিত উদ্ধার করার পর রাত সাড়ে ৯টার সময় গর্ত করে পুতে ফেলা হয়।
ডলফিনটির দেহে আঘাতের চিহ্ন ও লেজে বাসা জাল পাওয়া যায়। তাই ধারণা করা হচ্ছে নদীতে বাসা জালে আটকার পর হয়তো নদীতে চলাচল করা বালুবাহী নৌযান বা ইঞ্জিনচালিত নৌকার প্রপেলারের (পানির নিচে থাকা ইঞ্জিনের সঙ্গে যুক্ত পাখা) আঘাতে ২/৩ দিন আগে ডলফিনটির মৃত্যু হয়েছে।
হালদায় যে ডলফিন দেখা যায়, তা স্থানীয়ভাবে উতোম বা শুশুক নামে পরিচিত। মিঠাপানির স্তন্যপায়ী এই প্রাণী গেঞ্জেস বা গাঙ্গেয় ডলফিন। সাধারণত দূষণমুক্ত পরিষ্কার পানিতে এটি বিচরণ করে। চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার ছত্তার খালের মুখ থেকে হাটহাজারী উপজেলার মদুনাঘাট পর্যন্ত নদীর প্রায় ১০ কিলোমিটার এলাকা ডলফিনের মূল বিচরণক্ষেত্র। মঙ্গলবার যে জায়গায় ডলফিনটি ভেসে ওঠে তা মদুনাঘাট থেকে ২-৩ কিলোমিটার দুরে। ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর থেকে আজ পর্যন্ত ২৬টি ডলফিন মারা গেছে। এর মধ্যে এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে একটি মারা গিয়েছিল।
ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অব নেচার (আইইউসিএন) ডলফিনের এই প্রজাতিটিকে অতি বিপন্ন (লাল তালিকাভুক্ত) হিসেবে চিহ্নিত করেছে। হালদা নদি দক্ষিণ এশিয়ার একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র ।
হালদা দেশের একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজননক্ষেত্র। সরকার ২০১০ সালে চট্টগ্রামের নাজিরহাট থেকে কালুরঘাট পর্যন্ত নদীর প্রায় ৪০ কিলোমিটার এলাকাকে জলজ প্রাণীর অভয়ারণ্য ঘোষণা করে।


