সন্ধান২৪.কম : মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা সংস্থাটি গত বছর তাদের সংগ্রহে থাকা সবকটি বানর একদিনে হত্যা করেছে। সাম্প্রতিক একটি কাজের জন্য বানর হত্যা করায় ক্ষুব্ধ হয়েছেন প্রাণি অধিকারকর্মীরা। প্রাণি অধিকার কর্মীদের অভিযোগ, প্রাণিগুলোকে এভাবে হত্যা না করে কোনো অভয়ারণ্যে স্থানান্তর করা যেত। নাসার এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছেন তারা।

তথ্য অধিকার আইনের আওতায় প্রকাশিত নথি অনুযায়ী, গত বছরের ২ ফেব্রুয়ারি ক্যালিফোর্নিয়ার সিলিকন ভ্যালিতে নাসার আমস গবেষণা কেন্দ্রে মোট ২৭টি বানরকে বিশেষ ইনজেকশন দিয়ে হত্যা করা হয়। বানরগুলোর বয়স বাড়ছিল এবং এগুলোর মধ্যে ২১টি পার্কিনসন রোগে আক্রান্ত ছিল।
নিউ মেক্সিকো বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণি নৈতিকতা বিশেষজ্ঞ জন গ্লুক বলেন, বানরগুলো এমনিতেই পরীক্ষাগারে অন্তরীণ জীবনযাপন করে। তারা নৈতিকভাবে বঞ্চনার শিকার হয় এবং বিষণ্ণতায় ভোগে। বানরগুলোকে কোনো অভয়ারণ্যে ছেড়ে দেয়ার ব্যাপারে ভাবা হয়নি। প্রাণিগুলোকে অন্তত সেই সুযোগটি দেয়া যেতো। দায়িত্বশীলদের জন্য এটি একটি লজ্জার ঘটনা।
মার্কিন কংগ্রেসের প্রতিনিধি ক্যাথলিন রাইস নাসার প্রশাসক জিম ব্রিডেনস্টাইনের কাছে এই হত্যার ব্যাখ্যা চেয়ে চিঠি দিয়েছেন।

নিউইয়র্কের ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি রাইস বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের গবেষকদের গবেষণায় ব্যবহৃত প্রাণিদের জন্য ‘মানবিক অবসর নীতি’ বিবেচনা করার জন্য তিনি চাপ দিচ্ছেন। তিনি ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যম গার্ডিয়ানকে বলেন, কেন এই প্রাণিগুলোকে সেখানে আটকে রাখা হয়েছিল আর একটি অভয়ারণ্যে ছেড়ে দেয়ার বদলে কেনই বা এভাবে হত্যা করা হলো- সে সম্পর্কে প্রশাসক ব্রিডেনস্টাইনের ব্যাখ্যার অপেক্ষায় রয়েছি।
নাসা বানর বা প্রাইমেট নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই গবেষণা করছে বা নানা গবেষণায় ব্যবহার করছে। হ্যাম নামে একটি শিম্পাঞ্জি ১৯৬১ সালে প্রথম মহাকাশে যাত্রা করার আগে তাকে দৈনিক নিয়ম করে প্রশিক্ষণ দেয়া হতো। সেটি সফলভাবে সেই মিশন সম্পন্ন করে নিরাপদে সমুদ্রে অবতরণ করেছিল।
তবে গত বছর যে বানরগুলো মেরে ফেলা হয়েছে সেগুলোকে কোনো সাহসী মহাকাশ মিশন বা গবেষণার কাজে ব্যবহার করা হয়নি। বরং লাইফসোর্স বায়োমেডিক্যাল নামে একটি ওষুধ গবেষণা সংস্থা নাসার জায়গা ইজারা নিয়ে বানরগুলো রেখেছিল। আর সেগুলোর যত্নআত্তি করতো নাসা ও লাইফসোর্স যৌথভাবে।
এ ব্যাপরে জানতে চাইলে লাইফসোর্স বায়োমেডিক্যালের চিফ এক্সিকিউটিভ স্টেফানি সোলিস বলেন, বেশ কয়েক বছর আগে বানরগুলো ল্যাবরেটরিতে দেয়া হয়েছিল। বয়স এবং ভগ্নস্বাস্থ্যের কারণে সেগুলোর জন্য কোনো অভয়ারণ্য খুঁজে পাওয়া না যাওয়ায় এই ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে ।
সোলিস দাবি করেন, বানরগুলো যখন অ্যামসে ছিল তখন তাদের নিয়ে কোনো গবেষণা করা হয়নি। তাদের ভালো জীবনমানের বিষয়টিও নিশ্চিত করা হয়েছিল।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র সরকার গবেষণার কাজে প্রাইমেটদের ব্যবহার বন্ধ করার একটা উদ্যোগ নিয়েছে। ২০১৫ বায়োমেডিক্যাল স্টাডিতে ব্যবহারের জন্য রাখা সমস্ত শিম্পাঞ্জিকে অবসরে পাঠানোর সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে জাতীয় স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট। বি
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান


