সন্ধান ২৪.কম:ঋণে রেকর্ড গড়ল যুক্তরাষ্ট্র। সবচেয়ে বেশি ঋণ জাপান আর চীনের কাছে ৮ লাখ কোটি ডলার। ৩০ লাখ কোটি ডলার ছাড়িয়েছে দেশটির জাতীয় দেনা। যা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি। মঙ্গলবার প্রকাশিত দেশটির রাজস্ব বিভাগের রিপোর্টে এ তথ্য জানানো হয়েছে। রিপোর্ট মতে, সবচেয়ে বেশি ঋণ জাপান আর চীনের কাছে। যার পরিমাণ ৮ লাখ কোটি ডলার। বিশ্লেষকরা বলছে, বিশাল এই ঋণের পাহাড় মানে মার্কিন জনগণকে আরও বেশি বেশি কর দিতে হবে।
অর্থনীতিতে বিশ্বে আমেরিকার অবস্থান এখনো এক নম্বরে। বিশ্বব্যাংকের তথ্য মতে, ২০২০ সাল পর্যন্ত এর মোট দেশজ উৎপাদ (জিডিপি) প্রায় ২১ লাখ কোটি ডলার ছিল। সেই হিসাবে মোট জিডিপির চেয়ে এর ঋণের পরিমাণ বেশি। মার্কিন রাজস্ব বিভাগের তথ্য জানাচ্ছে, গত বছরের জানুয়ারি থেকে ২০২২ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত এক বছরেই সরকারি ঋণের পরিমাণ বেড়েছে প্রায় ৭ লাখ কোটি ডলার। করোনাপীড়িত অর্থনীতির উদ্ধারে কাগজের মতো টাকা ওড়াচ্ছে সরকার। ২০২১ সালের জানুয়ারি মাসে যুক্তরাষ্ট্রের ঋণের পরিমাণ ছিল প্রায় ২৩ লাখ কোটি ডলার।
এই আকাশছোঁয়া ঋণের একাধিক কারণ দর্শানো হয়েছে। প্রথম কারণ হিসাবে বলা হয়েছে, প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস। বলা হয়েছে, করোনা আবহে চিকিৎসা ক্ষেত্রে ব্যাপক চাপ বেড়েছে। ব্যয়বৃদ্ধি হয়েছে প্রশাসনের। তাছাড়া, এই অতিমারি পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রে বিরাট ব্যবসায়িক ক্ষতি হয়েছে। মার্কিন ট্রেজারি ডিপার্টমেন্টের তথ্য মতে, জাপান ও চীনের নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮ লাখ কোটি ডলার। বিশাল এই অর্থ এক সময় সুদে-আসলে ফেরত দিতে হবে দেশটিকে। মার্কিন আর্থিক প্রতিষ্ঠান জেপি মরগানের প্রধান কৌশলবিদ ডেভিড কেলি বলছেন, চীন ও জাপানের কাছে বিশাল এই ঋণের মানে মার্কিন করদাতাদের আরও বেশি বেশি কর দিতে হবে।
দেশটিতে এত ঋণের বোঝা বাড়ার কারণ হিসাবে বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, ২০০৮ সাল থেকেই ঋণের পরিমাণ ক্রমান্বয়ে বাড়ছিল। তারপর ঋণের বোঝার ওজন বাড়িয়েছে করোনা। তথ্য বলছে, ২০০৭ সালে মন্দা শুরুর সময় যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় ঋণ ছিল ৯ লাখ কোটি ডলারের বেশি। এটি বাড়তে বাড়তে ২০ লাখ কোটি ডলারে দাঁড়ায় ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমলে। এই ঋণের বোঝা বেড়েছে করোনাকালে। আর জো বাইডেনের আমলে সবমিলিয়ে দেনা বেড়ে হয়েছে ৩০ লাখ কোটি ডলারের বেশি। ডেভিড কেলি বলেন, এটি কোনো স্বল্পমেয়াদি সংকট নয়। তবে এর মানে এই যে, আমরা দীর্ঘমেয়াদে আরও দরিদ্র হতে চলেছি।
