সন্ধান২৪.কমঃ দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশের কোনো মাঠেই এত রান (৩৯৫) তাড়া করে জয়ের রেকর্ড নেই। বিগত দিনগুলো ক্রিকেট বিশ্বের কোন দলই তা করে দেখাতে পারেনি। শুধু বাংলাদেশেই কেন? গোটা এশিয়া অঞ্চলেও এত রান তাড়া করে জয়ের কীর্তি আর কারোই নেই। কিন্তু অসাধ্য সাধন করেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
রেকর্ড জয়ে স্বাগতিক বাংলাদেশের বিপক্ষে ৩৯৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করে দুই ম্যাচ সিরিজের প্রথম টেস্ট নিজেদের করে নিয়েছে। বাংলাদেশের দলপতি মুমিনুল হক যা ঘুণাক্ষরেও ভাবতে পারেননি। পরিসংখ্যান বলছে দ্বিতীয় ইনিংসে জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে আজ অবধি সর্বোচ্চ রান তাড়ার রেকর্ড আছে ৩১৭। ২০০৮ সালে সফরাকারি নিউজিল্যান্ড বাংলাদেশের বিপক্ষে এই রান তাড়া করে জয়ের বন্দরে নোঙর ফেলেছিল। এর আগে ২০০৬ সালে ফতুল্লার খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়ামে সফরকারি অস্ট্রেলিয়া ৩০৭ রান তাড়া করে জিতেছিল। মানে বাংলাদেশের মাঠে তিনশর্ধ্বো রান তাড়া করে জয়েরর রেকর্ড এই দুটোই ছিল। কাজেই সাগরিকায় উইন্ডিজদের এমন জয়ে বিস্মিত টাইগার দলপতি।

রোববার সিরিজের প্রথম টেস্ট শেষে তিনি একথা জানান। মোমিনুল বলেন, ‘দ্বিতীয় ইনিংসে ৩৯৫ রান চেজ করা সম্ভব চিন্তাও করিনি। অবিশ্বাস্য কিন্তু ক্রিকেট খেলায় অবিশ্বাস্য অনেক কিছুই হয়ে যায়। আশাও করিনি এরকম কিছু একটা হবে। আমার কাছে মনে হয় বোলররা ভালো জায়গায়, ভালো এরিয়ায় বল করতে পারেনি। সেই সঙ্গে আমার কাছে মনে হয় ওদের দুই ব্যাটসম্যান খুব ভালো ব্যাটিং করেছে।’
ক্যারিবিয়দের বিপক্ষে পঞ্চম ইনিংসের পুরোদিনই বাংলাদেশের বোলিং ছিল অধারাবাহিক। বলে টার্ন ছিল দারুণ, বাউন্সারও সময় সময় ছিল অসমান। কিন্তু অতিথিদের চাপে ফেলার মতো বোলিং উপহার দিতে পারেননি কেউ। মেহেদি মিরাজ, তাইজুল ইসলাম, নাঈম হাসান কিংবা মোস্তাফিজুর রহমান। কেউই এক জায়গায় বল ফেলে সিমন্স শিষ্যদের কঠিন সময় উপহার দিতে পারেননি! কেন এমন হলো? সাংবাদিকদের করা এমন প্রশ্নে মোমিনুলদের উত্তর ছিল, ‘অনেকদিন পর টেস্ট খেলেছি তাই হয়তো। নির্ধারিত কোনো কারণ নেই।’
এদিকে বাঁ-পায়ে উঁরুর চোটে পড়ে উইন্ডিজদের বিপক্ষে আর মাঠে নামা হয়নি সাকিব আল হাসানের। পুরো তিনটি দিন দেশ সেরা এই অলরাউন্ডারের কেটেছে ড্রেসিংরুম ও ডাগ আউটে। ক্যারিবিয়দের কাছে ম্যাচটি হারের পর বাংলাদেশ দলপতি মোমিনুল হক বললেন পুরো ম্যাচেই তিনি সাকিবকে মিস করেছেন। সাকিব না থাকায় টিম বাংলাদেশ দুর্ভাগা ছিল উল্লেখ করে টাইগার টেস্ট দলপতি বলেন, ‘হ্যাঁ, বলতে পারেন। সাকিব ভাই থাকলে বোলিং অনেক গোছানো হত। যেহেতু সিনিয়র বোলার, সিনিয়র ব্যাটসম্যান, সবাইকে আগলে রাখতে পারত। উনি না থাকায় মিস করেছি, বিশেষ করে বোলিংয়ে। অধিনায়ক হিসেবে উনার সঙ্গে ম্যাচ খেলিনি। এই প্রথম সুযোগ ছিল। আগে খেললে হয়তো ওভাবে অনুভব করতাম। সাকিব ভাই না থাকাতেও স্পিনাররা ভালো করেছে। তাইজুল, নাঈম, মিরাজ ভালো করেছে। যে বোলিং অ্যাটাক ছিল ওরা একটু ভালো লেংথে বল করলে… ওরা ম্যাচ জেতানোর যোগ্য। আমরা একটু দুর্ভাগা ছিলাম, ভালো জায়গায় বল করতে পারিনি।’
প্রসঙ্গত, কাইল মেয়ার্সের অপরাজিত ২১০ ও এনক্রুমা বোনারের ৮৬ রানে ভর করে চট্টগ্রাম টেস্টে বাংলাদেশের দেওয়া ৩৯৫ রানের দুর্ভেদ্য লক্ষ্যও ছুঁয়ে ফেলেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এই জয়ে দুই ম্যাচ সিরজে ১-০ তে এগিয়ে গেল অতিথিরা।