সন্ধান২৪.কমঃ দীর্ঘ ৫৬ বছর পর ঢাকা-চিলাহাটি-হলদিবাড়ী-শিলিগুড়ি যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল পুনরায় চালু হচ্ছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫০ বছরপূর্তি উপলক্ষে আগামী ২৬ মার্চ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঢাকা সফরের সময় বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ট্রেনের নতুন এই আন্তঃদেশীয় রুট চালু হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদি যৌথভাবে এই ট্রেন সার্ভিসের উদ্বোধন করবেন। ভারতের পক্ষ থেকে এই ট্রেনটি নাম বঙ্গবন্ধু এক্সপ্রেস প্রস্তাব করা হয়েছিল। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর নামে কোন কিছু করতে হলে বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল ট্রাস্টের অনুমতির প্রয়োজন হয়। তাই নতুন ট্রেনের নামকরণের জন্য বঙ্গ, সম্প্রীতি ও বন্ধু এক্সপ্রেসেসহ কয়েকটি নামের প্রস্তাব দেয়া হয়েছে বলে রেলওয়ে সূত্র জানায়।

এ বিষয়ে রেলমন্ত্রী মো. নূরুল ইসলাম সুজন সংবাদকে বলেন, ‘বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে রেল যোগাযোগ লক্ষ্যে দুই দেশের মধ্যে ব্রিটিশ আমলের তৈরি রেলপথগুলো সংস্কার করে চালু পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। গত বছর ১৭ ডিসেম্বর চিলাহাটি-হলদিবাড়ী রেলপথটি সংস্কার চালু করা হয়েছে। এই রেলপথেই ঢাকা-চিলাহাটি-হলদিবাড়ী-শিলিগুড়ি রুটে যাত্রীবাহী ট্রেন চালু করা হবে। ২৬ মার্চ দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী যৌথভাবে এই ট্রেন সার্ভিসটি উদ্বোধনের কথা রয়েছে। তবে করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে বন্ধন ও মৈত্রী ট্রেন চলাচল শুরু হলেই এই ট্রেন সার্ভিস চালু করা হবে। ভারতের পক্ষ থেকে বঙ্গবন্ধু এক্সপ্রেসের নামকরণের প্রস্তাব দেয়া হয়েছিল। তবে দুই দেশের মধ্যে চলাচল করা অন্য ট্রেনের নামের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে আরও কিছু নামের প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তা চূড়ান্ত করবেন।
জানা গেছে, ১৯৬৫ সালের আগে দার্জিলিং মেইল শিয়ালদহ থেকে ছেড়ে রানাঘাট, ভেড়ামারা, হার্ডিঞ্জ ব্রিজ, সান্তাহার, হিলি, পার্বতীপুর, নীলফামারী, চিলাহাটি, ভারতের হলদিবাড়ী (জলপাইগুড়ি) ও শিলিগুড়ি রুটে চলাচল করত। সেভাবেই এই পথে ফের দু’দেশের মধ্যে এই ট্রেন সার্ভিস চালু করা হবে। প্রাথমিকভাবে সপ্তাহে দুইদিন ট্রেন চলাচলের বিষয়ে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ভারতের কাছে প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। ভাড়া ও অন্য বিষয়ে সিদ্ধান্তের জন্য আগামী ৪ মার্চ দেশের রেলওয়ে কর্মকর্তাদের বৈঠকে চূড়ান্ত করা হবে বলে রেলওয়ে সূত্রে জানায়।
জানা গেছে, ব্রিটিশ শাসনামলে ৭টি স্থান দিয়ে বর্তমান বাংলাদেশ ও ভারতের বিভিন্ন স্থানে সরাসরি যাত্রী ও পণ্যবাহী ট্রেন চলাচল করত। এগুলো হলো- বাংলাদেশের দর্শনা ও ভারতের গেদে, বাংলাদেশের বেনাপোল থেকে ভারতের পেট্রাপোল, বাংলাদেশের রোহানপুর থেকে ভারতের সিংগাবাদ, বাংলাদেশের বিরল থেকে ভারতের রাধিকাপুর, বাংলাদেশের শাহবাজপুর থেকে ভারতের মহিশ্মশান, বাংলাদেশের চিলাহাটি থেকে ভারতের হলদিবাড়ী ও বাংলাদেশের বুড়িমারি থেকে ভারতের চেঙ্গাবান্দা পর্যন্ত। এসব রেলরুটের বেশিরভাগেই ১৯৬৫ সালের পাকিস্তান-ভারত যুদ্ধের সময় এ ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে ৫টি রুটে পন্য ও যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল করছে। এর দর্শনা-গেদে ও বেনাপোল-পেট্রাপোল দিয়ে যাত্রীবাহী ট্রেন এবং রোহানপুর-সিংগাবাদ, বিরল-রাধিকাপুর ও চিলাহাটি-হলদিবাড়ী পণ্যবাহী ট্রেন চলাচল করছে বলে রেলওয়ে সূত্র জানায়।