আগামী ৫ জুন রবিবার আমেরিকা প্রবাসী বৃহত্তর সিলেটবাসীদের সামাজিক সংগঠন জালালাবাদ এসোসিয়েশন অব আমেরিকা‘র নির্বাচন হতে যাচ্ছে।
সংগঠনটির নির্বাচনের দিনক্ষণ যতই এগিয়ে আসছে, প্রচার ততই তুঙ্গে উঠছে। সেই সাথে বিভিন্ন পদে প্রতিদ্ব›িদ্ব প্রার্থীরা ভোটারদের কাছে নানা রকম প্রতিশ্রæতি দিচ্ছেন। নির্বাচনে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক প্রার্থীদের প্রতিশ্রæতির কথা তুলে ধরা হলোঃ
বদরুল খান
আমি গত দুইবার জালালাবাদ এসোসিয়েশন অব আমেরিকার সভাপতি হিসেবে জালালাবাদবাসীর সেবা করার সুযোগ পেয়েছি। এবার নির্বাচনে সভাপতি পদপ্রার্থী হওয়ার একমাত্র লক্ষ্য হলো জালালাবাদবাসী দীর্ঘ দিনের স্বপ্ন পুরণ করা। আর সেটি হচ্ছে সংগঠনের একটি স্থায়ী ভবন করা। আমি নির্বাচিত হলে আগামী ১০০ দিনের মধ্যে নিউইয়র্কের পাঁচটি বরোর যে কোন একটিতে ভবন করবো। তবে যে বরোতে সংগঠনের বেশী সদস্য আছেন,সেখানেই ভবন ক্রয় করার প্রাধান্য বেশী দেয়া হবে। আমি আরও কিছু উদ্দেশ্য নিয়ে এবার নির্বাচনে অংশ নিয়েছি। তবে এবার আমার একমাত্র এবং একটি উদ্দেশ্য হলো জালালাবাদ এসোসিয়েশনের একটি আশ্রয়স্থলের ঠিকানা নিশ্চিত করা।
বদরুল-ময়নুল পরিষদের সভাপতি পদপ্রার্থী বদরুল খান আজকালের প্রতিনিধিকে বলেন,এর আগে বহুবার সংগঠনের পক্ষ থেকে নিউইয়র্কে একটি ভবন কেনার উদ্যোগ নেয়া হলেও, নানা রকম সীমাদ্ধতার কারণে তা সম্ভব হয়ে উঠে নাই। তাই এবার নিখুঁত পরিকল্পনা করেই নির্বাচনী মাঠে নেমেছি। জালালাবাদ এসোসিয়েশনের সম্মানিত ভোটাররা আমাকে নির্বাচিত করলে, আমি তাদেরকে একশত ভাগ নিশ্চয়তা দিতে পারি একশত দিনের মধ্যে একটি ভবন হবেই হবে।
মাসুদুল হক ছানু
জালালাবাদ এসোসিয়েশন অব আমেরিকা‘র সম্মানিত ভোটারবৃন্দ যদি আমাকে নির্বাচিত করেন,তবে প্রথমেই সংগঠনের সাধারণ সভা আহŸান করে সর্বসম্মতিক্রমে ১০০ দিনের মধ্যে সংগঠনের ভবন কেনার সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। এটাই আমার প্রথম এজেন্ডা। কারণ জালালাবাদবাসী এটি দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা ও স্বপ্ন। তিনি স্বতন্ত্র সভাপতি পদপ্রার্থী ছানু আজকালের প্রতিনিধিকে বলেন, সংগঠনের একাউন্টে যে পরিমান অর্থ আছে, তা দিয়েই ডাউন প্রেমেন্ট দিয়ে ভবন কেনা সম্ভব।
আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছতার জন্য বর্তমান কমিটির কাছ থেকে হিসেব সাধারণ সভায় উপস্থাপন করবো। সংগঠনের বার্ষিক ট্যাক্স হাল নাগাদ করবো।
আমাকে ভোটে আমাকে বিজয়ী করলে সংগঠনের পুরোনো নথিপত্র,দলিলসহ পুরোনো ইতিহাস সংরক্ষণ করবো। সেই সাথে আরও বেশী করে কবরস্থান ক্রয় করবো। কবরস্থানের জন্য আলাদা ব্যাংক একাউন্ট চালু করবো।
সব শেষে সংগঠনকে নন-প্রফিট করার জন্য যে প্রক্রিয়া ২০১৩ শুরু হয়েছিল, তা সমাপ্ত করবো।
ময়নুল ইসলাম
জালালাবাদ এসোসিয়েশন অব আমেরিকা‘র নির্বাচনে বিজয়ী হলে কি কি করবেন ? এমন প্রশ্নের উত্তরে আজকালের প্রতিনিধিকে বদরুল-ময়নুল পরিষদের সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী ময়নুল ইসলাম বলেন,জালালাবাদ এসোসিয়েশন আজকের নয়। এর বয়স আটত্রিশ বছর হয়েছে। এর মোট সদস্য এখন এগারো হাজারেরও বেশি। কিন্তু এত পুরনো একটি সংগঠনের কোনো নিজস্ব ভবন নেই। এটি থাকার কথা ছিল এবং উচিতও ছিল। তো যে কারণেই হোক নিজস্ব ভবন হয় নি। আমি ইতিমধ্যেই ঘোষণা করেছি, সম্মানিত ভোটাররা যদি আমাকে নির্বাচিত করেন, তাহলে জালালাবাদ এসোসিয়েশনের নিজস্ব ভবন আমি করে দেব। এবং সেটা নির্বাচিত হওয়ার একশ’ দিনের মধ্যেই কাজটি করব। এটি আমার প্রধান এবং নির্বাচনী প্রতিশ্রæতি।
জালালাবাদ এসোসিয়েশনের ওই ভবনটি নিউ ইয়র্কের চার ডিস্ট্রিক্টের সকল সংগঠন ব্যবহার করতে পারবে আর এজন্যে তাঁদেরকে কোনো মূল্য বা ভাড়া পরিশোধ করতে হবে না। এটি আমরা সম্পূর্ণ ফ্রিতে ব্যবহার করতে দেব।
এছাড়াও আমি চাই, জালালাবাদ এসোসিয়েশনে তরুণ যারা তারাও এগিয়ে আসুক। আমার এই চাওয়াটি কমিউনিটির স্বার্থেই। নিউ ইয়র্কে বাংলাদেশের একটি প্রজন্ম বেড়ে উঠছে। তারা বড় হচ্ছে ভিন্ন এক সমাজে ভিন্ন রকম সমাজ ব্যবস্থায়। তাদেরকে যদি আমরা আমাদের সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত করি তাহলে তারাও আমাদের সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হয়ে উঠল। একই সঙ্গে এদেশে তাদের যা অর্জন তা থেকেও সংগঠন অনেক কিছু পাবে বলে আমার মনে হয়।
সাইকুল ইসলাম
জালালাবাদ এসোসিয়েশন অব আমেরিকা‘র নির্বাচনে স্বতন্ত্র ভাবে সাধারণ সম্পাদক পদে প্রতিদ্ব›িদ্বতা করছেন সাইকুল ইসলাম।
এই পদে বিজয়ী হলে সংগঠনের জন্য কি কি করবেন ? সাপ্তাহিক আজকালের এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, আমি নির্বাচিত হলে প্রথমেই জালালাবাদবাসীকে নিয়ে সাধারণ সভা করে এবং সাবেক কর্মকর্তাদের নিয়ে ১০০ দিনের ভবন ক্রয় করার ব্যবস্থা করবো। এটি হবে আমার প্রথম কাজ। এই লক্ষ্য নিয়েই আমি নির্বাচনে নেমেছি।
জালালাবাদবাসীদের জন্য ফিউনারেল হোম এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের জন্য একটি শ্মশান করারও পরিকল্পনা আছে। এছাড়াও বিগত কমিটির আয়-ব্যয়ের হিসেব অডিট করে সংগঠনকে স্বচ্ছতার মধ্যে আনতে হবে। সংগঠনকে জবাবদিহিতার আওতায় আনার জন্য সবার সাথে পরামর্শ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবো।
এ ছাড়াও এই সংগঠনকে বাংলাদেশের বাহিরে সবচেয়ে গুরত্বপূর্ণ একটি আঞ্চলিক সংগঠন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করবো। সংগঠনের সদস্য সংখ্যা আরও বৃৃদ্ধি করে সংগঠনকে গতিশীল ও কার্যকর করে তুলবো।


