নিউইর্য়কে বর্ণিল আয়োজনে উদযাপন হতে যাচ্ছে চাঁদ রাত
নিউইর্য়কে বর্ণিল আয়োজনে উদযাপন হতে যাচ্ছে চাঁদ রাত। চাঁদ রাতকে আকর্ষনীয় এবং স্মরণীয় করেতে ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। আলোকসজ্জা,আতশবাজি এবং বাহারী দোকান-পাটের সমাহারে চাঁদ রাতকে বরণ করে নিতে সবাই অপেক্ষার প্রহর গুনছে।
চাঁদ দেখার উপর নির্ভর করে আসছে ১ এপ্রিল রোববার অথবা ২ এপ্রিল সোমবার পবিত্র ঈদুল ফিতর। তার আগের দিন চাঁদ রাত।
নিউইয়র্ক শহরের জ্যাকসন হাইটস, জ্যামাইকা, ব্রঙ্কস,ব্রæকলিনে চাঁদরাত উপযাপন করতে বিকেল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ‘চাঁদমেলা’র আয়োজন করা হয়েছে।
এই মেলাগুলোতে মূলতঃ হাতে মেহেদী রাঙানো, ফ্যাশন করাসহ শেষ কেটাকাটা চলবে। চলবে আনন্দ-আড্ডা। তার সাতে গান-বাজনা,আনন্দ,হৈ-হুল্লোড়ে মেতে উঠবে সবাই।
এই প্রথম বার অন্যতম সামাজিক সংগঠন “জ্যাকসন হাইটস এলাকাবাসী’র আয়োজনে ৭৩ ষ্ট্রীটে চাঁদ রাত উদযাপন করা হচ্ছে। ৩৭ এভিনিউ এবং ব্রডওয়ের মাঝে এই ‘চাঁদ রাত’ আনন্দ উৎসব রাত ৮টা থেকে রাত ১টা পর্যন্ত চলবে।
সংগঠরের সভাপতি শাকিল মিয়া, সাধারণ সম্পাদক জেড আলম নমি,আহŸায়ক দেওয়ান মনির, সদস্য সচিব মিয়া মোঃ দুলাল ও প্রধান সমন্বয়কারী সারওয়ার খান বাবু জানান, এবার এই আয়োজন প্রথম হলেও ব্যাপক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। আশা করছি শত শত মানুষ এই চাঁদরাত উৎসবে যোগ দেবে।
এছাড়াও জ্যাকসন হাইটসের ৭৪ ষ্ট্রীট ডাইভারসিটি প্লাজায় বসবে চাঁদরাতের জমজমাট আসর।
নিউইয়র্ক শহরের অন্যতম বাংলাদেশী অধ্যুষিত এলাকা হিসেবে সুপরিচিত ব্রঙ্কসের স্ট্রালিং বাংলাবাজারে ও পার্কচেস্টার বসবে চাঁদ রাতের মেলা।
প্রতি বছরের মত এ বছরও ব্রঙ্কস সম্মিলিত কমিনিটির উদ্যোগে স্ট্রালিং বাংলাবাজারে চাঁদ রাতের মেলা অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন আয়োজকদের অন্যতম সদস্য খলিল চাইনিজ বিরিয়ানির কর্নধার মোঃ খলিলুর রহমান। মেলায় থাকবে বিভিন্ন ধরনের ফ্রি স্টল,মেহেদী উৎসব ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সকল প্রবাসী বাংলাদেশীরা এ চাঁদ রাতের উৎসবে অংশগ্রহণ করার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন আয়োজক কতৃপক্ষ।
ব্রঙ্কস থেকে শেখ শফিকুর রহমান জানান,এখানে গড়ে উঠেছে বাংলাদেশীদের মালিকানায় বহু দোকান। ইউনিয়নপোর্ট রোড থেকে স্ট্রালিং রোডের নামাকরন হয়েছে বাংলাবাজার যা এখন মিনি বাংলাদেশে পরিনত হয়েছে। বাংলাবাজারে রয়েছে আল আকসা,নিরব,প্রিমিয়াম,পসরা,ইত্যাদি,খলিল বিরিয়ানি,নিশাত ফ্যাশন,প্রতিদিন ফ্যাশন, ড্রাবল ডিসকাউন্ট,এশিয়ান ড্রাইভিং স্কুল,স্টালিং ফার্মেসি,তানিয়া বিউটি সেলুন,বাংলাবাজার জামে মসজিদ,সোনালী ব্যাংক এক্সচেঞ্জ সহ অসংখ্য প্রতিষ্ঠান।
জ্যামাইকার হিলসাইডের ১৬৭ থেকে ১৬৮ ষ্ট্রীটে চাঁদ রাতের আসর বসে। এখানেও বিকেল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত হাতে মেহেদী রাঙানো, চুলে ফ্যাশন করানোসহ বেঁচা-কেনা, আনন্দ-উৎসব চলে।
ব্রæকলিনের চার্চ-ম্যাকডোনাল্টে বিশাল জায়গা জুড়ে চলে চাঁদনী রাতের বর্ণিল উৎসব। ছোট ছোট দোকানীরা ফুটপাত দখল ঈদের নানা বসে। সেই সাথে সমান তালে চলে আঁতসবাজী পোড়ানো,গান-বাজনা,আনন্দ-উৎসব।
