মুক্তিযোদ্ধা সি. আর. দত্তের মৃত্যুতে হিন্দু বৌদ্ধ ক্রিস্টান ঐক্য পরিষদ যুক্তরাষ্ট্র শাখার শোক

সন্ধান ডেস্ক : বীর মুক্তিযোদ্ধা  মেজর জেনারেল (অব:)   সি. আর. দত্তের মৃত্যুতে হিন্দু বৌদ্ধ ক্রিস্টান ঐক্য পরিষদ যুক্তরাষ্ট্র শাখা গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছ। 

সংগঠনের  তিন সভাপতি  নবেন্দু দত্ত, ড: টমাস দুলু রায় ও  রনবীর বড়ুয়া এবং  সাধারণ সম্পাদক  দ্বিজেন ভট্টাচার্য্য স্বাক্ষরিত এক শোকবার্তায় বলা হয়, ‘মুক্তিযুদ্ধে ৪নং সেক্টররের কমান্ডার, বাংলাদেশ রাইফেলস-এর প্রতিষ্ঠাতা মহাপরিচালক, মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট ও সড়ক পরিবহন সংস্থার সাবেক চেয়ারম্যান, ধর্মীয় বৈষম্যবিরোধী মানবধিকার সংগঠন হিন্দু বৌদ্ধ ক্রিস্টান ঐক্য পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা  মেজর জেনারেল (অব:)    সি. আর. দত্ত আমাদের মাঝে আর নেই –গতকাল ২৪শে আগস্ট রাত ১১:১৫ মিনিটে ফ্লোরিডার বেথেসডা হাসপাতালে বার্ধক্য জনিত কারণে, ৯৩ বছর বয়সে তিনি শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করেন।   মৃত্যুকালে তিনি তিন কন্যা ও এক পুত্র সহ অনেক আত্মীয়-স্বজন ও গুনগ্রাহী রেখে যান।  এই মহান মানুষটির প্রয়াণে যুক্তরাষ্ট্র ঐক্য পরিষদের সদস্যবৃন্দ গভীরভাবে শোকাহত।  আমরা তাঁর বিদেহী আত্মার চির-শান্তি কামনা করি, আর সেই সঙ্গে তাঁর  শোক-সন্তপ্ত সন্তান ও অন্যান্য সকল অত্মীয়-স্বজনদের প্রতি আমাদের আন্তরিক সমবেদনা ও সহমর্মিতা জানাই।   

জেনারেল চিত্ত রঞ্জন দত্ত জন্মেছিলেন হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট থানার অন্তর্গত মিরাশি গ্রামের এক জমিদার পরিবারে।  উল্লেখ্য, তাঁর শ্বশুর অনিল কুমার রায় ছিলেন দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশের একান্ত সচিব।   সি. আর. দত্তের  প্রাথমিক শিক্ষা শিলঙে, মাধ্যমিক শিক্ষার প্রথমটা কলকাতার আশুতোষ কলেজ, আর তারপর খুলনায় — দৌলতপুর বি. এল. কলেজ থেকে তিনি আই. এস. সি. এবং বি. এস. সি ডিগ্রী লাভ করেন। ভাল ফূটবল খেলতেন – মোহন বাগান ক্লাবেও খেলার সুযোগ পেয়েছিলন। ১৯৫১ সালে তিনি পাকিস্তান সেনাবাহিনিতে কমিশনড্ অফিসার হিসেবে যোগদান করেন।  ১৯৬৫ সালের পাক-ভারত যুদ্ধের সময় তিনি কুমিল্লায় পোস্টেড্ একজন ক্যাপ্টেন ও কোম্পানি কমান্ডার হিসেবে ভারতের বিরুদ্ধে একটি যুদ্ধে বিজয়ের গৌরব অর্জন করেন। এর কিছুদিন পর, আইয়ুব খান তাঁর উপস্থিতিতে হিন্দুদের বিরুদ্ধে  বিষোদগার করলে তিনি ওঠে দাঁড়িয়ে দৃঢ়তার সঙ্গে এর প্রতিবাদ করেছিলেন।  

মুক্তিযুদ্ধের মূলমন্ত্র অসাম্প্রদায়িকতা ও সকল ধর্ম ও আদিবাসী জাতি গোষ্ঠীর মানুষের সমতায় দৃঢ় বিশ্বাসী এই অকুতোভয় মুক্তিযোদ্ধার জীব্নের ব্রত ছিল বাংলাদেশকে একটি প্রগতিশীল, উদার গণতান্ত্রিক, অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা।  

 ১৯৮৮ সালে অষ্টম সংশোধনীর মাধ্যমে ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম ঘোষণা পূর্বক দেশকে একটি  সামপ্রদায়িক দেশে পরিণত করার প্রতিবাদে গঠিত বাংলাদেশে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান  এক্য পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব গ্রহন করে  জেনারেল দত্ত অত্যন্ত স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেন, ”বাংলাদেশকে ধর্মীয় রাষ্ট্রে পরিণকরার জন্য  আমরা মুক্তিযুদ্ধ করিনি।”  তা”ছাড়া সেক্টর কমান্ডার্স ফরামে যোগ দিয়েও তিনি মুক্তিযুদ্ধের শক্তির পক্ষে দাঁড়ান।

তাঁর মৃত্যুতে  জাতি এক সূর্য সন্তানকে হারালো, অসাম্প্রদায়িক, প্রগতিশীল শক্তি  ও নিপিড়ীত সংখ্যালঘুরা এক সাহসী  অভিভাবক হারালো। জাতির জন্য এই ক্ষতি অপূরণীয়।

তাঁর মৃত্যুতে বাংলাদেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায় তথা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী দেশের সকল প্রগতিশীল মানুষ একজন অভিভাবককে হারালো। এই ক্ষতি নি:সন্দেহে অপূরণীয়। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি ।

 

Exit mobile version