কুমিল্লায় হঠাৎ বিস্ফোরণ ,বোমা তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার

সন্ধান২৪.কম :  রবিবার দিবাগত রাত সাড়ে ৮টায় কুমিল্লার দেবীদ্বারে  ফেলে যাওয়া কার্টুন থেকে ৩টি বোমা মধ্যে পর পর ২টি বিস্ফোরণ ঘটেছে, ওই ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

 দেবীদ্বার উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের বিহারমন্ডল বাজারের পল্লী চিকিৎসক সত্যরঞ্জন নাহার বন্ধ ফার্মেসীর সামনে।বিহারমন্ডল বাজারের পাশের বাড়ির নেপাল চন্দ্র দত্ত জানান, রাত ৮টা ২০ মিনিটের দিকে আমি আমার ঘরে খাবার খাচ্ছিলাম, এসময় একটি বোমার মতো বিকট শব্দ পেয়ে দ্রুত ঘর থেকে বেরিয়ে বাজারের দিকে আসছিলাম, বাজারে ঢোকার পরই আরো একটি বিস্ফোরণ হলে আমি দৌড়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করি, কিছুক্ষণ পর আরো লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে বিস্ফোরণস্থলে যাই, দূর থেকে দেখি একটি ছোট কার্টুন পড়ে আছে, তার পাশে আরো একটি বোমা সাদৃশ্য কালো কসটেপ পরিবেষ্টিত মাঝারি সাইজের অবিস্ফোরিত বস্তুটি ইলেক্ট্রিক তার জড়ানো দেখি, তখন আমরা আর সামনে এগিয়ে যাইনি। পরে পুলিশকে খবর দেই, পুলিশ এসে বিস্ফোরিত পুরো এলাকাটি লাল ফিতা দিয়ে ঘিরে রাখেন। স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে কুমিল্লা ও ঢাকার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। রাত পৌনে ৩টায় কুমিল্লা এবং ঢাকা থেকে একটি বোমা নিষ্ক্রিয় দল আসেন।


 রাত পৌনে ৩টার দিকে ঢাকা থেকে একটি বোমা নিষ্ক্রিয় দল এসে পর্যবেক্ষণ করে এবং পরে পরিত্যক্ত বোমা সাদৃশ্য বস্তুটি উদ্ধারসহ বিস্ফোরিত বোমা সাদৃশ্য বস্তুটির ধাতবদ্রব্যসহ বিভিন্ন সামগ্রী আলামত হিসেবে সংগ্রহ করেন। 

সোমবার সকাল সোয়া ৯টায় ঢাকা পুলিশের হেড কোয়াটার থেকে এডিশনাল এসপি মো. নূরে আলম ও এ্যান্টি টেরিরিজমের এএসপি মো. সালাহউদ্দিনের নেতৃত্বে একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন, পর্যবেক্ষণ ও তদন্ত করেন। এ সময় বিহারমন্ডল বাজারের বিস্ফোরিত ঘটনাস্থলের পল্লী চিকিৎসক সত্যরঞ্জন নাহা’র বক্তব্য গ্রহণসহ স্থানীয়দের সঙ্গেও কথা বলেন।

সোমবার সকালে ওই এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পুরো এলাকাটি সংখ্যালঘু হিন্দু অধ্যুষিত হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে চাপা আতঙ্ক ও ক্ষোভ বিরাজ করতে দেখা যায়। কারা, কি কারণে বা কি উদ্দেশ্যে এসব বস্তু এখানে ফেলে গেছে? এসব বিষয়েও তারা আতঙ্কিত। এ ব্যাপারে কেউ মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না। তবে গত রাত থেকে সোমবার সন্ধ্যা পৌনে ৭টা পর্যন্ত ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন আছে বলেও স্থানীয়রা জানান।

স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি নাম না প্রকাশের শর্তে বোমা নিষ্ক্রিয় দলের আলাপ আলোচনার বরাত দিয়ে জানান, বোমা সাদৃশ্য অবিস্ফোরিত বস্তুটির বিস্ফোরণ হলে অগ্নিকাণ্ডসহ বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা ছিল। এসব বোমা দেশীয় সরঞ্জাম যেমন মিনি গ্যাস সিলিন্ডার, বারুদ, পেট্রোলের সমন্বয়ে তৈরি হয়, ঠিক সেরকমই ছিল।

দেবীদ্বার-ব্রাহ্মণপাড়া সার্কেল এএসপি আরিুল ইসলামের সঙ্গে সোমবার সন্ধ্যায় ওই ঘটনার সর্বশেষ পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাইলে, তিনি জানান, বিষয়টি এখনো তদন্তাধীন। ঢাকা থেকে আসা বিস্ফোরক নিয়ন্ত্রণকারী দল, পিবিআই ও পুলিশের হেড কোয়াটার থেকে আসা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও আলামত সংগ্রহ করে নিয়ে গেছেন।

 

Exit mobile version