সন্ধান২৪.কমঃ সমালোচনার মুখে এক চিঠিতে শেষ পর্যন্ত অ্যালোপ্যাথি নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য প্রত্যাহার করলেন রামদেব। রামদেবকে ওই মন্তব্য প্রত্যাহার করতে বলেন ধর্মভিত্তির রাজনৈতিক দল বিজেপির কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী হর্ষ বর্ধন ।
রামদেব এর আগেও বিভিন্ন উটকো মন্তব্য করে বিতর্কিত হয়েছেন। নারীদেরকে তিনি বহুবার অসম্মানিতে করে কথা বলেছেন। যার জন্য তার ইমেজও বেশ ক্ষুন্ন হয়েছে।
রামদেব সম্প্রতি এক ভিডিয়োতে বলেছিলেন, ‘‘চিকিৎসা বা অক্সিজেন না পেয়ে যত মানুষ মারা গিয়েছেন তার চেয়ে অনেক বেশি মানুষ মারা গিয়েছেন অ্যালোপ্যাথিক ওষুধ খেয়ে। অ্যালোপ্যাথি এক দেউলিয়া হয়ে যাওয়া বিজ্ঞান।’’ করোনা অতিমারির মধ্যে এই ভিডিয়ো সামনে আসায় প্রবল সমালোচনা শুরু হয়। রামদেবকে আইনি নোটিস পাঠায় ইন্ডিয়ান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন। পরে রামদেবের পতঞ্জলি সংস্থার তরফে এক ব্যাখ্যায় বলা হয়, রামদেব ওই অনুষ্ঠানে একটি হোয়াটসঅ্যাপ বার্তা পড়ছিলেন। ভিডিয়োটি এডিট করে প্রসঙ্গ বাদ দিয়ে তাঁর মন্তব্যকে তুলে ধরা হয়েছে।
রামদেবকে লেখা চিঠিতে হর্ষ বর্ধন বলেছেন, ‘চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা দেশবাসীর কাছে ঈশ্বরের মতো। তাঁরা প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়ছেন।’’ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, ‘‘আমার আশা আপনি ওই মন্তব্য পুরোপুরি প্রত্যাহার করবেন।’’
এর পরেই টুইটারে রামদেব হর্ষ বর্ধনকে উদ্দেশ করে লেখেন, ‘‘আপনার চিঠি পেয়েছি। সেই চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে ও বিভিন্ন চিকিৎসা পদ্ধতি নিয়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে তা শেষ করতে আমি আমার মন্তব্য প্রত্যাহার করছি।’’
এর ড.আম্বেদকর মিশনের সদস্যরা দলিতদের উদ্যেশে রামদেবের অপমান জনক মন্তব্যের জেরে এবার গ্রেফতারির দাবিতে বিক্ষোভ করছে।গতকাল ওই মিশনের সদস্যরা যোগ গুরু রামদেবের কুশপুতুল পুড়িয়েছে।রামদেবের বিরুধ্যে অভিযোগ তিনি আম্বেদকর মিশনের সভাপতিকে একটি চিঠিতে ‘ইন্টেলেকচুয়াল টেরোরিস্ট’ বলে উল্লেখ করেছেন। আর এতেই রেগে গিয়েছেন ওই সংগঠনের সদস্যরা।
এছাড়া ‘পতঞ্জলি পরিধান’। এই নামেই ভারতের দিল্লিতে সম্প্রতি আত্মপ্রকাশ করল ভারতীয় যোগগুরু বাবা রামদেবের পরিধেয় বস্ত্রের প্রতিষ্ঠান। সূচনাতেই শিরোনামে রামদেব বাবার দেশি সংস্কারী পোশাক সংস্থা।
রীতিমতো ঢাক ঢোল পিটিয়ে ‘সস্তা’য় বস্ত্র বিক্রয় করতে বাজারে নেমেছে ভারতীয় যোগগুরু রামদেবের সংস্থা। সব বয়সীদের জন্যে একই ছাদের তলায় রামদেবের এই প্রতিষ্ঠান তিনটি ব্র্যণ্ডের জামাকাপড়ের আয়োজন করেছে। আস্থা, লিভফিট ও সংস্কার- এই তিনটি ব্র্যাণ্ডের তিন হাজার পোশাক আপাতত পাওয়া যাচ্ছে বলে দাবি এই সংস্থার।
গোল বেধেছে এই সংস্থার সংস্কারী ব্র্যান্ডটিকে নিয়ে। দেখা যাচ্ছে, ছেঁড়া জিনস বিক্রি করছে সংস্থাটি। ‘স্বদেশি’র নাম করে প্রচার করে ছেঁড়া জিনস বিক্রি কতটা যৌক্তিক, প্রশ্ন উঠছে।


