বরিস বেকার, তরুণ প্রজন্মের কাছে নামটি অপরিচিত মনে হলেও এক সময়ের কোর্ট কাঁপানো টেনিস খেলোয়াড় তিনি। ৫৪ বছর বয়সী টেনিস গ্রেট খবরের শিরোনাম হয়েছেন নেতিবাচক কারণে। মিথ্যা দেউলিয়া ঘোষণার দায়ে আড়াই বছরের হাজতবাসের শাস্তি পেয়েছেন বেকার।
ঋণ পরিশোধ না করে ২০১৭ সালে নিজেকে দেউলিয়া ঘোষণা করেন বরিস বেকার। পরে তার বিরুদ্ধে সম্পত্তি গোপন করার অভিযোগ ওঠে। দেউলিয়া ঘোষণা মিথ্যা প্রমাণিত হলে শুক্রবার লন্ডনের সাউথার্ক ক্রাউন আদালত তাকে শাস্তি প্রদান করে।
ইংলিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ছয়বারের গ্ল্যান্ড স্ল্যামজয়ী বরিস বেকার এপ্রিলের শুরুতে বৃটিশ দেউলিয়া আইনে মোট ৪টি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। ২৫ লাখ পাউন্ড মূল্যের (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২৭ কোটি টাকা) সম্পত্তি গোপন করেছিলেন তিনি।
স্পেনের মায়োর্কায় বিলাসবহুল এস্টেটের ওপর ৩০ লাখ পাউন্ড ঋণ নিয়েছিলেন বেকার। কিন্তু পরে তা পরিশোধ করতে অক্ষমতা প্রকাশ করেন তিনি। যদিও নিজেকে দেউলিয়া ঘোষণার পর সাবেক দুই স্ত্রী বারবারা ও লিলিসহ মোট ৯ জনের অ্যাকাউন্টে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাঠিয়েছেন তিনি। এমনকি বিভিন্ন অনলাইন সংস্থা থেকে দামি পণ্য কেনার প্রমাণও মিলেছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়াও একটি সংস্থার ৭৫ হাজার শেয়ার রয়েছে তার যা তিনি গোপন করেছেন
জার্মানিতেও নিজের সম্পত্তি লুকিয়েছেন বেকার। একটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানে ৮ লাখ ২৫ হাজার পাউন্ড ইউরো দেনাও গোপন করেছেন তিনি। এছাড়া দুটি উইম্বলডন ট্রফি এবং কিছু পদকের কথাও লুকিয়েছেন বেকার। আদালতকে তখন তিনি জানিয়েছিলেন, ট্রফি ও পদকগুলো কোথায় আছে, সেটি তিনি জানেন না।
আদালতের জুরিদের বরিস বেকার জানান, প্রথম স্ত্রী বারবারা বেকারের সঙ্গে বিচ্ছেদের কারণে ক্যারিয়ারের তার আয় করা প্রায় ৫ কোটি ডলার ধরে রাখতে পারেননি তিনি।
অর্থ কেলেঙ্কারিতে এবারই প্রথম জড়াননি বরিস বেকার। এর আগে ২০০২ সালে জার্মানিতে কর ফাঁকির অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন তিনি। সাউথার্র্ক ক্রাউন আদালতের বিচারক ডেবরা টেইলর সেই ঘটনার জের টেনে বলেন, ‘আগে যে সতর্কবার্তা দেয়া হয়েছিল সেটা আমলে নেননি বেকার। অপরাধ স্বীকার বা নিজের কৃতকর্মের জন্য কোনো অনুশোচনা দেখা যায়নি তার মধ্যে।’
৫৪ বছর বয়সী বেকারকে তার সাজার অর্ধেক সময় কারাগারে থাকতে হবে। বাকি সময় জামিনে থাকতে পারবেন।
১৯৮৫ সালে মাত্র ১৭ বছর বয়সে ক্যারিয়ারে প্রথম উইম্বলডন শিরোপা জিতেছিলেন বেকার। টেনিসের ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সে এবং প্রথম অবাছাই খেলোয়াড় হিসেবে পুরুষ এককের শিরোপা জিতেছিলেন তিনি।
তিনটি উইম্বলডন ছাড়াও তিনি দুবার অস্ট্রেলিয়ান ওপেন ও একবার ইউএস ওপেনের এককে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলেন। ১৯৯৯ সালে টেনিসকে বিদায় বলেন ছয়টি গ্র্যান্ড স্লামের মালিক বরিস বেকার।


