বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ সংগঠন জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৮ সদস্যের আংশিক কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। কমিটিতে সুলতান সালাহউদ্দিন টুকুকে সভাপতি ও মোনায়েম মুন্নাকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়।
শুক্রবার বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে নতুন এ কমিটি ঘোষণা করা হয়। কমিটির বাকি সদস্যরা হলেন- সিনিয়র সহ-সভাপতি-মামুন হাসান, সহ-সভাপতি-নুরুল ইসলাম নয়ন, ১নং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম মিল্টন, ২নং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গোলাম মওলা শাহীন, সাংগঠনিক সম্পাদক-ইসাহাক সরকার ও দফতর সম্পাদক-কামরুজ্জামান দুলাল (সহ-সভাপতির পদমর্যাদায়)। এদিকে নতুন কমিটি নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন সংগঠনটির একাংশ। তারা ত্যাগী ও যোগ্যদের মূল্যায়ন না করার অভিযোগ করেছেন।
ঘোষিত কমিটির সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু গত কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও মোনায়েম মুন্নাসহ সভাপতি ছিলেন। এছাড়া মামুন হাসান গত কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক, নুরুল ইসলাম নয়ন সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক, যুগ্ম সম্পাদক পদ মর্যাদায় দপ্তরের দায়িত্বে ছিলেন কামরুজ্জামান দুলাল। ইসহাক সরকার ছাত্রদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক।
নতুন সভাপতি সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু ও সাধারণ সম্পাদক মোনায়েম মুন্না অভিন্ন স্বরে বলেন, দেশের এই ক্রান্তি লগ্নে তাদের ওপর যে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তা জীবন দিয়ে হলেও পালন করবেন। দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনার যে আন্দোলন চলছে তাকে চূড়ান্ত রূপ দেওয়া হবে।
২০১৭ সালের ১৭ জানুয়ারি সাইফুল আলম নিরবকে সভাপতি ও সুলতান সালাউদ্দিন টুকুকে সাধারণ সম্পাদক করে পাঁচ সদস্যের আংশিক কমিটি গঠন হয়েছিল। ওই কমিটির মেয়াদ শেষে ২০২০ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি ১১৪ সদস্যের আংশিক কমিটি ঘোষণা হয়েছিল, পরে আর পূর্ণাঙ্গ হয়নি।
হতাশ ও ক্ষুব্ধ একাংশ : সংগঠনটির নেতাকর্মীরা জানান, গত ১০ মে যুবদলের নতুন কমিটির বিষয়ে সংগঠনের কেন্দ্রীয় ৫১ জন নেতার মতামত নেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। কিন্তু নতুন কমিটিতে সেই মতামতের কোনো প্রতিফলন ঘটেনি। ত্যাগী ও যোগ্যদের প্রত্যাশা অনুযায়ী রাখা হয়নি।
যে কারণে সংগঠনের একটি অংশ হতাশ ও ক্ষুব্ধ। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আট সদস্যের নতুন কমিটির তিনজন নেতা প্রত্যাশিত পদ পাননি। যারা রাজনীতিতে সব সময় সক্রিয় ছিলেন এবং তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে রয়েছে শতাধিক মামলা। এদের মধ্যে সাধারণ সম্পাদকের পদ প্রত্যাশী ছিলেন মামুন হাসান।
তাকে কমিটিতে সিনিয়র সহ সভাপতি করা হয়েছে। দক্ষ সংগঠক হিসাবে পরিচিত এ নেতা বিগত ২০১৪ ও ২০১৫ সালের আন্দোলনে ব্যাপক নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন। এমনকি তার পুরো পরিবারকে ওই সময়ে নির্যাতনের শিকার হতে হয়। ক্লিন ইমেজের অধিকারী আরেক সহসভাপতি নুরুল ইসলাম নয়নের সারাদেশে হাজারো অনুসারী আর পরিচিতি রয়েছে। দুই নাম্বার সহ সভাপতি পদে পদায়ন করে তাকে অপমান করা হয়েছে বলে তার অনুসারীরা মনে করছেন। এছাড়াও প্রথম যুগ্ম সম্পাদক পদে গোলাম মওলা শাহীনকে না রাখায় তার অনুসারীরা হতাশা প্রকাশ করেছেন।
এদিকে নতুন সভাপতি সুলতান সালাহউদ্দিন টুকুর সারাদেশে পরিচিতি, গ্রহণযোগ্যতা এবং সাংগঠনিক দক্ষতা রয়েছে বলে মনে করেন সংগঠনটির নেতারা। তিন শতাধিক মামলাসহ হামলা, জেল-জুলুমের শিকার এ নেতার পুরো পরিবারের ত্যাগ রয়েছে বিএনপির রাজনীতিতে।
সাধারণ সম্পাদক মোনায়েম মুন্না তৃণমূল থেকে উঠে আসা নেতা হলেও সারা দেশের নেতাকর্মীদের কাছে তেমন পরিচিত নন। আর সাংগঠনিক সম্পাদক ইসহাক সরকারের বিরুদ্ধে তিন শতাধিক মামলা রয়েছে। এছাড়াও বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের মধ্যে তিনিই একমাত্র নেতা যে সবচেয়ে বেশিদিন কারাগারে ছিলেন। আর আগের কমিটির দপ্তর সম্পাদক কামরুজ্জামান দুলালকে এবারও একই পদে রাখা হয়েছে।
শুধু পদমর্যাদা বাড়ানো হয়েছে। তিনি আলাল-নীরব কমিটিরও দপ্তরের দায়িত্বে ছিলেন।
আরও জানা গেছে, সদ্য সাবেক হওয়া সভাপতি সাইফুল আলম নিরবের অনুসারী হিসাবে পরিচিত বড় অংশকে ঘোষিত নতুন কমিটিতে ‘মাইনাস’ করা হয়েছে। আবার সংগঠনের শীর্ষ পদ প্রত্যাশী ও প্রভাবশালী নেতা এসএম জাহাঙ্গীরকে কমিটিতে না রাখায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেকে। জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধেও শতাধিক মামলা রয়েছে।
এছাড়াও শীর্ষ পদ প্রত্যাশী ছিলেন ছাত্রদলের একাধিক সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। তারাও পদ না পেয়ে হতাশ হয়েছেন। তবে নতুন কমিটি নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি ক্ষুব্ধ নেতারা। সাইফুল আলম আলম নীরব এবং এসএম জাহাঙ্গীর নতুন কমিটির সফলতা কামনা করে দলের হাইকমান্ডের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন।
সংগঠনের সিনিয়র সহ সভাপতি মামুন হাসান বলেন, বিএনপির অভিভাবক তারেক রহমান যে আমানত তাদের উপর অর্পন করেছেন, অক্ষরে অক্ষরে তা রক্তে দিয়ে হলেও পালন করবেন। একই কথা বলেছেন সহসভাপতি নুরুল ইসলাম নয়নও।


