সন্ধান২৪.কমঃ সোনার বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় নিয়ে, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে সরকারী ও বেসরকারী ভাবে যথাযোগ্য মর্যাদায় ঐতিহাসিক ৭ মার্চ উদযাপন করা হয়েছে।
ওয়াশিংটন ডিসিতে বাংলাদেশ দূতাবাস ঃ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের মাধ্যমে (মঙ্গলবার) ওয়াশিংটন ডিসিতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসে যথাযোগ্য মর্যাদায় ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ পালিত হয়েছে।

সকালে যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ ইমরান কর্তৃক দূতাবাস প্রাঙ্গণে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে দূতাবাসের দিনের কর্মসূচি শুরু হয়। এ সময় মিশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
পরে দূতাবাসের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে রাষ্ট্রদূত দূতাবাসের বঙ্গবন্ধু কর্নারে অবস্থিত জাতির পিতার আবক্ষ মূর্তিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে তার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান।
দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বাণী পাঠ করে শোনান মিনিস্টার (পলিটিক্যাল-১) ও দূতালয় প্রধান দেওয়ান আলী আশরাফ এবং কাউন্সেলর (পলিটিক্যাল-৩) শামীমা ইয়াসমিন স্মৃতি। পরে ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণের উপর একটি ভিডিও চিত্র প্রদর্শন করা হয়। দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে পরে বঙ্গবন্ধু অডিটোরিয়ামে এক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। বঙ্গবন্ধুর বিদেহী আত্মার মাগফেরাত এবং দেশের অব্যাহত শান্তি, সমৃদ্ধি ও অগ্রগতি কামনা করে এক বিশেষ মোনাজাতের মাধ্যমে দিনের কর্মসূচি শেষ হয়। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন ফার্স্ট সেক্রেটারি মোঃ আতাউর রহমান।

জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন ঃ ৭ মার্চ জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনের বঙ্গবন্ধু মিলনায়তনে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণের দিনটিকে যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপন করা হয়।
জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানটির সূচনা করা হয়। এরপর বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পন করা হয়। বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবারের সদস্যসহ মহান মুক্তিযুদ্ধেও ত্রিশলাখ শহীদ-এর রুহের মাগফিরাত ও বিশেষ মোনাজাত করাহয় ।এরপর রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বাণীপাঠ এবং ৭ মার্চের ভাষণের ভিডিও প্রদর্শন করা হয়।
আলোচনা পর্বে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের উপ-স্থায়ী প্রতিনধি ও চ্যার্জদ্য অ্যাফেয়ার্স ড. মো: মনোয়ার হোসেন।
যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগঃ গত বুধবার জ্যাকসন হাইটসের নবান্ন রেষ্টুরেন্টে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের উদ্যোগে মহান ৭ মার্চ পালিত হলো।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা।

সংগঠনের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদিকা আইরিন পারভিনের সঞ্চালনায় ক্তব্য রাখেন দলের সহ সভাপতি মাহবুবুর রহমান ও শামসুদ্দিন আজাদ, সহ-সাধারণ সমপাদক মাহবুবর রহমান টুকু,সাংগঠনিক সম্পাদক মহিউদ্দিন দেওয়ান ও আবুল হাসিব মামুন,প্রচার সম্পাদক হাজি এনাম,কৃষি বিষয়ক সম্পাদক সোলায়মান আলী, শাহীন আজমল,এমদাদুর রহমান,অহিদুজ্জামান লিটন, হুমায়ুন কবির, শেখ আতিক, আরিফুর রহমান, হুমায়ুন চৌধুরী, রফিকুর রহমান,কবি সালেহা ইসলাম,মাসুদ সিরাজী, মিজানুর রহমান চৌধুরী প্রমূখ।
প্রধান অতিথির ভাষণে ফজিলাতুন নেসা বলেন, ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ভাষণের হাত ধরেই আজকের এই স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ। বঙ্গবন্ধুর ভাষণ যেমন সাড়ে ৭ কোটি মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করেছিল, তেমনি এখনো বাঙালী জাতিকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ৭১’র পরাজিত শক্তির ধ্বংসাত্মক অপচেষ্টাকে পরাজিত করতে হবে ।
নিউইয়র্ক বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল ঃ নিউইয়র্ক বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল যথাযথ মর্যাদায় ’ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ ২০২৩’ উদযাপন করে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা করেন কনসাল জেনারেলসহ কনস্যুলেটের অন্যান্য সদস্যবৃন্দ। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ ১৯৭১ ও ১৯৭৫ এর সকল শহিদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
দিবসটিতে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী’র বাণী পাঠ করা হয়। অনুষ্ঠানে ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণের ভিডিও প্রদর্শন করা হয়। এরপর দিবসটির গুরুত্ব ও তাৎপর্যের উপর উন্মুক্ত আলোচনা করা হয়। কনসাল জেনারেল ড. মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম তাঁর বক্তব্যে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে ৭ই মার্চের ভাষণের উপর আলোচনা করেন।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ তাঁর পরিবারের সকল শহিদ সদস্য, ১৯৭১ সালের সকল শহিদ ও জাতীয় চার নেতার আত্মার মাগফিরাত এবং দেশের অব্যাহত শান্তি, সমৃদ্ধি ও অগ্রগতি কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের পরিসমাপ্তি ঘটে।


