সন্ধান২৪.কমঃ যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডি সি ‘তে বিশ্ব ব্যাংকের সামনে, আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে সকাল ও দুপুরে দুইদফায় তুমুল হ্ট্টগোল-মারামারি, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে । এতে ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ ৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। এছাড়াও উভয় দলের ৫ জন আহত হয়েছেন। এদিকে এই ঘটনার ভিডিও সোস্যাল মিডিয়ায় প্রচার হওয়ায় মানুষের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

আজ ১ মে সোমবার সকাল পৌনে ৮টার দিকে ঘটে যাওয়া অপ্রীতিকর ঘটনার ভিডিও সোসাল মিডিয়ায় তোলপাড় সৃষ্টি করেছে । সংঘর্ষে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি আহত হয়েছেন ।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ওয়াশিংটন ডিসিতে বাংলাদেশ ও বিশ্বব্যাংকের মধ্যে ৫০ বছরের অংশীদারত্ব উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে বক্তব্য দিচ্ছিলেন । এই সময় বিশ্বব্যাংকের সদরদপ্তরের সামনে আওয়ামীলীগ ও বিএনপির সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামীলীগের সভাপতিসহ উভয় দলের ৫ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে । এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ওয়াশিংটন ডিসি পুলিশ উভয় দলের ৩ সমর্থকে গ্রেপ্তার করেন । পরে দুইদলের নেতাদের হস্তক্ষেপে তাদেরকে ছেড়ে দেওয়া হয় ।

উভয় দলের পুর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ শেখ হাসিনাকে স্বাগত জানিয়ে বিশ্বব্যাংকের সামনে জয়বাংলা সমাবেশের আয়োজন করে। অপর দিকে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি ও তাদের অঙ্গসংগঠনসমূহ ‘যেখানেই হাসিনা,সেখানেই প্রতিরোধ’ কর্মসূচী ঘোষনা করে আওয়ামী লীগের সামনে মুখোমুখি অবস্থান নেন।
ভিডিওতে দেখা যায়,একই সময়ে একই স্থানে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বি আওয়ামী লীগ-বিএনপি উত্তেজনামূলক শ্লোগান দিতে থাকে । এক পর্যায়ে উভয় দলের সমর্থকরা মারমূখী হয়ে পড়েন । এতে উভয়ের মধ্যে ব্যানার নিয়ে টানা-হ্যাচড়াসহ সংঘর্ষ শুরু হয়। শুরু হয় চিল্লাচিল্লি ও মারামারি। এসময় ভিডিওতে দেখা যায় পুলিশ হলুদ গেঞ্জী পড়া একজনকে গ্রেপ্তার করছে। এবং মাটিতে বসে আছেন ড. সিদ্দিকুর রহমান। এরমধ্যে একজন চিৎকার করে বলছেন,‘মারামারি শুরু হয়ে গেছে।” আর একজনকে বলতে শোনা যাচ্ছে ‘সিদ্দিকুর রহমান আহত হয়েছ । ” যদিও ওয়েবপত্রিকা সন্ধান‘র পক্ষ থেকে এই ভিডিও যাচাই করা হয় নাই।

এক পর্যায়ে কিলঘুষির পর্যায়ে পৌঁছালে পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। এ ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান ও তার স্ত্রী আ.লীগের সদস্য শাহানারা রহমান, খোরশেদ খন্দকার ও আলী গজনবী আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়। অপর দিকে বিএনপি নেতা মোশারফ হোসেন সবুজ আহত হয় বলের দলের নেতৃবৃন্দরা জানিয়েছে।


এ ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামীলীগের সভাপতি পুলিশে অভিযোগ দায়ের করেছেন বলে তিনি জানান। আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বলা হয়, বিএনপির সন্ত্রাসীরা সিদ্দিকুর রহমানের উপর চড়াও হয় । এতে তিনি আহত হয়ে মাটিতে পড়ে যান। আওয়ামী লীগের এই অভিযোগকে সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়, এটি আওয়ামী লীগের সাজানো নাটক।
সকালের এ ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করা না হলের ১০ টার দিলে উভয় দলের সমর্থকদের মাঝে পানির বোতল ছোঁড়াছুঁড়ির ঘটনা ঘটলে পুলিশ আওয়ামী ছাত্রলীগের হৃদয় মিয়া ও আরিফুর রহমান এবং বিএনপির জাতীয়তাবাদী ফোরামের আজাদ মিয়াকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায়। পরে উভয় দলের নেতারদের হস্তক্ষেপে তাদেরকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

এদিকে এই ঘটনার ভিডিও সোস্যাল মিডিয়ায় প্রচার হওয়ায় মানুষের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। এতে বাংলাদেশের ইমেজ ক্ষুন্ন হচ্ছে বলে অনেকেই মন্তব্য করেছেন।
এ ঘটনায় এম মাসুম রহমান লিখেছেন ‘বাংলাদেশ মনে করে কেন আপনারা সেখানে গেলেন?? সব জায়গায় সবকিছু হয়না জানেন না? আপনারা না গেলে তো এই বেইজ্জতি হাছিল হতোনা!!”
আজিমুল হক খাঁন বলেছেন, ‘চমৎকার ব্যায়াম হলো আজকে, দেখতেই ভালো লাগছে।”
কাইয়ুম শিকদার মন্তব্য করেছেন, ‘নীজে পড়ে যেতে পারে, হয়বা প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষনের করা জন্য।’
শেখ হেলাল লিখেছেন, বিএনপির শো-ডাউন হয়ে গেল।
আর একজন কবি মন্তব্য করেছেন, বিদেশের মাটিতে এই দুইদলের রাজনীতি নিষিদ্ধ করা দরকার।


