সন্ধান২৪.কম : অমর্ত্য সেনকে শান্তিনিকেতনে বাড়ি থেকে উচ্ছেদের চেষ্টার প্রতিবাদে বিজেপি ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ে বিরুদ্ধে কড়া ভাষায় তোপ দাগলেন রবীন্দ্র ভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ড. পবিত্র সরকার।
গত ১২ মে সন্ধায় নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসের জুইস সেন্টারে ‘গণমানুষের বরীন্দ্রনাথ’ শীর্ষক এক আলোচনা অনুষ্ঠানে পবিত্র সরকার তীব্র ভাষায় এই আক্রমণ করেন।
রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য পবিত্র সরকার বলেন, অমর্ত্য সেন সজ্ঞানে কোনো অন্যায় করেননি। তার বাবা একটা জমি লিজ নিয়েছিলেন, সেখানে কিছু ভ‚ল-ত্রæটি হতেই পারে। এ ব্যাপারে পশ্চিমবঙ্গ সরকার ও ভূমি সংস্কার দপ্তর শেষ কথা বলবে। কিন্তু বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ বা তার উপাচার্য কেন এত সক্রিয়ভাবে অমর্ত্য সেনকে উচ্ছেদের নোটিশ দিলেন? এর মধ্যে অবশ্যই বিজেপির রাজনৈতিক প্রতিহিংসা আছে ।

প্রগতীশীল লেখক পবিত্র সরকার বলেন,অর্থনীতিতে নোবেল স্মারক পুরস্কার বিজয়ী একজন বাঙালি অর্থনীতিবিদ ও দার্শনিক অমর্ত্য সেন। বীরভূমে বোলপুওে বিশ্বভারতীতে অমর্ত্য সেনের বাড়ি প্রতীচী। সেখানে সেন পরিবারের বাস বহু দশকের। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জীবদ্দশাতে সেখানে থাকতেন নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদের পূর্বপুরুষরা। পবিত্র সরকার বলেন, অমর্ত্য সেন বরাবরই বিজেপি সরকারের সমালোচক। বিশ্বভারতীর জমি সংক্রান্ত তৎপরতাকে অনেকে তার সঙ্গে জুড়ে দেখছেন। অমর্র্ত্য সেনের ভাবমূর্তিকে ধংস করতে বিজেপি সরকার পরিকল্পিত ভাবে এই ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছে।
ভাষা বিজ্ঞানী পবিত্র সরকার তার বক্তব্যে আরও বলেন,আমি বিশ্বভারতীর উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তীর সাথে টেলিফোনে কথা বলেছি। টেলিফোনে উপাচার্য বলেন, অমর্ত্য সেনকে শান্তিনিকেতনের বাড়ি থেকে উচ্ছেদের ব্যাপারে বিজেপি সরকারের পক্ষ থেকে নির্দেশ ও চাপ এসেছে। আমার কোন ভ‚মিকা নেই।
পবিত্র সরকার তখন উপাচার্যকে তিরস্কার করে টেলিফোনে প্রশ্ন করে জানতে চান, অমর্ত্য সেনকে বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করে,আপনারা কি মনে করেন বিজেপি পশ্চীমবঙ্গের মানুষের ভোট পাবেন ? বাঙালিরা বিজেপিকে সহজ ভাবে গ্রহন করবে ? আপনি কেন মেরুদন্ড সোজা করে নিরপেক্ষ থাকছেন না ?
পবিত্র সরকার বলেন,নরেন্দ্র মোদীর গুজরাটের সাধারণ মানুষ রবীন্দ্রনাথকে খুব ভালোবাসে প্রিয়,তাদের কাছে প্রিয়। কিন্ত বিজেপি ও নরেন্দ্র মোদীরা রাজনৈতিক স্বার্থে রবীন্দ্রনাথকে ব্যবহার করে অমর্ত্য সেনকে উচ্ছেদ করার হীন ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছে। এটা ভারতীয় গণতন্ত্রের পক্ষে লজ্জার। পশ্চীমবঙ্গের বাঙালির কাছে অপমানের।
বিজেপির এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্যই বর্তমান উপাচার্য ও বিশ্বভারতী এই জঘন্য কাজে নেমেছে, তাতে কোনও সন্দেহ নেই। জমি একটা অজুহাত। উপাচার্য জনসমক্ষে যেটা করছেন সেটা আমাদের খারাপ লাগছে,তিনি বিজেপির মুখপাত্র হিসেবে মাঠে নেমেছেন যা দু:খজনক -ক্ষোভ ও আক্ষেপের সুরে বলেন পবিত্র সরকার।
মৌলবাদ ও সাম্প্রদায়িক বিজেপির এমন ঘৃন্য ষড়যন্ত্রেও জবাব দিতে শুরু করেছে কর্ণাটকের মানুষরা। সেখানে বিধান সভার নির্বাচনে সেখানকার মানুষ বিজেপিকে প্রত্যাখান করতে চলেছে। তারা নির্বাচনে হারতে চলেছে,বলেন পবিত্র সরকার।
পবিত্র সরকার আরও বলেন,অবশ্য পশ্চীমবঙ্গ সরকার,তৃণমূলের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিদের্শে, অমর্ত্য সেনের বাড়ির সামনে গড়ে উঠছে ধরনা মঞ্চ। যদিও মমতা বন্দ্যোপাধায় রাজ্যের সর্বনাশ ডেকে আনছেন। তার দু:শাসনে পশ্চীমবঙ্গের অর্থনীতি ধংস হয়েছে।
প্রসঙ্গত : সম্প্রতি বাংলার বিবেক, ভারতের বিবেক, গোটা বিশ্বের বিবেক নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেনকে তাঁর শান্তিনকেতনের বাড়ি প্রতীচীর ১৩ ডেসিমল জমি খালি করার নির্দেশ দেয় বিশ্বভারতী। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে জমি খালি না করলে, তাঁকে উচ্ছেদ করা হবে জানিয়ে কর্তৃপক্ষের তরফে নোটিসও দেওয়া হয়।


